ঐতিহ্য, বাঙালিয়ানা ও আধুনিকতায় সবার প্রিয় আড়ং

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দেশীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড

আড়ং আড়ং মানেই ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ছবি : আড়ং

বাংলাদেশের হস্ত ও কারুশিল্পের পণ্য কেনাকাটায় ভরসার অপর নাম আড়ং। আড়ংই প্রথম দেশীয় পণ্য ও হস্তশিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করে। গ্রামীণ কারুশিল্পের সাথে আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি আড়ং-এর পণ্য বরাবরই সমাদৃত হয়ে আসছে। দুই যুগের ও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা আড়ং আজ বাংলাদেশের ফ্যাশান হাউজগুলোর অন্যতম প্রধান জায়গা দখল করে রয়েছে।

আড়ং-এর জনপ্রিয়তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও স্থান করে নিয়েছে। আড়ং অর্থ 'গ্রাম্য মেলা'। গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পুঁজি করেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের প্রধান ফ্যাশান ব্র্যান্ড আড়ং। আড়ং এনজিও প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৮ সালে আয়েশা আবেদ ও মার্থা চেন এর হাত গড়ে উঠে এই ফ্যাশান হাউজ। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদ আড়ং-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

দেশের হস্ত ও কুটিরশিল্পে জড়িত নারীদের কাজগুলোকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই মূলত আড়ং এর জন্ম। বর্তমানে বাংলাদেশে আড়ং এর ২১টি আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৩টি এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় রয়েছে এই ফ্যাশান হাউজের শাখা। এছাড়া দেশের বাইরে লন্ডন ও ইউকে'তে আড়ং-এর শো-রুম রয়েছে। আড়ং ছবি : আড়ং 

বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গ্রামীণ নারীসমাজকে যুক্ত করে কীভাবে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা যায়, সেই প্রকল্প থেকেই আড়ং-এর ভাবনা শুরু হয়। গ্রামীণ নারীদের হাতের দক্ষতায় তৈরি পণ্যসমূহ বিক্রয়ের জন্য পূর্বে নির্দিষ্ট কোনো প্লাটফর্ম ছিল না। আয়েশা আবেদ নারীদের এই দুরবস্থা দেখে চিন্তা করলেন তাদের হাতে তৈরি কাজগুলো শহরে নিয়ে যাবেন। তিনি তৈরি পণ্য ঢাকায় বিভিন্ন দোকানে দেওয়া শুরু করলেন।

কিন্তু এভাবে গ্রামের নারীকর্মীদের পন্যমূল্য বুঝে পেতে বেশ বিলম্ব হতো। তাই আয়েশা আবেদ নিজেই ক্ষুদ্র পরিসরে কারুশিল্পীদের পণ্য বাজারজাত শুরু করেন। ঢাকার সোবহানবাগে চালু করলেন আড়ং-এর প্রথম বিক্রয়কেন্দ্র। সেখান থেকেই যাত্রা শুরু হয় দেশীয় ফ্যাশানের ধারক ও বাহক আড়ং-এর। দেশের আবহমান ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এই দেশের কারু ও হস্তশিল্পকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেই আড়ং কাজ করে চলছে।

বাংলাদেশে ঐতিহ্যকে ধরে রেখে গ্রামীণ নারীসমাজকে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছে এই ফ্যাশান হাউজ। নানারকম প্রশিক্ষণ দিয়ে নিত্য নতুন কাজের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে গ্রামের কারুশিল্পীদের। নিজেদের ৬৫ হাজার এবং স্বতন্ত্র ৩৫ হাজার কারু ও হস্তশিল্পীর উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি হচ্ছে দেশজুড়ে আড়ংয়ের ২১টি আউটলেটে। আড়ংয়ের পণ্য উৎপাদিত হয় ১৪টি কারখানায়, এসব কারখানার অধীনে আবার দেশজুড়ে ৬৫৪টি সাব-সেন্টার রয়েছে। বিভিন্ন পণ্য, আড়ং আড়ং শো-রুমে কারুশিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য। ছবি : আড়ং 

পণ্যের মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রনে আড়ং সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আড়ং-এ তৈরি পণ্যের বেশিরভাগ কাঁচামালই দেশীয়। আড়ংয়ের পোশাক তৈরিতে হাতে বোনা তাঁত থেকে উৎপাদিত কাপড় ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রেশম পোকার গুটি থেকে চাষ করা হচ্ছে রেশম সুতা। তৈরি করেছে রেশম সুতোয় বোনা উন্নতমানের সিল্ক কাপড়।

মাটি ও কাঠের নান্দনিক ব্যবহার চালু করতেও আড়ং এর রয়েছে বড় ভূমিকা। শুধু কাপড় নয়, আড়ং-এর কারুশিল্পীরা চমক দেখিয়েছে বাঁশ, বেত, সুতা, শলা দিয়ে তৈরি পণ্যে। দেশীয় নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্যের মান ও নকশা নিয়ে নিত্য নতুন উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে আড়ং।

আড়ং এর পণ্যসমূহ :

আড়ং বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম কুটিরশিল্পের প্রতিষ্ঠান। এদের তৈরি সকল পণ্যেই পাওয়া যায় দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। আড়ং এর হাতে তৈরি পোশাক ছোটবড় সকলের কাছেই জনপ্রিয়। এছাড়া ঘরদোর সাজানোর জিনিসপত্র, গহনাগাঁটি, নানা ধরনের হস্তশিল্পের বিশাল কালেকশন রয়েছে এখানে। ফ্যাশান সচেতন নারীদের আড়ং-এর পোশাকই প্রথম পছন্দ। নারীদের জন্য আড়ং-এর রয়েছে সর্ববৃহৎ কালেকশন। সালোয়ার-কামিজ থেকে শুরু করে শাড়ি, কুর্তি, ওয়ান পিস, পাজামা, ওড়না কি নেই এদের শোরুমে! এছাড়াও ব্যাগ, জুতা, গহনার সমাহার রয়েছে এখানে। এখানকার সব পণ্যই নিজস্ব হাতে বোনা। জামা, শাড়ি, ব্যাগের উপর সুতা দিয়ে হাতের নিখুঁত কাজ সবাইকে মুগ্ধ করে।aarong দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ছবি : চ্যানেল আই অনলাইন

পুরুষদের জন্য় আড়ং-এর কালেকশনে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, জুতা। এছাড়াও ছেলেদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত মানিব্যাগ, বেল্ট ও পাওয়া যায় এখানে। বাচ্চাদের জন্য সুন্দর সুন্দর পোশাকের জন্য সকলের প্রিয় গন্তব্য আড়ং-এর শোরুম। আড়ং-এর হস্তশিল্পের তৈরি জামা, ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট, জুতোসহ অনেক কালেকশন রয়েছে আড়ং-এ। নিজস্ব দেশীয় ধাঁচে ঘর সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র পাওয়া যায় আড়ং-এ।

যারা ঘর সাজানোয় বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে চায় তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান এটি। এখানকার বেশিরভাগ পণ্যেই ফুটে উঠেছে এই দেশের কৃষ্টি- সংস্কৃতি। নকশি কাঁথার বিছানার চাদর, ওয়াল ম্যাট, বালিশের কভার ঘর সাজানোর অন্যতম উপকরণ। আরও আছে মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিস, মোমবাতি, ফটো ফ্রেম, টেবিল ল্যাম্প ইত্যাদি। আড়ং-এর গহনাগুলো বরাবরই নারীদের পছন্দের শীর্ষে।

এখানে মাটির তৈরি কারুকার্যমণ্ডিত বিভিন্ন গহনা পাওয়া যায়। আবার এদের সোনা, রূপা, মুক্তার তৈরি গহনা গুলো সকলের নজর কাড়তে বাধ্য। ভিন্নধর্মী ডিজাইনের কানের দুল, গলার হার, হাতের চুড়ির বেশ ভালো কালেকশন দেখা যায় এখানে।

আউটলেট সমূহ :

1. Aarong Dhanmondi 1, House -1/1, Block# A, Asad gate, Lalmatia, Dhaka

2. Aarong Dhanmondi 2, Science Lab Mor, Plot- 28/A, Holding-1, Road-2, Dhanmondi

3. Aarong Gulshan, Bir Uttam Mir Shawkat Sarak, Tejgaon Link Road, 204/B-5, Gulshan

4. Aarong Moghbazar Outer Circular Road, 61, Moghbazar

5. Jamuna Future Park, NSU Main campus Road, Basundhara

6. Uttara Flagship Store 7, Jasimuddin Avenue, Uttara

7. Aarong Banani, Concord Modhumoti Plaza, Plot- 11, Road-11, Block- G, Banai

8. Aarong Wari, 41 A.K Famous Tower, Rankin Street, Wari

9. Aarong Mirpur Zoo Road, Plot- 1, Section-1, Mirpur

10. Aarong Basundhara City Shopping Complex, Panthapath

11. Aarong Basabo 1/Gha, Central Basabo

12. Aarong Mirpur 12, Safura Trade City, 142 Sena Nibas Road, Mirpur 12

13. Taaga, Dhanmondi Green City Square, Sat Masjid Road, Dhanmondi C/A

14. Aarong Bogura, Runner Plaza, 7/A, Nowab Bari Road

15. Aarong Sholoshahar Biman Bhaban, 1/2, CDA Avenue, Sholoshahar

16. Aarong Narayangonj, Bangabondhu Sarak

17. Aarong Khulna Eden Plaza, 18/A KDA New Market

18. Aarong Halishahar, Road-1, Block- L, Halishahar

19. Aarong Cumilla, Nazrul Avenue 565/502, Ranir Bazar

20. Aarong Mymensingh, Kali Shankar Guho Road, Notun Bazar বর্তমানে অনলাইন শপিং-এ আড়ং যুক্ত হওয়ায় ঘরে বসেই সবাই পণ্য ক্রয় করতে পারে। অনলাইনে অর্ডার করার জন্য আড়ং-এর ওয়েবসাইট এ যেতে হবে।