সিকিমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ছবি : ট্রাভেল ট্রায়াঙ্গেল
সিকিম বরাবরই ঘুরে বেড়ানোর জন্য আদর্শ এবং জনপ্রিয় জায়গা। সিকিমে ঘুরাঘুরির জায়গার লিস্টে অন্যতম হয়ে উঠতে পারে পাকইয়ং ও ইয়াকতেন গ্রাম।
৪৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পাকইয়ং এই নির্মিত হয়েছে সিকিমের বিমানবন্দর যাকে বলা হয়ে থাকে সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দর। সারা দেশ থেকে পর্যটকেরা এখানে আসে বিধায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ ভাল। এছাড়া মাত্র ২৮ কিমি দূরেই রয়েছে সিকিমের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান গ্যাংটক।
শিলিগুড়ি বা এনজেপি স্টেশন থেকে গাড়িতে এলে গ্যাংটকগামী রাস্তায় রানিপুল থেকে ডান দিকে আলাদা হবে পাকইয়ং-এর রাস্তা। পথেই পড়বে সারাম্সা উদ্যান। বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, অর্কিড দিয়ে সাজানো এই উদ্যানটি সত্যিই দেখার মতো।
থাকার জায়গা
পাকইয়ংয়ে রাত্রিবাসের জন্য বেছে নিতে পারেন ১০৪ বছরের প্রাচীন বাড়ি যেখানে গড়ে উঠেছে ‘অ্যালপাইন হোমস্টে’। প্রাচীন আবহে সজ্জিত অন্দরের সাথে যোগ হয়েছে আধুনিক সুযোগসুবিধা যা একইসাথে মনোমুগ্ধকর এবং যথেষ্ট বিরল।
দর্শনীয় স্থানগুলি
গাড়ি ভাড়া করে দেখে নেয়া যাবে পাকইয়ংয়ের আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলি। পাকইয়ং থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট্ট অথচ সুন্দর গ্রাম ইয়াকতেন। পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে ছোট গ্রামটি। এই গ্রামটি মূলত অর্কিডের জন্য বিখ্যাত। সৌন্দর্যের সুবাদে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এখানেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু হোমস্টে। রয়েছে নানারকম অর্কিড সম্বলিত নার্সারি।
পাকইয়াং-এ নির্মিত আধুনিক বিমানবন্দর। ছবি : ট্রাভেলগ ইন্ডিয়া
ইয়াকতেন থেকে প্রায় ৪০-৫০ মিনিটের ঘন জঙ্গল পার হয়ে যাওয়া যায় ঝান্ডিদাড়ায়। প্রায় ৬৭০০ ফুট উঁচু বলে সাধারণত এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষেরা এই যাত্রায় বেশি যান। এই চড়াই পথ পার হলে আপনার জন্য অপেক্ষা করবে সোনার পাহাড় কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাবরু, রাথং, কুম্ভকর্ণ, কোকতাং, পান্ডিম, সিনিয়ালচু-সহ এক বিস্তৃত পর্বত অঞ্চল।
সঙ্গে আরও দেখবেন রোচেলা টপ (যেটি অতিক্রম করে চলে যাওয়া যায় ভুটান), নাথুলা অঞ্চলের গিরিশ্রেণি, কালিম্পং পাহাড় ইত্যাদি। এখানে সূর্যোদয়ের দৃশ্যও মনোমুগ্ধকর।
ইয়াকতেন, ঝান্ডিদাঁড়া দেখে চলে আসতে পারেন পাকইয়ং-এই। পাকইয়ং বাজারের কাছেই আছে ২০০ বছর প্রাচীন ‘সেরেনডিপিটি মিউজিয়াম’ কাঠের তৈরি একটি বাড়ির একতলায় গড়ে উঠেছে এক সংগ্রহশালা। সিকিমের বিভিন্ন সময়ের রাজাদের আমলের দুষ্প্রাপ্য চিঠি ও ছবি, প্রাচীন মুদ্রা, অস্ত্রশস্ত্র, মূর্তি, স্ট্যাম্প ইত্যাদি সযত্নে সংরক্ষিত আছে ছোট্ট এই মিউজিয়ামে।
কোনও প্রবেশমূল্য লাগে না মিউজিয়ামটি দেখার জন্য। মিউজিয়াম দেখে চলে যেতে পারেন বোজেটার, ওয়েসিস অব পিস পার্ক, প্রাচীন গুহা, ভিউ পয়েন্ট ইত্যাদি।
ইয়াকতনের ঝান্ডিদাঁড়া হতে কাঞ্চনজঙ্গার দৃশ্য; এটি কাঞ্চনজঙ্গার সান রাইজ পয়েন্ট হিসেবেও জনপ্রিয়। ছবি : ট্রিপ এডভাইজর
যেভাবে যাবেন :
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে পাকইয়ংয়ের দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার। পুরো গাড়ি রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ৩০০০-৪০০০ টাকা। কম খরচে আসতে চাইলে এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকগামী শেয়ার জিপ (ভাড়া মাথাপিছু ৩৫০-৪০০ টাকা) বা বাস (মাথাপিছু ভাড়া ১২০ টাকা) ধরে নেমে পড়ুন রানিপুল। সেখান থেকে শেয়ার জিপ বা গাড়িভাড়া করে পৌঁছে যান পাকইয়ং। পাকইয়ং সাইটসিয়িং-এ পুরো গাড়ির খরচ পড়বে ১৫০০-২০০০ টাকা।
থাকা যাবে :
পাকইয়ংয়ে রাত্রিবাসের জন্য আছে ‘অ্যালপাইন রিট্রিট’। দ্বি-শয্যা ঘরে থাকাখাওয়া নিয়ে মাথাপিছু খরচ পড়বে ৮০০-১,০০০ টাকা। এ ছাড়া, ইয়াকতেন গ্রামেও রয়েছে কিছু হোমস্টে, একই ভাড়ায়।
বি:দ্র: সিকিমের যেকোনো জায়গায় যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা এবং দূষণ ঘটানো দণ্ডনীয় অপরাধ তাই পরিবেশ দূষণ করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।