আহারে সামুদ্রিক খাবার

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: ঢাকায় সামুদ্রিক খাবারের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ

সামুদ্রিক খাবার খেতে বেশ চমৎকার। সাগর পাড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সুস্বাদু সামুদ্রিক খাবার এক অন্য স্বাদ এনে দেয় খাবারে। কিন্তু তাই বলে সবসময় তো সামুদ্রিক খাবার খেতে সাগর পাড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই ঢাকাতেই সময়ে-অসময়ে সামুদ্রিক খাবারের চাহিদা মেটাতে রয়েছে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ। গুলশান, বনানী, পান্থপথ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে সি-ফুড রেস্তোরাঁ। প্রচলিত সি-ফুড ছাড়াও সি-ফুড স্যুপ, সি-ফুড পিৎজা, বিভিন্ন ধরনের স্টেক কিংবা গ্রিল পাওয়া যায় এসব রেস্তোরাঁয়।

সল্টজ

সল্টজ

সল্টজ এর হরেক রকমের সামুদ্রিক খাবার; ছবি : সংগৃহীত


গুলশান ২ নম্বর থেকে বারিধারার দিকে সামনে এগোলে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের ঠিক বিপরীত দিকে সল্টজ রেস্তোরাঁ। ২০০৩ সাল থেকে রেস্তোরাঁটির যাত্রা শুরু হয়। সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি। কিন্তু মাঝে দুপুর সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। বয়সে যেমন প্রাচীন তেমনই মানের দিকেও আপোষহীন সল্টজ রেস্টুরেন্ট। ২০১৪ সালে ভোজনপ্রিয়দের ওয়েবসাইট 'ঢাকা ফুডিস'-এর পর্যালোচনায় সেরা সামুদ্রিক রেস্তোরাঁর মর্যাদা পেয়েছে সল্টজ। দেশি খাবারের মাঝে রূপচাঁদা, ম্যাকারেল, টুনা, সামুদ্রিক কাঁকড়া, রেড স্ন্যাপার, ভেটকি, সুরমা মাছ, কাটল ফিশ, দেশি স্কুইড ইত্যাদি পাওয়া যায়। বিদেশি খাবারের মাঝে ট্রাউট, স্যামন, স্ক্যালপস, বড় স্কুইড ইত্যাদি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন : শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত ও মজাদার তিন সামুদ্রিক খাবার

মারমেইড গ্যালারি ক্যাফে

বারিধারার প্রগতি সরণীতে ২০১৩ সালের নভেম্বরে মারমেইড গ্যালারি ক্যাফের যাত্রা শুরু হয়। আটতলা দালানজুড়ে পুরোটাই মারমেইড রেস্টুরেন্ট। যদি কিচেনের রান্নাবান্না স্বচক্ষে দেখতে চান তবে চলে যাবেন ছয় তলায়। নবম তলায় রুফটপে মারমেইড বিচ ক্যাফে। শুধু সামুদ্রিক খাবার খাইয়ে নয়, সমুদ্রের পাড়ের কৃত্রিম আবহও তৈরি করা হয়েছে ক্যাফেটিতে। পায়ের নিচে নুড়ি, পাথর, বালি রাখা হয়েছে এই আবহ তৈরিতে। টুনা স্টেক, সি-ফুড প্ল্যাটার, গ্রিলড কালামারির, গ্রিলড স্ন্যাপার ফিশ, ক্র্যাব, স্কুইড, টুনা, প্রন, স্যামনসহ বিভিন্ন পদের সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায় এখানে। শুধু সামুদ্রিক খাবারই নয়, মারমেইড ক্যাফেতে বারবিকিউ উপভোগ করতে পারবেন। সামুদ্রিক এসব খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত সামুদ্রিক উপকরণ যেমন সামুদ্রিক মাছ, লবস্টার, স্কুইড ইত্যাদি সরাসরি কক্সবাজার থেকে প্রতিদিনই আনা হয়।

ফিশ এন্ড কো:

fish & co ফিশ এন্ড কো

ফিশ এন্ড কো:-এর সী ফুড ইন এ প্যান; ছবি : সংগৃহীত


গুলশান ১ এ ফিশ এন্ড কো:-এর স্লোগান হলো 'সি ফুড ইন এ প্যান'। এটি মূলত সামুদ্রিক খাবার নিয়ে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক চেইন রেস্তোরাঁ। রেস্তোরাঁর খাবারের উপকরণ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। রেস্তোরাঁর একটি নিয়মিত খাবার হলো চিংড়ি, ভাজি- সালাদ- সালুন সবকিছুতেই পাবেন চিংড়ি। ফিশ অ্যান্ড চিপস, সি-ফুড প্ল্যাটার, গ্রিল্ড সলমন, পেরি পেরি প্রন, স্কুইড ক্যালামারির ফ্রায়েড বা গ্রিলড ইত্যাদি পাওয়া যায়। নীল ঝিনুকের শাস পাওয়া যায় এখানে।

আরও পড়ুন : কাঁকড়ার বিচে সাম্পান রিসোর্ট, কক্সবাজার


ক্লাউড ব্রিস্টো

bistro বিস্ট্রো

ক্লাউড বিস্ট্রোতেও মিলবে বিভিন্ন পদের মজাদার খাবার; ছবি : সংগৃহীত


সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁর জগতে নবীন বলা চলে ক্লাউড ব্রিস্টো রেস্তোরাঁকে। নবীন হলেও ফিশারম্যান বাকেট, এশিয়ান স্টাইল চিলি ক্র্যাব, সি-ফুড কারি ইত্যাদি এরই মধ্যে ভোজন প্রেমীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা গুলশান বা বনানীতে গিয়ে সামুদ্রিক খাবার খেতে পারছেন না দূরত্বের জন্য, তাদের জন্যেই পান্থপথে প্রতিষ্ঠা ক্লাউড ব্রিস্টো রেস্তোরাঁর।  

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম


তথ্যসূত্র: https://www.google.com/amp/www.prothomalo.com/amp/life-style/article


Click Here To See More