প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি; ছবি : উইকিপিডিয়া
বাংলার বাঘ নামে খ্যাত শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মস্থান এবং তার শৈশব পার করেছেন সাতুরিয়া জমিদার বাড়িতে। দক্ষিণ বাংলার ঝালকাঠি থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর উপজেলায় সাতুরিয়া গ্রামে বিখ্যাত এই সাতুরিয়া জমিদার বাড়িটির অবস্থান। বলা হয়ে থাকে, প্রায় সাড়ে তিনশ' বছর পূর্বে ফজলুল হকের মাতামহ ইসলামী সাধু পুরুষ শেখ সাহাবুদ্দিন এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৭ শতকের এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। মুঘল স্থাপত্য রীতিতে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। জমিদার বাড়ির কম্পাউন্ডটি তিন ভবনের সমন্বয়ে গঠিত। চুন, সুরকী এবং ইট দ্বারা ভবন সমূহ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ। এই কারুকাজ করা দেয়ালসমূহ ভবনের সৌন্দর্য কয়েকগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবনে প্রবেশের সময়ে কারুকার্যখচিত প্রধান ফটক দেখতে পাবেন।
এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে অনেকগুলো পুকুর, ফুলের বাগান এবং মুঘলীয় রীতিতে নির্মিত ভবন। শেরে বাংলার এ কে ফজলুল হকের স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতি পাঠাগারসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। তিনি তার কর্মজীবন এবং রাজনৈতিক জীবনের অনেকটা সময় এখানেই কাটিয়েছেন।
এই বাড়ি থেকে কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি এই বাড়ির মক্তবেই তার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে এই বাড়িটি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে থেকে দর্শনার্থীরা এই বাড়িটি দেখতে আসেন। ঐতিহাসিক সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি ভ্রমণের চেষ্টা অবশ্যই করবেন।
যেভাবে যাবেন
সড়ক কিংবা নৌ-পথ, দুভাবেই আপনি সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি দেখতে যেতে পারেন। ঢাকার সদরঘাট থেকে অগ্রদূত প্লাস, এম ভি ফারহান, রাজদূত, টি এস মাসুদ, টি এস অস্ট্রিচসহ বিভিন্ন লঞ্চ ও ষ্টিমার রাজাপুর এর কাছাকাছি ভান্ডারিয়া ঘাঁটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সেখানে হুলারহাট/কাউখালী/ভান্ডারিয়া ঘাঁটে নামতে পারবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কেবিন ভাড়া যথাক্রমে ১,০০০-১,২০০ টাকা ও ৭৬০ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ডেক ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। ঘাঁটে পৌঁছে যেকোনো বাহনে কাছেই অবস্থিত সাতুরিয়া জমিদার বাড়িতে যেতে পারবেন।
এছাড়াও সড়কপথেও আপনি যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ঢাকার সায়েদাবাদ অথবা গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে আপনাকে ভান্ডারিয়াগামী বাসে উঠতে হবে। ভান্ডারিয়াগামী গ্রিনলাইন, বিআরটিসি, হানিফ, ঈগল, সাকুরাসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে রাজাপুর যেতে পারবেন। ভান্ডারিয়া/রাজাপুর পৌঁছে সিএনজি বা অটোযোগে সরাসরি পৌঁছে যাবেন সাতুরিয়া জমিদার বাড়িতে।
সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় ঝালকাঠিতে ফিরে আসতে পারেন। ঝালকাঠিতে কালিবাড়ি রোডে ধানসিঁড়ি রেস্ট হাউজ, সদর রোডে হালিমা বোর্ডিং, ডালিয়ান হোটেল, দিদারসহ সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল পাবেন। ভাড়া ১০০ থেকে ২৫০ টাকা। ভান্ডারিয়াতে পাবেন সার্কিট হাউজ, রেস্টহাউজ ও মোটামুটি মানের হোটেল।
তবে রাজাপুর উপজেলাতেও সাধারণ মানের হোটেল এবং সরকারি জেলা পরিষদ ডাকবাংলো রয়েছে। চাইলে আপনি এখানেও রাত্রি যাপন করতে পারেন। ভালো মানের হোটেলে থাকতে চাইলে ঝালকাঠি থেকে ২০ কিমি দূরে বরিশাল সদরে আসতে হবে আপনাকে।
যেখানে খাবেন
স্টেশন রোডেই বেশ কিছু রেস্তরা পাবেন খাবারের জন্য। এখানের ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের রসমালাই, সকাল সন্ধ্যা সুইটসের মিষ্টি জনপ্রিয়।
মোঃ খালিদ বিন জামানএস এম
তথ্যসূত্র : ১। https://adarbepari.com/jhalokati-saturia-jamidar-bari২। https://vromonguide.com/place/saturia-zamindar-bari-jhalakathi৩। https://www.facebook.com/permalink.php?id=1239286356183352&story_fbid=1989082334537080৪। https://www.risingbd.com/fascinating-world/news/47367 ৫। https://thedhakatimes.com/126576/travel-visit-jhalakathi-saturia-zamindars-house/ Click Here To See More