কম সময়ে ঘুরে আসার উপায়
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শর্ট ট্যুর ম্যানেজমেন্ট-এর বিষয়ে করণীয়
ছবি : উসাইড
শর্ট ট্যুর বলতে আমরা সাধারণত বুঝি ১ দিনের বা সর্বোচ্চ ১ দিন ১ রাতের ট্যুর। শর্ট ট্যুর সাধারণত আশেপাশের কোনো এলাকা বা দূরবর্তী এমন এলাকা যেখানে একদিন-একরাতে ঘুরে আসা যায় সেসব স্থানে হয়। একদিনের শর্ট ট্যুরের জন্য ঢাকার আশেপাশের বিখ্যাত স্থানগুলো হলো মাওয়া, মৈনট ঘাট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নিকলী হাওড়, চাঁদপুর ইত্যাদি। একদিন একরাতের শর্ট ট্যুরের জন্য চট্টগ্রামের ঝরনাগুলো, সেইসাথে মহামায়া লেক, গুলিয়াখালী-বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, মাধবকুন্ড ঝরনা এসব স্থানে ঘুরে আসা যায়। সব এলাকার আশেপাশেই এরকম বিভিন্ন শর্ট ট্যুরের স্থান আছে। শর্ট ট্যুরগুলো সাধারণত বাজেট ট্যুর হয়ে থাকে। ১০০০ টাকার মধ্যেই সহজেই উপরোক্ত স্থানগুলো থেকে ঘুরে আসা যায়। একটু আরামে যাতায়াত করতে চাইলে খরচ সামান্য কিছু বাড়বে। সাধারণত চাকুরীজীবি বা ছাত্র, যারা সপ্তাহে ২-১ দিন ছুটি পান তাদের জন্য আদর্শ হলো শর্ট ট্যুর। তথ্যপ্রবাহের এই যুগে বাংলাদেশের বিভিন্ন শর্ট ট্যুরের স্থানগুলো জনপ্রিয় হওয়ায় মানুষ এখন শর্ট ট্যুরের দিকে ঝুঁকছে। সেই সাথে খরচ কম হওয়ার কারণে ছাত্রদের মাঝেও শর্ট ট্যুর এখন অনেক জনপ্রিয়।
শর্ট ট্যুর যেহেতু সাধারণত একদিনের হয় তাই বেশ সহজেই এর ম্যানেজমেন্টের কাজ করা যায় :
১। প্রথমত কোন স্থানে যাবেন তা ঠিক করে নিন। দিনে যেয়েই ফিরে আসতে পারবেন নাকি আগের রাতে রওনা দিয়ে পরদিন ঘুরে ফিরে আসবেন তা আগেই ঠিক করে নিন।
২। বাজেট কত রাখবেন তা আগে ঠিক করুন এরপর কীভাবে যাতায়াত করবেন তা ঠিক করুন। কারণ মূল খরচ এটাই। একটু দূরের স্থানে কম বাজেটে ট্যুর দিতে চাইলে মেইল ট্রেন বা সাধারণ মানের বাসে যাওয়াটাই সমীচিন। আর বাজেট কিছুটা বেশি থাকলে ভালো মানের বাস আর লোক সংখ্যা ৮-১০ জন হলে মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে চলে যেতে পারেন। রিজার্ভ গাড়ি থাকলে ঘুরাঘুরিও সহজ হবে।
৩। যেই স্থানে যাবেন সেখানকার খাওয়া-দাওয়ার খোঁজখবর নিন। টুরিস্ট স্পটগুলোর খাবারের দাম স্থানভেদে ভিন্ন হয় তাই আগে থেকে ধারণা না থাকলে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থাকে।
৪। ট্যুরের স্থানগুলোর অভ্যন্তরীন যাতায়াতের জন্য সাধারণত সিএনজি, লেগুনা ইত্যাদি থাকে। তাই গ্রুপ করে যাওয়া ভালো। এতে করে অভ্যন্তরীন যাতায়াতের খরচ কমে আসবে।
৫। শর্ট ট্যুরগুলোতে যেহেতু একটানা ঘুরাঘুরির মধ্যে থাকতে হয় তাই কিছুটা কষ্টকর হয় অনেকের জন্য। তবে আশেপাশের এলাকা হলে বা রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে ঘুরতে পারলে ততটা কষ্ট হয় না।
৬। শর্ট ট্যুরে টাইম ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি একদিনে একাধিক স্থান ঘুরার পরিকল্পনা থাকে তাহলে আগে থেকেই কোথায় কত সময় ব্যয় করবেন তা ঠিক করে নেয়া উচিত।
পরিকল্পনা করে শর্ট ট্যুরে অনেক স্পট ঘুরে আসুন। ছবি : আইবেরিয়ান স্কেপস
একটু পরিকল্পনা করে গেলে শর্ট ট্যুরে অনেক ঘুরা যায়। যেমন একদিনে খৈয়াছড়া/নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ঘুরে মহামায়া লেক এবং বাঁশবাড়িয়া/গুলিয়াখালী ঘুরে আসা যায়। অন্যদিকে ঢাকার আশেপাশে মৈনট ঘাটের সাথে সাথে কলাকোপা-বান্দুরার মত ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে আসা যায়। যারা অল্প বাজেটে, অল্প সময়ে নিয়মিত ঘুরতে চান তারা খোঁজখবর করে শর্ট ট্যুরের বিভিন্ন স্থানের তালিকা করে ফেলতে পারেন। হাতে একদিন সময় পেলেই ঘুরে আসতে পারেন অসাধারণ এসব স্থানে।
আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।