মেঘাই ঘাট, সিরাজগঞ্জ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মেঘাই ঘাট

এই মেঘাই ঘাঁট আসলে শহর এলাকা রক্ষা বাঁধের একাংশ। এখানে প্রতিনিয়ত উপজেলা, জেলা এবং আশে পাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে অসংখ্য মানুষ ঘুরতে আসে। অপরূপ সৌন্দর্যের এই মেঘাই ঘাটে আছে মনোরঞ্জনের জন্য একাধিক ব্যবস্থা। এখানে নদীতে স্পিডবোট এর ব্যবস্থা আছে। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন নদী থেকে। তবে সবচাইতে ভাল উপায় হল এখানে বড় নৌকায় করে নদীর মাঝে চর হিসেবে জেগে ওঠা মাইঝবাড়ি ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত মাইঝবাড়ি গ্রামে ঘুরে আসতে পারবেন অত্যন্ত কম খরচে।
মেঘাই ঘাঁট
মাত্র দশ থেকে বিশ টাকায় আপনাকে নদী পার করে মাইঝ বাড়ি গ্রামে দিয়ে আসবে। পনের বিশ মিনিট সময় দিবে ঘুরে দেখবার জন্য। এর পর আবার ঐ নৌকায় করেই ফেরত যেতে পারবেন মেঘাই ঘাটে। ফেরত যাবার সময় আপনাকে কোন টাকা দিতে হবে না। তবে যদি আপনি ইচ্ছা করেন তাহলে আরো কিছুক্ষন অপেক্ষা করে অন্য নৌকায় করে ফিরতে পারেন ঐ একই পরিমান টাকা দিয়ে। নদীর মাঝে দিয়ে পার হবার আগে মনে হতে পারে আরে এইটুকু জায়গায় আর কি পার হব তবে ওই আধা ঘন্টার যে নৌকা ভ্রমন তা অনেক বেশি আনন্দদায়ক হবে বলেই বিশ্বাস করি।এছাড়া বন্ধু বান্ধব সাথে নিয়ে গিয়ে বড় নৌকা ছাড়াউ মাঝারি নৌকা নিজেরা ভাড়া করে নিয়ে যেতে পারের নাটুয়ার পাড়ার চরে। সেখানে সারাদিন আনন্দ করে হৈ হুল্লোড় করে কাটিয়ে দিতে পারেন নিমিষেই। এই জায়গা গুলোয় ভ্রমণ করতে সবচাইতে উপযোগী হল ছুটির দিন ব্যতীত ভ্রমণ করা। তাতে করে নিরিবিলিতে প্রকৃতির কাছে কাটাতে পারবেন বেশ কিছু সময়। কোন ধরণের সমস্যায় পড়লে ঘাটে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিন।
যেভাবে যেতে পারবেন :
ঢাকা থেকে যাওয়া যায় দুই উপায়ে। বাসে এবং ট্রেনে। ট্রেনে যেতে হলে ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত টিকেট কেটে আসতে হবে। সেখান থেকে বাসে করে কাজিপুর। ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের বাসে উঠে সিরাজগঞ্জ শহরে নামবার পর সিরাজগঞ্জ থেকে কাজিপুরের বাসে উঠতে হবে। এছাড়া ঢাকা টু বগুড়ার বাসে করে আসতে পারেন।বগুড়া থেকে যেতে হলে আপনাকে বগুড়া থেকে করতোয়া গেটলকে করে ধুনট মোড় আসতে হবে। ধুনট মোড় থেকে সিএনজি করে ধুনট বাজার। ধুনট বাজার থেকে সরাসরি মেঘাই ঘাটের সিএনজি বা অটোরিকশা অথবা ধুনট বাজার থেকে ঢেকুরিয়া বাজার পর্যন্ত সিএনজি বা ভ্যানে যেতে পারেন। সেখান থেকে হেটে বা অটো রিকশা করে যেতে পারেন মেঘাই ঘাটে।
যেখানে থাকবেন :
সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মানের হোটেল ছাড়াও থাকতে পারেন কাজিপুর উপজেলার ডাক বাংলোয়। এছাড়া বগুড়া জেলার হোটেল নাজ গার্ডেন, পর্যটন মোটেল, হোটেল মম ইন, আকবরিয়া হোটেল এ থাকতে পারেন। পরিবেশ নোংরা করবেন না। ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। অসংযত আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন। বেশি বেশি ভ্রমণ করুন।আরো পড়ুন ঃ সৌদি আরবের পথে পথে : পর্ব ১
আফরাইম আল-আহাদ এস এম