বিভিন্ন জেলার সূর্যমুখী ফুলের বাগান
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: বাণিজ্যিক সুবিধার প্রসারের কারণে দেশের নানা জায়গাতেই চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল

আরও পড়ুন : সাবদি : যে গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে ফুলের গাছ
এখন সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এই একবর্ষী সূর্যমুখী ফুলের চাষ। তবে উত্তরবঙ্গের জেলা গুলোতে সূর্যমুখীর চাষ তুলনামূলকভাবে বেশি। সূর্যমুখী ফুলের কোনও অংশই বলতে গেলে ফেলনা নয়। এই ফুল থেকে তেল ছাড়াও এর খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং এই ফুলের গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর এই ফুলের বীজে ৪০-৪৫ শতাংশ লিনলিক এসিড থাকে এবং এর থেকে তৈরি তেলে ইউরিক এসিড না থাকায় তা হার্টের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। চাইলে এই সূর্যমুখী ফুলের বাগানগুলো ঘুরে দেখে আসতে পারেন।
মৌলভীবাজার 
ফরিদপুর
ফরিদপুর শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে ডোমরাকান্দি গ্রাম অবস্থিত। এই গ্রামের পাশ দিয়েই তৈরি হয়েছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক। আর এই মহাসড়কের পাশেই চোখে পড়বে দুই একর জায়গা বিস্তৃত নয়নাভিরাম সূর্যমুখীর হলুদ বাগান। সরকারি উদ্যোগেই এখানে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়। বাগানটি তৈরি হয়েছে বীজ ভবনের নিজস্ব জমিতেই আর এর তত্ত্বাবধায়ক বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। শুধুমাত্র বীজ সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়েই প্রায় এক যুগ সময়কাল সূর্যমুখী ফুল চাষ করা হচ্ছে এখানে।এই সূর্যমুখী বাগান থেকেই পুরো দেশের 'ডাল তেলবীজ' খামারগুলোতে সরবরাহ করা হয় বীজ। এই বাগান দেখা-শোনার সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন মালী এনায়েত হোসেন। প্রায় এগারো বছর ধরে এই কাজ করছেন তিনি। বাঁশ দিয়ে বানানো একটি চোঙা নিয়ে ভিন্ন রকম শব্দ করে পাখি তাড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি। প্রায় ২০ হাজার সূর্যমুখী ফুলের এই বাগান বেলা বাড়তে থাকার সাথে সাথে ব্যস্ত হয়ে ওঠে দেখতে আসা লোকজনের আনাগোনায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আরও পড়ুন : সূর্যমুখী ফুলেদের সাথে একদিন
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর মাধবরাম গ্রামে প্রায় সাত একর পতিত অনাবাদী জমিকে কাজে লাগিয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এই গ্রামে চাষ করা সূর্যমুখী ফুল থেকে তেলের পাশাপাশি তৈরি হয় পাখির খাবারও। দ্বীপ এবং চরগুলোতে কৃষি বিভাগের প্রণোদনার মাধ্যমে বেশ খানিকটা জমিকে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে এলাকার চিত্র। প্রতিদিনই এখানে সূর্যমুখী ফুল দেখতে চলে আসেন পর্যটকরা।
রাঙামাটি 
খুলনা
খুলনা জেলার উপকূলবর্তী উপজেলা কয়রায় সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে লবণাক্ত পতিত জমিতে। স্বল্প খরচেই বাম্পার ফলনের মাধ্যমে লাভবান হওয়ায় আশাবাদী কৃষকরা। ধান লাগানোর পর আমন মৌসুমে জমিগুলো এমনিই পড়ে থাকতো। পরবর্তীতে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগিতায় সেই পড়ে থাকা জমিগুলোতে শুরু হয় সূর্যমুখী ফুলের চাষ। ফলনও বেশ ভালোই হয় দেখে এলাকার বাকি কৃষকরাও সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি বিভাগের মতে, সূর্যমুখী চাষে অনাবাদী জমির পরিমাণ তো কম্বেই সাথে স্থানীয় সূর্যমুখী তেলের চাহিদাও পূরণ হবে। কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের চন্ডীপুর গ্রাম এবং দুই নম্বর কয়রার এক হেক্টর জমিতে শোভা পেয়েছে হলুদের অপরূপ সৌন্দর্য।ফারিয়া এজাজ এস এম
Click Here To See More