বৈশ্বিক ভ্রমণকারী হতে হলে
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: ভ্রমণ টিপস : বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের পূর্বে জেনে নিন কিছু আদব কায়দা

প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যুরিজমগুলোতে জায়গা নির্বাচন, পরিবেশ নিয়ে নানা সময় অভিযোগ আসছে, চাপ বাড়ছে ভ্রমণ করতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে। যতই সমস্যা তৈরি হোক, তাই বলে কি ভ্রমণকারীরা চুপচাপ বসে থাকবেন? মোটেও নয়! নিয়মিত ভ্রমণ করতে হলে, বিশ্বকে জানতে হলে, খরচ সীমার মধ্যে রাখতে হলে অবশ্যই তাকে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে হবে। একজন বৈশ্বিক ভ্রমণকারীর জন্য এই ভ্রমণ পরামর্শ গুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন : সপরিবারে ভ্রমণে যে বিষয় গুলি মাথায় রাখবেন
মনে রাখুন নতুন জায়গায় আপনি মেহমান
যে দেশে ঘুরতে এসেছেন সর্বপ্রথম মনে রাখতে হবে, সেখানে আপনি অল্প কয়দিনের মেহমান মাত্র। সেই দেশের প্রতি, সেখানকার মানুষের প্রতি সব সময় সম্মান রাখতে হবে। আপনার কাজ এবং ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সাথে মিশে যেতে হবে। বদলে, আপনিও তাদের কাছ থেকে একই রকম ব্যবহার, শ্রদ্ধা পাবেন।যথাযথ পোশাক

আগ্রহকে বাঁচিয়ে রাখুন
যখন ভ্রমণে যাবেন কখনোই কোনও কিছু নিয়ে আগ্রহ দেখাতে ভয় পাবেন না। প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যে শুধু আপনার জানার কৌতূহলকে তৃপ্ত করে তাই নয়, বরং আপনি যে জায়গাটি ঘুরে দেখছেন সেটি সম্পর্কে আরও নতুন নতুন জিনিস সামনে আনে, স্থানীয় মানুষের সাথে যোগাযোগের রাস্তা খুলে দেয়। খুব সাধারণ কিছু কথা যেমন, খাবার, এলাকার বাজার, শিশুদের নাম-বয়স ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে এক সময় পরিবার, জীবন, দেশের রাজনীতিসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে জানা যায়।আরও পড়ুন : ভ্রমণে কম খরচে হোটেল বুকিং করার কিছু টিপস
সাবলীল আচরণ
হাসুন, নম্র থাকুন, আনন্দ প্রকাশ করুন-এই তিনটি সহজ উপায় আপনার ভ্রমণকে করে দেবে অনেক সহজ। একজন মানুষের হাসিতে তার মন কেমন, তিনি গম্ভীর নাকি রাগী বিষয়গুলো প্রকাশ পায়। প্রথম পরিচয়ে একজন অচেনা মানুষের কাছে এই বিষয়গুলোই আপনাকে সহজ করে তুলবে বিশেষ করে যখন আপনি সেখানকার ভাষা সম্পর্কে জানেন না। আপনি যত জায়গাতেই যাচ্ছেন, অন্তত ৫০ শতাংশ এলাকার ভাষাই আপনার জানা নেই। তাই ভ্রমণের সাথে সাথে আচরণের এই বিষয়গুলোও আয়ত্ত করতে হবে।কিছু শব্দ জেনে নেয়া
বিদেশি অনেক কঠিন শব্দ নিয়ে যখন আপনি ভাবনায় পড়েছেন, তখন সেই চিন্তা ঝেড়ে ফেলে চেষ্টা করুন স্থানীয় অল্প কিছু শব্দ শিখে নিতে। হ্যালো, প্লিজ, থ্যাংক ইউ এগুলো কিছু নতুন শব্দ শিখে নিলেও হবে। এতে মানুষকে অভিবাদন জানানো, কথার ভাব প্রকাশ করা, খাবার অর্ডার দেয়ার মত ছোট ছোট কাজগুলো করা সহজ হবে।
স্থানীয় খাবার খান 
স্থানীয়দের ছবি তোলার আগে অনুমতি নেয়া
কথাটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এটি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। হুটহাট ছবি তুললে হয়তো শুধু ছবিটাই তোলা হবে, পরিচিত হওয়া হবে না। যখন একজন স্থানীয় ব্যক্তির ছবি অনুমতি নিয়ে তুলবেন তখন তার সাথে কথা বলার একটি রাস্তা তৈরি হবে। ছবি তুলতে চান সেটি যদি ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করতে না পারেন, চেষ্টা করুন ইশারায় বোঝাতে। হয়ত এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এই ছবি আর সময়টুকু একটা দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে আপনার জীবনে।আরও পড়ুন : জেনে নিন বাই সাইকেল ভ্রমণের কিছু টিপস
এক জায়গাতেই সব অর্থ খরচ নয়
এক দোকানে বসেই আপনি সব খাবার খেলেন, জিনিস কিনলেন এতে কিন্তু সেই সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হলো না। ঘুরে দেখুন পুরো এলাকা, প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় খাবার খান, জিনিস কেনার সময় ভিন্ন ভিন্ন দোকানে যান। এতে পরিচয়টাও বাড়বে, অর্থটাও এক জায়গায় খরচ হবে না। ভাল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন শুধু নিজ দেশে নয়, পৃথিবীর কোনও দেশে গিয়েই আবর্জনা ছুঁড়ে ফেলা উচিত নয়। বরং যদি সম্ভব হয়, আশেপাশে নোংরা বা আবর্জনা চোখে পড়লে সেটি পরিষ্কার করে ফেলুন। ভাবতে পারেন, এটা আপনার দেশ নয়, আপনার এলাকা নয়। আপনি কেন পরিষ্কার করবেন? মজার বিষয় হচ্ছে, স্থানীয়রা ট্যুরিস্টদের অনেক বেশি লক্ষ্য করে। হয়তো নিজেদের ভেতর সচেতনতা তৈরি হয় না, কিন্তু ট্যুরিস্টদের দেখলে তারাও এগিয়ে আসে পরিচ্ছন্নতার কাজে। আর নতুন পরিচয় তৈরির এটাও একটা সুযোগ।
যতটা সম্ভব হাঁটুন, অথবা সাইকেল ভাড়া করুন 
স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করা
স্থানীয় যে যানবাহনগুলো আছে সেগুলোতে ভ্রমণের হয়ত অভ্যাস আপনার নেই। কিন্তু যদি চড়তে পারেন তবে নতুন অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে সহজেই। নতুন জায়গা, ভাষা নিয়ে ভাব প্রকাশ করা অবশ্যই কিছুটা সমস্যার হতে পারে, কিন্তু চেষ্টাটা করতে হবে আপনার নিজের জন্যই। একটি বাসে উঠলে অনেক ধরনের মানুষ দেখা যায়, স্থানীয়দের সাথে কথা হয়, তাদের বাস্তব জীবন সম্পর্কে জানা হয়, এলাকার দোকান, খাবার নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
নাবিলা বুশরা এস এম
তথ্যসূত্র: https://uncorneredmarket.com/responsible-travel-tips/
Click Here To See More