রংপুরে শহর থেকে দর্শনীয় স্থানগুলোতে যেভাবে যাবেন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : তামাকের জন্য বিখ্যাত জেলাটিতে আছে স্মৃতিবিজরিত নানা দর্শনীয় স্থান
ছবি : একুশে টিভি[
বেগম রোকেয়ার স্মৃতি বিজরিত জেলা রংপুরে রয়েছে ইটকুমারী জমিদার বাড়ি, দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়িসহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। ঐতিহাসিক ভাবেও জেলাটির গুরুত্ব অনেক। সেই ধারাবাহিকতায় চলুন জেনে নেয়া যাক রংপুর শহর থেকে জেলাটির সকল দর্শনীয় স্থানে কিভাবে যেতে পারেন সে সম্পর্কে।
লালদিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ বারান্দা সম্মুখ ভাগ। ছবি : উকিপিডিয়া কমনস
নান্দনিক নকশা ও কারুকার্যময় এই মসজিদটি বেশ প্রাচীন। রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজলেয়ায় এই মসজিদের অবস্থান। রংপুরের সুন্দর মসজিদের মাঝে এটি অন্যতম ও রংপুরের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রদর্শনের মাঝে এটি একটি। রংপুর শহর থেকে বদরগঞ্জগামী বাস, ইজিবাইক বা সিএনজিতে করে সুন্দর এই মসজিদটিতে যেতে পারবেন।
পায়রাবন্দ, বেগম রোকেয়ার স্মৃতি বিজড়িত স্থান :
উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত এই মহীয়সীর স্মৃতি বিজড়িত এলাকা এই রংপুর। বেগম রোকেয়ার বাড়ি পায়রাবন্দ জমিদারবাড়ি নামেও পরিচিত। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক তালিকার অন্তর্গর। বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য রয়েছে এই পায়রাবন্দে। রংপুর শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পায়রাবন্দ গ্রামে যাওয়ার জন্য রিকশা, ইজিবাইক ও বাস পাবেন।
ছবি : বার্তা ২৪
রংপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা ইটকুমারী জমিদার বাড়ী। শিক্ষা-দীক্ষা, সংস্কৃতি সবমিলিয়ে জায়গাটির বেশ নাম-ডাক ছিল। বিভিন্ন ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাও রয়েছে এখানে। রিক্সা, অটোরিক্সা বা প্রাইভেট কার যেকোনোভাবে রংপুর শহর থেকে ইটকুমারী জমিদার বাড়িতে যেতে পারবেন।
নদী আর নির্মল পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এই জায়াগটি খুবই বিখ্যাত। নান্দনিক সৌন্দর্যের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের এই বিনোদন পার্কটি ভ্রমনপিয়াসুদের নিয়ে যায় প্রকৃতির একদম নিবির সান্নিধ্যে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে রংপুর শহরের নিসবেতগঞ্জে ঘাঘট নদীর দু-পাশে এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। অটো, সিএনজি বা রিকশায় করে এই প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্কে যেতে পারবেন।
ভিন্নজগত পার্ক যেন অন্য এক জগতে নিয়ে অসে পর্যটকদের। ছবি : ভিন্নজগত এমিউজমেন্ট পার্ক
রংপুরের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রের নামে হচ্ছে ভিন্ন জগত। প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে এই বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। বেশ নজরকাড়া সৌন্দর্যে এই স্থানটি বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশের প্রথম প্লানটেরিয়ামের অবস্থানও এখানেই। সবুজাভ পরিবেশ ও পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে থাকে এই জায়গাটি। রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গীপুরে এর অবস্থান। শহর থেকে অটোতে করে এই ভিন্ন জগতে পৌঁছাতে পারবেন।
ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক তাজহাট জমিদার বাড়ী। দেশের নান্দনিক স্থাপনাগুলির মাঝে এটি অন্যতম। ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা নিয়ে এটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাদুঘরটির সংগ্রহশালা যেকোন ভ্রমনপিয়াসুকে মুগ্ধ করে। রংপুরের তাজহাট গ্রামে এই জাদুঘরটি অবস্থিত। রংপুর শহর থেকে রিকশা বা অটোরিকশাযোগে তাজহাট জমিদার বাড়ীতে যেতে পারবেন।
দেবী চৌধুরানী প্রাসাদ, রংপুর। ছবি : সংগৃহীত
প্রজা হিতৈষী জমিদার দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি প্রায় ৮০ একর সম্পত্তির ওপর নির্মিত। পুরো রাজবাড়িজুড়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ছোট-বড় অনেক পুকুর। রংপুর বিভাগ থেকে প্রথমে পীরগাছা উপজেলায় যেতে হবে আপনাকে। বাস বা সিএনজিতে যেতে পারবেন সেখানে। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এই দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি অবস্থিত।