সুগন্ধা বিচ: কক্সবাজারের দর্শনীয় বিচ পয়েন্টগুলোর একটি

সুগন্ধা বিচে মানুষের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি



সুগন্ধা বিচ

সুগন্ধা বিচ। ছবি : সংগৃহীত



পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত আমাদের বাংলাদেশের কক্সবাজার, সৈকতের আশেপাশে মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই আছে বেশ কয়েকটা সৈকত। আর বেশিরভাগ পর্যটকরা ভিড় করে এখানেই। বিশেষ করে সুগন্ধা বিচে আনাগোনা বেশি মানুষের। সুগন্ধা বিচের আশেপাশে আছে অনেকগুলো সামুদ্রিক মাছের দোকান পাবেন, এমনকি শুটকি মাছের দোকানও পাবেন, যা ই কিনেন না কেনো চেষ্টা করবেন দামাদামি করে নেওয়ার জন্য। মাছের মধ্যে আছে, লাল কোরাল, অক্টোপাস, কাকড়া, চিংড়ী, রূপচাঁদা, টুনা মাছ আরও নানা রকমের মাছ। চাইলেই আপনি ওখানে বসেই ফ্রাই করে খেতে পারবেন।

চিত্ত বিনোদনের জন্য আছে, ঘোড়া রাইড যা প্রতি ৩০ মিনিটে নিবে ২৫০-৩০০ টাকা, পানির ওপরে ভেসে বেড়ানোর জন্য আছে টিউবের ব্যবস্থা, যা প্রতি ঘণ্টা নিবে ৩০ টাকা করে। ক্লান্ত শরীরে শুয়ে বসে থাকার জন্য আছে খাটের ব্যবস্থা যা প্রতি ঘণ্টা প্রতি নিবে ৩০ টাকা করে। ঘোড়া ও বিচ বাইকে চড়া, প্যারাসাইলিং কিংবা ঘুড়ি উড়ানো, বিচ বোট চালানো কিংবা সার্ফিং ইত্যাদিসহ আরও অনেক কিছুর অভিজ্ঞতা পেয়ে যাবেন। চেয়ারে বসে সমুদ্র উপভোগ কিংবা হেঁটে হেঁটে সুউচ্চ পাহাড় পরিভ্রমণ করতে পারবেন।

শান্ত সকাল হতে প্রাণোচ্ছল বিকেল কিংবা পূর্ণিমা রাতের মতো নিজেকে রঙিন করে নেয়া যাবে। সেই সাথে সমুদ্র স্নানে নিজেকে ক্লান্তিমুক্ত করে তুলুন। আপনার একঘেয়েমিতা দূর হবে! অন্যদিকে, বার্মিজ পণ্য কেনা কাটার জন্য বার্মিজ মার্কেট, ঝিনুক পণ্য কেনা কাটার জন্য ঝিনুক মার্কেট, ভোজন-রসিকদের জন্য সুস্বাদু স্থানীয় খাবার, বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক হোটেল-মোটেল-কটেজ – এ সবকিছুর জন্যই কক্সবাজার ভ্রমণ বা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।


বিচ ফটোগ্রাফি :

কয়েকশত মানুষ বিচের পাশেই দাড়িয়ে থাকবে ক্যামেরা হাতে করে নিয়ে চাইলেই আপনি তাদের দ্বারা ছবি তুলে নিতে পারেন, প্রতি ছবি নিবে ২-৪ টাকা (দামাদামি করে নিবেন) সাথে সাথে আপনার মোবাইলে উনারা দিয়ে দিবে।


ঢাকা থেকে কক্সবাজারে কি ভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বাসে বা বিমানে করে যেতে পারেন। তাছাড়া, ট্রেনে করে চিটাগাং গিয়ে সেখান থেকে বাসে করেও কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগবে প্রায় ১১/১২ ঘণ্টা, বিমানে প্রায় ৫৫/৬০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া পরবে ৮,০০-২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার নামী-দামী সব ধরনের বাস।


সুগন্ধা বিচের আশে পাশে হোটেল সমূহ :

থাকার জন্য ৫ তারকা সমমানের অনেক হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এছাড়াও ৪ তারকা, ৩ তারকা এবং আরও নিম্নমানের হোটেলও আছে। তবে, বিচের আশেপাশের বেশীরভাগ হোটেলই ভাল মানের হোটেল। বেশীরভাগ হোটেল ও রিসোর্ট সুগন্ধা পয়েন্টের আশেপাশে অবস্থিত। সুগন্ধা বিচের আশেপাশে হোটেলের নাম ও ফোন নাম্বার :

কক্সবাজারে থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলো হচ্ছে :

সায়মন বিচ রিসোর্ট (০৯৬১০৭৭৭৮৮৮, ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭)

ওশান প্যারাডাইস হোটেল এন্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯)

লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬)

সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০)

হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৪৯, ০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২)

হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)

হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০১৯৩৮৮১৭৫০১-১২, ০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫)

হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০,০৩৪১-৬৪৭৯৫।

সমুদ্রে নামার আগে সতর্কতা ও অন্যান্য তথ্য :

সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। এ সম্পর্কিত ইয়াসির লাইফ গার্ডেও বেশ সাইনবোর্ড ও পতাকা রয়েছে বিচের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় সমুদ্রে নামা নিরাপদ। এ সময় তাই জোয়ারের সময় নির্দেশিত থাকে, পাশাপাশি সবুজ পতাকা ওড়ানো হয়। ভাটার সময়ে সমুদ্রের বিপজ্জনক ভাটার টানে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারে যে কেউ। তাই এ সময় বিচ এলাকায় ভাটার সময় লেখাসহ লাল পতাকা ওড়ানো থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকুন। কোনোভাবেই দূরে যাবেন না।প্রয়োজনে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইয়াছির লাইফ গার্ডের সহায়তা নিন। ওদের জানিয়ে বিচে নামুন।  

সাব্বির হোসেন    এস এম