সুপারশি আইল্যান্ড : যে দ্বীপে পুরুষের প্রবেশাধিকার নেই
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নো ম্যানস ল্যান্ড খ্যাত ফিনল্যান্ডের সুপারশি আইল্যান্ড

অবস্থান
সুপারশি দ্বীপ বাল্টিক সাগরে ফিনল্যান্ডের উপকূলে অবস্থিত। এই দ্বীপের মালিক হলেন এক মার্কিন নারী যার নাম ক্রিস্টিনা রথ। তিনি পেশায় একজন বিজনেস কনসালট্যান্ট। এখন ভাবতে পারেন শুধুমাত্র নারীদের জন্য দ্বীপ গড়ে তোলার চিন্তা কেন তার মাথায় আসলো। না, তিনি কোনও পুরুষবিদ্বেষী বা কট্টর নারীবাদী চিন্তা থেকে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেননি। একবার কোনও এক ছুটি কাটাতে গিয়ে ক্রিস্টিনা রথ খেয়াল করেন যে নারীরা কোনও সুদর্শন পুরুষ দেখলেই নিজেকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আশেপাশে পুরুষ কাউকে দেখলেই সতর্ক হয়ে পড়েন নিজেদের পোশাক-আশাক নিয়ে।নারীদের দ্বীপ
ছুটি কাটাতে এসে আশেপাশের সৌন্দর্য উপভোগ না করে, নিজের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তারা ব্যস্ত থাকে পুরুষের মনোযোগের আকর্ষণে। এই ব্যাপারটি উপলব্ধির পর তার মাথায় আসে একটি দ্বীপ গড়ে তোলার যা শুধুই হবে নারীদের। যেখানে থাকবেনা কোনও পুরুষ, আর নারীরা নিজের স্বাধীন মতো অবকাশ যাপন করতে পারবেন। নিজের খেয়াল খুশি মতো চলাফেরা করতে পারবেন। তার কিছুদিন পরই ক্রিস্টিনা খোঁজ পেয়ে যান এই দ্বীপটির। দ্বীপটি কিনে নিয়ে এটিকে বিলাসবহুল করে সাজিয়ে তোলেন শুধুমাত্র নারীদের অবকাশ যাপনের জন্য। নারীরা নিজের মতো থাকো, নিজের মতো বাঁচো, নিজের উপর মনোযোগ দেও- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই দ্বীপটিকে সাজিয়ে তুলেছেন ক্রিস্টিনা।আরও পড়ুন : ইস্টার আইল্যান্ড : মহাসাগরে বিশালাকার মূর্তির রহস্যঘেরা দ্বীপ

আশেপাশে কে আছে না আছে সব ভুলে গিয়ে নিজেদের মতো করে আনন্দে মেতে উঠতে পারেন। এখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিলাসবহুল রিসোর্ট। নানান সুযোগ-সুবিধার সাথে বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগে পরিপূর্ণ এই দ্বীপটি নারীদের জন্য এক স্বর্গ। পুরুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা নিয়ে নেই কোনও ভাবনা। মনের আনন্দে এখানে নারীরা তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ নিজেদের দিকে দিতে পারেন। জগতের সকল দুশ্চিন্তা কিছুদিনের জন্য ভুলে গিয়ে আনন্দে মেতে উঠার দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছে এই দ্বীপ। সম্পূর্ণ নিরাপদ এই দ্বীপে নারীরা নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করবেন এবং পুনর্জীবিত হয়ে উঠবেন। এখানে সব বয়সী নারীদের জন্য সুস্থতা, ফিটনেস এবং পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : মায়াদ্বীপ মনপুরা ঘুরে এসে

সেই সাথে প্রতিদিন নানান ফিটনেস ও রান্নার কোর্স করার ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়াও আছে যোগ ব্যায়াম ও মেডিটেশনের ক্লাস। আর নানা স্বাদের খাবারের আয়োজন তো আছেই। এই দ্বীপের টিকিট কাটার আগে ইন্টারনেটে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। স্কাইপের মাধ্যমে দিতে হবে এই সাক্ষাৎকার। এরপরই দ্বীপে ঢোকার অনুমতি মিলবে। নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে পাঁচদিনের জন্য থাকতে হলে খরচ পরবে ৩ হাজার ইউএস ডলার থেকে ৬ হাজার ইউএস ডলার। অর্থাৎ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মত খরচ পড়বে এই দ্বীপটিতে থাকতে।
রুবাইদা আক্তার এস এম