আলোকিত জোহর বাহরু শহর। ছবি : এগোডামালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের রাজধানী জোহর বাহরু। এই প্রদেশটি মালয়েশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত যার সাথে সীমানা রয়েছে সিংগাপুরের। জোহর বাহরুতে ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ব্রিটিশ আমলের নানারকম স্থাপত্য।
এছাড়া, এখানকার স্থানীয় খাবারের জন্যও প্রচুর সুনাম রয়েছে। তাই জোহর বাহরুতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানারকম ঘুরে বেড়ানোর জায়গা :
জোহর চিড়িয়াখানা :
১৯২৮ সালে স্থাপিত জোহর চিড়িয়াখানাটি দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার প্রথম চিড়িয়াখানা। এখানে ১০০ প্রজাতির উপর বন্য জীবজন্তু রয়েছে যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো–গরিলা, হাতি, বাঘ, ফ্লেমিনগো পাখি ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে পাখি ও সরীসৃপ। শিশুদের নিয়ে ভ্রমণ করলে এই ভ্রমণ বেশ ভালো লাগবে।
চীনা ঐতিহ্যবাহী মন্দির :
জোহরা বাহরুতে চীনা সম্প্রদায়ের প্রাচীন একটি মন্দির রয়েছে। লাল সাদা রঙের এই মন্দিরটি এই শহরের প্রাচীন একটি স্থাপত্য যা দেখলেই বুঝা যায়। এই মন্দিরের সাথে এই শহরে চীনা সম্প্রদায়ের আগমনের ইতিহাস জড়িত আছে । তাই এটা পরিদর্শন করে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্য সম্পর্কে জানা যায়।
ইস্তানা বেসার পরিদর্শন :
রাজকীয় প্রাসাদ ইস্তানা বেসার। ছবি : ট্রাভেলমালয়েশিয়া.মিএটা একটি রাজকীয় প্রাসাদ। প্রাচীনকালে এই প্রদেশের শাসক বা সুলতানদের আবাস ছিলো এই প্রাসাদে। সুলতান আবু বকরের শাহনামলে ১৮৬৬ সালে এই প্রাসাদটি গড়ে তোলা হয় যা মালয় ও পাশ্চাত্য স্থাপত্যের মিশ্রণে গঠন করা হয়েছে।
এই প্রাসাদে ঘুরে বেড়ানোর সময় এর ডোম ও ছাদের নকশাগুলো দেখার মতো। এখানকার আরেকটি আকর্ষণ হলো এর আবু বকর যাদুঘর যাতে রাজপরিবারের বিভিন্ন প্রাচীন জিনিসপত্র সংরক্ষিত আছে।
লেগোল্যান্ড মালয়েশিয়া :
জোহর বাহারুর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র লেগোল্যান্ড পার্ক। ছবি : কেকে ডে ব্লগজোহর বাহারুর সবচেয়ে জনপ্রিয় এই থিম পার্ক। শিশুদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় এই লেগোল্যান্ড। এখানে ৪০টি রাইড রয়েছে যা ছেলে-বুড়ো সবার কাছেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ২০১২ সালে এটা স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বাম্পার গাড়ি রাইড ও পেলন আছে। এছাড়া এর পাশেই একটি ওয়াটার পার্ক রয়েছে যাতে পানি সম্পর্কিত বিভিন্ন রাইড আছে।
সিউ হেরিটেজ গ্যালারি :
সিউ হেরিটেজ গ্যালারী মালয়েশিয়ার 'নং সিউ গোত্র' (Knowng Sieu Clan)-সম্পর্কিত একটি গ্যালারি যা ১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। এখানে এই গোত্রের ব্যবহার করা বহু প্রাচীন জিনিস, যেমন : অস্ত্র, জামা-কাপড় , থালা-বাসন-বাটি, ছবির দেখা মিলবে।
এংরি বার্ডস থিম পার্ক :
জোহর বাহরুর চমকপ্রদ থিম পার্ক 'এংরি বার্ডস থিম পার্ক'। ছবি : লিটেল ডে আউটআরেকটি চমকপ্রদ থিম পার্ক হলো ‘এংরি বার্ডস থিম পার্ক’ যা ২৬,০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে ছড়ানো। এখানেও বিভিন্ন রাইড রয়েছে। তবে এখানকার বাড়তি আকর্ষণ হলো এংরি বার্ডস এর চরিত্র গুলোর বিভিন্ন শো।
আরুলমিগু শ্রী কাঁচ মন্দির :
কাঁচের তৈরি অভিনব আরুল মিগু শ্রী মন্দির। ছবি : গো জোহরকাঁচের তৈরি এই আরুল মিগু শ্রী মন্দিরটি সত্যিই অভিনব এবং এটাই পৃথিবীর প্রথম কাঁচ নির্মিত মন্দির। জোহর বাহরুর হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এই মন্দিরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।যদিও এটা একটি হিন্দু মন্দির কিন্তু এর ভেতরে যিশু খ্রিষ্ট ও বুদ্ধের মূর্তি রয়েছে। সূর্যের আলোয় কাঁচ মন্দিরটি বেশ ঝলমল করে।
সালাহুদ্দিন বেকারি :
১৯৩৭ সাল থেকে চলমান সালাহুদ্দিন বেকারি। ছবি : জহদ কাকী ব্লগারজোহর বাহরুর পুরনো একটি বেকারি এই সালাউদ্দিন বেকারি যা ১৯৩৭ সাল থেকে আজ অবধি চালু রয়েছে। এখানে নানান রকম বেকারি পণ্য রয়েছে তবে ঐতিহ্যবাহী মালয় খাবার 'কারি পাফস' (Curry Puffs) যার ভেতরে মাংস বাঁ সবজির পুরে দেয়া থাকে, খুবই জনপ্রিয়। তাই জোহর বাহ্রু গেলে এর স্বাদ নিতে ভুলবেন না।
জোহর বাহ্রু আর্ট গ্যালারি :
মালয়েশিয়ার চিত্রকলা সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই এই আর্ট গ্যালারিতে আসতে হবে যা ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এই গ্যালারিতে চিত্রকলা, স্থাপত্য, সিরামিকের তৈজসপত্রে ইসলামি ক্যালিগ্রাফি, পুরনো অস্ত্র, মুদ্রা ও নোট রয়েছে।
পাসির গুদাং ঘুড়ি জাদুঘর :
পাসির গুদাং এর ঘুড়ি উৎসব। ছবি : ট্রাভেলবুড্ডী.কম২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঘুড়ি জাদুঘরে মালয়শিয়ার নানারকম রং-বেরঙের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির প্রদর্শনী রয়েছে। এই ঘুড়িগুলো কিভাবে তৈরি করা হয় তার কিছু ভিডিও এখানে দেখানো হয়ে থাকে। এখানে প্রতি বছর ঘুড়ি 'বার্ষিক ঘুড়ি উৎসব' হয়ে থাকে।