ইতিহাস সমৃদ্ধ মরক্কোর দর্শনীয় স্থান
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: ভূমধ্যসাগরের ও আটলান্টিকের পাড়ে অবস্থিত মরক্কো
সাদা বালুকাবেলা, বিশাল মরুভূমি, প্রাচীন শহর, নীলাভ সাগর, ঘন সবুজ বন, উঁচু উঁচু সব পাহাড়, রঙিন বাজার, বিশাল দুর্গ-এই সবকিছুরই দেখা পাবেন মরক্কোতে। তাছাড়া মরক্কোর শহরগুলোতে আধুনিকতার বিস্ময়কর সংমিশ্রণের সাথে মধ্যযুগীয় ধাঁচ আপনাকে মুগ্ধ করবে। চলুন মরক্কোর ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
আর্গ চেবি

তবে আরও অনেক মজার কাজের জন্য ভালোই উপযুক্ত এই জায়গাটি। তার মধ্যে আছে ডেজার্ট হাইকিং, স্যান্ড বোর্ডিং, উঁচু বালির ঢিবির মাথায় চড়ে সাহারার মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় দেখা, মরুভূমির জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে বেদুইনদের গ্রামে ঢুঁ মেরে আসা, রাতের মরুভূমিতে ক্যাম্পিং ইত্যাদি।
ফেজ আল বালি

শহরের রাস্তাগুলোর দু-পাশ দোকান, মসজিদ, মাদ্রাসায় ঠাসা। ঐতিহাসিক এই স্থাপত্যগুলোতে অরিয়েন্টাল, আফ্রিকান এবং মুরিশ স্থাপত্যের সংমিশ্রণ লক্ষণীয়। ফেজ শহরটি নির্মিত হয়েছিল ইদ্রিসিদ রাজবংশের শাসনামলে তাদের রাজধানী হিসেবে। পরে আলমোরাভিদরা এসে ফেজ নদীর অপর পাশে নতুন শহর নির্মাণ করে এবং নদীর উপর সেতু বানিয়ে দুই শহরকে সংযুক্ত করে। শহরের নতুন ও পুরনো অংশকে একত্রে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে ১৯৮১ সালে। ফেজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হচ্ছে এখানেই অবস্থিত গিনেস বুক কর্তৃক স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার সর্বপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব আল কারউইন।
বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান মসজিদ

মার্বেলের কারুকাজ করা মেঝে, সিডার কাঠের ছাদ, দেয়ালে জেলিজের কারুকাজ- সবমিলিয়ে নান্দনিক এর অভ্যন্তরীণ সজ্জা। এই মসজিদটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান মসজিদ। এর কিছু অংশ অবস্থিত ভূমিতে অবস্থিত, আর কিছু অংশ সাগরের উপর।
ভলিউবিলিস

এটি প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে শুরু করে ইসলামী সভ্যতা পর্যন্ত অসংখ্য সভ্যতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর বিচিত্র নির্মাণ উপকরণ, যেমন- মোজাইক, মার্বেল, ব্রোঞ্জ, শত শত শিলালিপি এবং বৈচিত্র্যময় নির্মাণশৈলী নানা সময়ের প্রতিভাবান নির্মাতা ও স্থপতিদের মেধার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। খননকাজের মাধ্যমে এখানে আবিষ্কৃত হয়েছে রাজপ্রাসাদ, পার্লামেন্ট ভবন, রাজকীয় প্রবেশপথ প্রভৃতির ভগ্নাবশেষ।
মারাকেশ

এখানে এলে লক্ষ্য করা যায় অতীত আর বর্তমান মরক্কোর এক দারুণ মেলবন্ধন। মরক্কোর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উপাদানগুলোর সাথে আধুনিক উপকরণের সংমিশ্রণ ঘটেছে যেন এই চত্বরে। এই চত্বরটি মারাকেশ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ পর্যন্ত সকল ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। প্রথম প্রথম এই জায়গাটি রাজাবাদশারা জনগণের শিরশ্ছেদ করার কাজে ব্যবহার করতেন। পরে একসময় স্থানীয় মরুচারী ও পর্বতবাসীদের ব্যবসায়িক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই চত্বরটি। ধীরে ধীরে এখানে নানারকম দোকানপাট গড়ে ওঠে এবং রমরমা ব্যবসা শুরু হয়।
ফারিয়া এজাজ এস এম
Click Here To See More