ভূ-মধ্যসাগরের তীরে মধ্যপ্রাচ্যের ছোট দেশ লেবাননের চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য। ছবি : হলিডে আর্কিট্যাক্টস
মধ্যপ্রাচ্যের ইউরোপ খ্যাত লেবাননে একইসাথে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধন ঘটেছে। ভূ-মধ্যসাগরের তীরে মধ্যপ্রাচ্যের ছোট এই দেশে একইসাথে পাবেন সুউচ্চ পর্বতের সৌন্দর্য, চোখ জুড়ানো সমুদ্রের স্পর্শ, বিভিন্ন সভ্যতার নিদর্শন ।
আরও থাকছে লেবানিজ ক্রুইজিনের মজাদার খাবারের স্বাদ। ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনি যে ঘরানারই হোন না কেন, লেবাননের দর্শনীয় স্থান এবং এর সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হবেনই।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে সাথেই লেবানিজেরা নিজেদের সৌন্দর্য চর্চায় অতি আগ্রহী। আর তাই সুন্দরের পূজারি লেবানিজদের রাস্তায় বের হলেই দেখা যাবে ' বিউটি সায়েন্স সেন্টার'।
আপাতত লেবাননের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া পেতে যে জায়গাগুলোতে অবশ্যই ঘুরে দেখবেন সেগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।
জিটা গ্রটো :
জিটা গ্রটো মূলত একটি আন্তঃসংযুক্ত গুহা। ছবি : পেপার গ্রেট
জিটা গ্রটো মূলত একটি আন্তঃসংযুক্ত গুহা। বহুবছরধরে দুইটি গুহার গাঠনিক কাঠামোর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের জিটা গ্রটো প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
রাজধানী বৈরুত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাহর-আল- কালব উপত্যকায় অবস্থিত জিটা গ্রটো। গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে নদী।
পর্যটকদের ভ্রমণের জন্যে গুহার ভেতর মিনি বোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুহার ছাদ ছুঁতে চাওয়া চুনাপাথরের স্তম্ভ বিশ্বের বৃহত্তম স্ট্যালাগমাইট; এর চোখ-ধাঁধানো রঙ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বর্তমানে এটি বিশ্বের এক নতুন আশ্চর্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কাদিশা নদীর পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা ধর্মীয় তাৎপর্যের জন্য কাদিশা উপত্যকাকে পবিত্র উপত্যকা বলে স্থানীয়রা। ছবি : দ্যা ইকোনোমিস্ট
ধর্মীয় তাৎপর্যের জন্য কাদিশা উপত্যকাকে পবিত্র উপত্যকা বলে স্থানীয়রা। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কাদিশা নদী। ১৯৯৮ সালে কাদিশা উপত্যকা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
উপত্যকা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়বে লেবাননের সুন্দর পরিপাটি পাহাড়ি গ্রামগুলো। বুনোফুল আর বন্যপশুর পাশাপাশি এখানে পাবেন বেশকিছু আশ্রমের দেখাও। অবসর সময় কাটাতে এর চেয়ে ভালো, নির্মল জায়গা আর হয় না।
বেত- এদ- দ্বীন:
লেবানিজ স্থাপত্যের একটি অনন্য নিদর্শন বেত- এদ- দ্বীন প্রাসাদটি উনিশ শতকে একটি পাহাড়ের ওপর নির্মাণ করা হয়। ছবি : উইকিমিডিয়া
লেবানিজ স্থাপত্যের একটি অনন্য নিদর্শন বেত- এদ- দ্বীন প্রাসাদটি উনিশ শতকে একটি পাহাড়ের ওপর নির্মাণ করা হয়। প্রাসাদটির সুসজ্জিত নকশা ও মনোরম গঠন কাঠামো এর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের ধনাঢ্য অবস্থাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিবছর গ্রীষ্মে প্রাসাদটিতে এক উৎসবের আয়োজন করা হয় যা দেখতে কয়েক হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে।
বাইব্লস :
বাইব্লস বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে একটি। বলা হয় এটি ফিনিশীয় আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শহর। ছবি : বার্ড লাইফ
বাইব্লস বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে একটি। বলা হয় এটি ফিনিশীয় আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শহর। বর্তমানে বাইব্লসকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালে বাইব্লসকে আরবের পর্যটন রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সিডার বনের কাঠকে লেবানিজরা পবিত্র মনে করে থাকে। ছবি : উইকিমি্ডিয়া
সিডারকে লেবাননের গর্ব ও ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। মূলত সিডার হলো বিচার পর্বতে বরফের ধারঘেঁষে এক বিস্তৃত বনাঞ্চল। বনাঞ্চলের কাঠগুলো বহু বছর ধরে তাদের জীবিকার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
এছাড়াও বনের কাঠকে লেবানিজরা পবিত্র মনে করে থাকে। বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নেয়া এই বনাঞ্চলে বহু পাখির কিচিরমিচিরসহ বন্য পশুর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।
টায়ার :
লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর টায়ার শহরটি নির্মল ও স্নিগ্ধ সৈকতের জন্য পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। ছবি : ফ্লিকার
প্রাচীন ফিনিশীয় শহর টায়ার লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর। সাগর পাড়ের এই শহরটি নির্মল ও স্নিগ্ধ সৈকতের জন্য পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। বন্দর শহর হিসেবে টায়ারের সৈকত বিচ প্রেমিদের জন্য আদর্শ স্থান।
সমুদ্রের জলে স্নান করা ছাড়াও দেখতে পাবেন জলে ভেসে বেড়াচ্ছে কচ্ছপসহ নানারকম সামুদ্রিক প্রাণী। এছাড়াও ইতিহাসকে জানতে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের স্মৃতিবিজড়িত হিপ্পোড্রোমে অবশ্যই একবার যাবেন।