জেনে নিন বিশ্বজুড়ে কিছু ভৌতিক হোটেল সম্পর্কে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : জেনে নিন বিশ্বজুড়ে কিছু ভৌতিক হোটেল সম্পর্কে



ভূতের আস্তানা পৃথিবীর যেসব হোটেলগুলোতে - ভৌতিক হোটেল

স্টুয়ার্ট ক্যাসেল। ছবি : সংগৃহীত


 ভ্রমণপিয়াসু পর্যটকদের ভ্রমণের খেয়ালে প্রায়ই থাকতে হয় হোটেলে। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে ও প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে পর্যটকদের কাছে একটি ভালো হোটেলের প্রত্যাশা থাকে সবসময়ই। কিন্তু হোটেলে থাকতে গিয়েই যদি হয়ে যায় আরেক এডভেঞ্চার? যদি হয়ে যায় ভূতের সাথে দেখা! ভূতে বিশ্বাস করেন না? কিন্তু বিশ্বের এই হোটেলগুলোতে বহুবার পাওয়া গেছে ভূতের অস্তিত্বের প্রমাণ। বিশ্বের এসব ভৌতিক হোটেলগুলোর ভূতুড়ে গল্প আজ আপনাদের জানানো হবে।

স্ট্যানলি হোটেল 

স্টিফেন কিং এর 'দ্যা শাইনিং' উপন্যাসটি পড়েছেন? উপন্যাসটি কিন্তু এই ভৌতিক হোটেলকে কেন্দ্র করেই। স্টিফেন কিং রাত্রিযাপনের জন্য তার স্ত্রীকে নিয়ে একদিন হাজির হয় এই হোটেলে। টুরিস্ট সিজন প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় হোটেলে অতিথিও ছিল খুব কম। হোটেলের ২১৭ নং রুমে থাকা অবস্থায় লেখক অদ্ভুত সব আওয়াজ, চিৎকার আর পায়ের শব্দ শুনতে পান।


ভূতের আস্তানা পৃথিবীর যেসব হোটেলগুলোতে

রুম নং ২১৭, স্ট্যানলি হোটেল। ছবি : সংগৃহীত


 সারারাত জেগে থেকে ভোরে ঘুমাবার সময়ও তিনি খুবই বাজে দুঃস্বপ্ন দেখেন, আর এসবের মধ্যে দিয়েই জন্ম নেয় দ্যা শাইনিং উপন্যাসটি। কথিত আছে, মালিকের স্ত্রীর ভূত নাকি হেটে বেড়ায় পুরো হোটেলে। তাছাড়া মালিকের আত্মাও নাকি দেখা যায় বলরুমে, যেখানে তিনি আত্মহত্যা করেন।

স্কিরিড মাউন্টেইন 

ওয়েলসের ক্রুকর্ণি গ্রামে অবস্থিত এই ভৌতিক হোটেল-টি প্রায় ৯০০ বছরের পুরনো। এটি আগে ছিল মদের দোকান। ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে পরে এটিকে হোটেলে রূপান্তর করা হয়। আর হোটেলের নিচের রুমটি ব্যবহার করা হতো কোটরুম হিসেবে। তবে, বিচারের ক্ষেত্রে কোর্টটি ছিল খুব নির্দয়। সামান্য ভেড়া চুরির অপরাধ ছিল মৃত্যুদণ্ড। জানা যায়, এখানে প্রায় ১৮০ জন বিদ্রোহীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। আজও কড়িকাঠে ফাঁসির দড়ির চিহ্ন দেখা যায়।


ভূতের আস্তানা পৃথিবীর যেসব হোটেলগুলোতে

ছবি : সংগৃহীত


হোটেলে থাকতে আসা অনেকেই তাদের ভৌতিক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। গভীর রাতে আচমকা হোটেলের বিভিন্ন কড়িকাঠে ফাঁসিতে ঝুলতে থাকা মানুষের লাশ অনেকেই দেখেছেন! অনেকে বলেন, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ অনুভূতি হয়—কেউ যেন অদৃশ্য দড়ি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরেছে।

স্টুয়ার্ট ক্যাসেল 

স্কটল্যান্ডের এই ভুতুড়ে হোটেলটি এখন খালি পড়ে আছে এর ভৌতিক কুখ্যাতির জন্যে। ১৫৬১ সালে জেমস স্টুয়ার্ট এই হোটেলটি নির্মাণ করে। তৈরির কিছুদিন পর থেকেই হোটেলটিতে বিভিন্ন অশরীরী আত্মার উপস্থিতি টের পাওয়া যেতে থাকে।




স্টুয়ার্ট ক্যাসেল, স্কটল্যান্ড। ছবি : ফ্লিকার


 ভৌতিক অবস্থায় পড়ে হোটেলটির সমালোচনা ছড়িয়ে পড়লে তিনি ঘোষণা করেন যেই হোটেলে এক রাত কাটাতে পারবে তাকে তিনি পুরস্কৃত করবেন। প্রস্তাবে কেউ তেমন সাড়া না দিলেও এক ধর্মযাজক সাহসে ভড় করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। কিন্তু পর দিনই তার মরদেহ পাওয়া যায়। তারপর থেকে হোটেলটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

হলিউড রুজভেল্ট হোটেল 

১৯২৭ এর লস এঞ্জেলেসকে সবার কাছে পরিচিত করাতো যেন এই হোটেলটিই। হোটেলের জৌলুস, সৌন্দর্য আপনাকে মোহাচ্ছন্ন করবেই। তবে এই মোহ হয়তো আপনার কেটে যাবে যখন হানতে পারবেন হোটেলটি আসলে ভুতের আবাস।


ভূতের আস্তানা পৃথিবীর যেসব হোটেলগুলোতে

ছবি : সংগৃহীত


[/caption] মার্কিন অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর অশরীরী আত্মার উপস্থিতি নাকি টের পাওয়া যায় হোটেলটিতে। হোটেলটির ২২৯ নাম্বার রুমে নাকি আজো তাকে দেখা যায়। শোনা যায়, গভীর রাতে রুমটির আয়নায় নাকি তিনি আজো দেখা দেন। মেরিলিন মনরোর ভক্তরা চাইলে একবার পরখ করে দেখতেই পারেন।  

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম