ট্রেনে ভ্রমণ সবসময়েই উপভোগ্য। আর এই ট্রেন ভ্রমণ যদি হয় ইউরোপের কোন দেশের তবে ভ্রমণ আনন্দ অনেকগুণই বেড়ে যাবে। এছাড়াও রোমান্টিক ভ্রমণের বেশ জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে স্লিপার ট্রেনের ভ্রমণ। সাধারণত ইউরোপের দেশগুলোর এক দেশের সাথে অন্য দেশের যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ট্রেন।
পাশাপাশি আপনি ইউরোপের দু-প্রান্তের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন এই ট্রেনে ভ্রমণের মাধ্যমে। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক ইউরোপের বিখ্যাত স্লিপার ট্রেন সম্পর্কে।
রয়্যাল স্কটসম্যান, দ্য স্কটিশ হাইল্যান্ড, ইউকে
ফাইভ স্টার হোটেলের মতো বিলাসবহুল নানান সবুধিয়া রয়েছে ট্রেনটিতে; ছবি : বেলমন্ড ডট কম
স্কটল্যান্ডের বিলাসবহুল এই ট্রেন স্কটিশ হাইল্যান্ড দিয়ে যাতায়াত করে। ট্রেনটি এক প্রকার চলন্ত ফাইভ স্টার হোটেলের মতো। পোলিশ কাঠের আসবাব, এন্টিক বিভিন্ন জিনিষসহ সুরুচিকর ভাবে ট্রেনের অভ্যন্তর সাজানো হয়েছে। এখানের সার্ভিস অত্যন্ত ভালো। এই ট্রেনে একসাথে মাত্র ৩৬ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারে।
স্টাফ এবং যাত্রীর অনুপাত ৩:১। তাই যাত্রীরা বেশ ভালোভাবেই আপ্যায়িত হয়। ট্রেনের টিকেটের সাথেই খাবার খরচ, বার, শুটিং এবং ক্যাসেক ভ্রমণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ট্রেনে থেকে স্কটিশ হাইল্যান্ড দিয়ে ভ্রমণে আপনি পাহাড়ের চুড়ার ভিউ পাবেন। যা খুবই অসাধারণ।
নর্দান স্পেনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ মিলবে এল ট্রান্সকানটাব্রিকো ট্রেন যাত্রায়; ছবি : লাক্সোট্রেন
নীল এবং সাদার সমন্বয়ে এই ট্রেন নর্দান স্পেনে যাতায়াত করে। বিলাসবহুল এই ট্রেনে আপনি সান্টিয়াগো দে কম্পস্টেলা থেকে লিওন কিংবা লিওন থেকে সান্টিয়াগোতে ফিরতে পারবেন। নর্দান স্পেনের সৌন্দর্য আপনি ট্রেন থেকে উপভোগ করতে পারবেন। এই ট্রেনেও আপনি ফাইভ স্টার হোটেলের অভিজ্ঞতা পাবেন।
এর অভ্যন্তর অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে।
খাবার খরচ, আর্ট গ্যালারি, বিভিন্ন স্তম্ভ দেখার খরচও টিকেটে অন্তর্ভুক্ত থাকে। ট্রেনে রয়েছে ছয়টি স্লিপার এবং প্রতিটি স্লিপারে ৪টি সুইট। প্রতি সুইট ১২৯ বর্গ ফুটের যেখানে ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ডাইনিং অপশন আছে। পর্যটক তাদের ইচ্ছেমতো সুইট বুক করার সুবিধা রয়েছে এই ট্রেনটিতে।
দানুবে এক্সপ্রেস ট্রেন, বুদাপেস্ট এবং ইস্তানবুল
ট্রেনে করেই এক সপ্তাহের বেশি সময় ঘুরতে চাইলে দানুবে এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন; ছবি : লাক্সারি ট্রেন ক্লাব
এই ট্রেন বুদাপেস্ট এবং ইস্তানবুলে যাতায়াত করে। ক্লাসিক এবং আধুনিকতার সুন্দর এক মেলবন্ধন এই ট্রেনটি। বিলাস বহুল এই ট্রেন বুদাপেস্ট থেকে যাত্রা শুরু করে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের মাধ্যমে ইস্তানবুলে এসে পৌছায়।
যাত্রা পথে হাঙ্গেরি, ট্রান্সেল্ভানিয়ার ড্রাকুলা ক্যাসেল, টপকাপি প্যালেসসহ আরও অনেক কিছু দেখতে পাবেন। এই ট্রেন ভ্রমণের সময়সীমা ৮ দিন ব্যাপী। সব ধরনের খাবার এবং থাকার খরচ টিকেটে অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়াও ফাইভ স্টার হোটেলের ন্যায় সব ধরনের সুবিধা পাবেন এই ট্রেনে।
বৈকাল হ্রদের তট ধরে ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ের যাত্রা; ছবি : উইকিপিডিয়া
৭ দিনের এই ট্রেন যাত্রা বেশ আইকনিক। ৮টি টাইমজোন ধরে এই ট্রেন যাত্রা যা মস্কো, মঙ্গোলিয়া, চিন এবং নর্থ কোরিয়া জুড়ে যাতায়াত করে। এটির যাত্রাপথ ৯ হাজার ২৮৯ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। এর বিভিন্ন মানের টিকেট রয়েছে। তবে লম্বা যাত্রার জন্য বেশিরভাগ পর্যটক একটু আরামদায়ক ভাবেই ভ্রমণ করেন। অর্থাৎ বিভিন্ন সার্ভিস যুক্ত করেন।
ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, ইস্তানবুল এবং ভেনিস
ভেনিস ও ইস্তানবুলের মাঝে ভ্রমণ করতে পারবেন ওরিয়েন্টাল এক্সপ্রেসে চড়ে; ছবি : অডলি ট্রাভেল ডট কম
লেজেন্ডারী এই ট্রেনটি ৭০ এর দশকে তুমুল জনপ্রিয় ছিল। অগাস্ট ক্রিস্টির লেখনীতে এই ট্রেনের উপর ভিত্তি করে সিনেমাও নির্মিত হয়েছে। একটি প্রাইভেট কোম্পানি রিফার্বিশ করে ট্রেনটি সচল রেখেছে যা ভেনিস এবং ইস্তানবুলের মাঝে সংযোগ বজায় রাখে।
সবকিছুতেই আপনি পুরনো আমলের ছোঁয়া পাবেন এই ট্রেনে। বুদাপেস্ট এবং ভিয়েনাতে এটি যাত্রাবিরতি দেয়। বেশ উপভোগ্য এই ট্রেনে করে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ। একই সাথে একের অধিক দেশ দেখার সুযোগ হয় এতে। সুযোগ পেলে অবশ্যই এই ট্রেনে ভ্রমণ করার চেষ্টা করবেন।