প্রতিমার চমৎকার সাজসজ্জা মন্দিরগুলোকে দিয়েছে নিজস্বতা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেকটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী মন্দির

দেশের জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী। দেশের জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী। ছবি : উইকিপিডিয়া


প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা কিংবা স্ব স্ব ধর্মীয় কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য বিশেষভাবে বিভিন্ন কুঠি বা ভবন নির্মাণ করা হয় যাকে আমরা ধর্মীয় উপাসনালয় বলি। যখন ‍থেকে ধর্মীয় মনোভাব মানুষের মধ্যে তৈরি হলো, তখন থেকেই ধর্মীয় উপাসনালয়ের পরিধি বিস্তার লাভ করতে লাগল। যেহেতু বাংলাদেশে হিন্দুধর্ম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম, তাই মন্দিরের সংখ্যাও এখানে নেহায়েত কম নয়। এদেশে মন্দিরগুলোর মধ্যে দেবী দূর্গা ও কালী দেবীর আরাধনা বেশি করা হয়। বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত মন্দিরগুলো প্রত্যেকটি আলাদা করে নিজস্বতা প্রকাশ করে। আজকের ধারাবাহিক এই পর্বটি তেমনই কিছু মন্দির নিয়ে।

ধামরাই জগন্নাথ রথ :

ধামরাই জগন্নাথ রথ ছবি : উইকিপিডিয়া


এটি ঢাকার ধামরাই উপজেলায় অবস্থিত। জগন্নাথ দেবতার প্রতি উৎসর্গ করে এই মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল। এটি মূলত একটি রথ মন্দির। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম রথযাত্রা ধামরাই জগন্নাথ রথ থেকে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর রথের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও অন্যান্য দেশ থেকেও ভক্তরা যোগদান করে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে দীর্ঘ ৬০ ফুট রথযাত্রা একযোগে অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা অনেক কিছু গুড়িয়ে ফেলে এবং অনেকটাই নষ্ট করে ফেলে। পরবর্তীতে এটি অবশ্য পুনরায় সংস্করণ করা হয়েছে।

লালদীঘি মন্দির :

লালদীঘি মন্দির ছবি : উইকিপিডিয়া

রংপুর জেলার বদরগঞ্জে অবস্থিত লালদীঘি মন্দির প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক অপূর্ব উদাহরণ। এখানে তিনটি প্রধান কক্ষ রয়েছে এবং ভেতরে রয়েছে খুব চমৎকার শিবলিঙ্গ। মন্দিরের সামনে প্রায় শত বছরের পুরনো বটগাছ আছে। চারপাশের পরিবেশ খুব সুন্দর। আঁকাবাঁকা পথ, সুন্দর পুকুর, বিস্তৃত ধানক্ষেত এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে।

জগদ্ধাত্রী মন্দির :

জগদ্ধাত্রী জগদ্ধাত্রী। ছবি : উইকিপিডিয়া


রাজশাহী বিভাগের পুঠিয়া এলাকায় অবস্থিত জগদ্ধাত্রী মন্দির। এটি দেখতে অনেকটা উঁচু আয়ত আকারের। এখানে তিনটি কক্ষ রয়েছে। উচ্চতা প্রায় ৮ মিটার। ঊনিশ শতকের শেষের দিকে এই মন্দির তৈরি হয়েছিল।

কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দির :

গোবিন্দ মন্দির, পুঠিয়া। ছবি : উইকিপিডিয়া


 রাজশাহী বিভাগে যেমন অসংখ্য মসজিদ রয়েছে তেমনই মন্দিরেরও অভাব নেই। কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দির হিন্দুদের আরেকটি তীর্থস্থান। ১৮০০ সাল থেকে ১৮৭০ সালের দিকে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। রাজশাহী বিভাগের পুঠিয়া বাজার এলাকায় খোলা মাঠের ভেতরে অবস্থিত বিখ্যাত মন্দিরটি। মন্দিরে প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ দশমিক ২৫ মিটার। পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে ঐতিহাসিক দরজা রয়েছে। পোড়ামাটির ফলকসহ বেশ কিছু চিত্রকর্ম দেখতে পাওয়া যায়। যদিও বহু পুরনো এই মন্দিরটির অনেক কিছু  রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেকটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছে। এখানে বাতি রাখার একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে যাকে নিযস বা কুলঙ্গি  বলা হয়।

বড় শিব মন্দির :

বড় শিব মন্দির ছবি : উইকিপিডিয়া


পুঠিয়া রাজবাড়িতে অবস্থিত আরেকটি মন্দির বড় শিব মন্দির। এটি নির্মাণ করেছিলেন রানী ভুবনময়ী দেবী। ১৮২৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর ১৮৩০ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বড় শিব মন্দির এর আরেক নাম ভুবনেশ্বর মন্দির। মন্দিরটি দেখতে অনেকটা বর্গাকার আকৃতির। উচ্চতা ৩৫ দশমিক ৫ মিটার। মন্দিরে পাঁচটি উঁচু চূড়া রয়েছে। মন্দিরে প্রবেশের জন্য চারটি পথ রয়েছে। প্রবেশ পথে শিব মন্দির রয়েছে। এখানে সবথেকে চমৎকার বিষয়টি হলো বাইরে খোদাইকৃত পৌরাণিক কাহিনী। যেন অতীতের অনেক কিছু কাহিনীতে বর্ণনা করা হয়েছে।