কাঁকরোলের সরষে ঝাল পুর : যেন অমৃত আস্বাদন

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মায়ের হাতের রান্না : কাঁকরোলের সরষে ঝাল পুর

ছবি : তন্ময় সরকার তমাল

 বাংলাদেশে কাঁকরোল একটি উপকারি সবজি হিসেবে পরিচিত। দৈনন্দিন জীবনের নানা রকমের রান্নায় কাঁকরোল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় কাঁকরোলের অনেক জাত দেখতে পাওয়া যায়। ফলে এর আকার, আকৃতি, বর্ণ এবং নরম কাঁটার বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিভিন্ন শনাক্ত করা যায়। ৯০-১০০ দিনের মধ্যেই এর ফলন পাওয়া সম্ভব। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুমিল্লা-এর অন্যতম প্রধান উৎপাদন এলাকা। বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন : থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে প্রচুর পরিমাণে কাঁকরোল পাওয়া যায়।

কাঁকরোলের পুষ্টিগুণ : কাঁকরোলে আমাদের দেহের জন্য বেশ উপকারী সবজি হিসেবেই পরিচিত। কাঁকরোলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর পাশাপাশি ভিটামিন হিসেবে ভিটামিন 'এ' ও 'সি' রয়েছে। আমাদের দেহ গঠনে উপকারি বিভিন্ন খনিজপদার্থ ও পাওয়া যায় এই কাঁকরোলে। যেমন- আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম ছাড়াও এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়। এতে আরও থাকে আঁশ জাতীয় উপাদান, স্নেহ, শর্করা, লুটেইন, জিয়াজেন্থিন যা আমাদের সু-স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী  বলেও বিবেচিত। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি লাইকোপিন থাকে, গাজরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে এবং ভুট্টার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি জিয়াজেন্থিন থাকে। কাঁকরোলের উপকারিতা :

ছবি : পদ্মা নিউজ

 কাঁকরোল শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। কাঁকরোল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা জানি, অগ্নাশয়ের বিটাসেল থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কাঁকরোল এই বিটাসেলকে সুরক্ষিত রাখে ও পুনর্গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ইনসুলিন নিঃসরণ ও সংবেদনশীলতা বাড়ায়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঁকরোল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। কাঁকরোলে উপকারী ভিটামিন, বিটাক্যারোটিন থাকায় এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করে এবং চোখের ছানি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

উপকরণ : ৪টি কাঁকরোল, ২ টেবিল চামচ সরিষাবাটা, ২ টেবিল চামচ পোস্তবাটা, ২ চামচ কাঁচা মরিচ বাটা, স্বাদমত লবন, ১/২ (আধা চা চামচ) হলুদের গুড়ো, ১/২ চামচ চিনি, ৪ টেবিল চামচ বেসন।

রন্ধনপ্রণালী : ৪টি কাঁকরোলকে লম্বা করে দুই ফালি করে নিতে হবে। ফালি করা কাকড়োল গুলো সিদ্ধ করে চামচ দিয়ে ভিতরের বীজসহ অংশ বের করে নিতে হবে। পোস্তদানা, সরিষা, কাঁচা লংকা, কাঁকরোলের বীজসহ অংশ একসাথে মিশিয়ে বেটে নিতে হবে। একটি কড়াইয়ে ৩ চা চামচ পরিমান সরিষার তেল নিতে হবে। তেল গরম হয়ে এলে এতে কালোজিরা দিয়ে দিতে হবে। এইবার তেলে মশলার মিশ্রণটি ঢেলে দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিতে হবে। মশলাটা ভাজা হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে। তারপর পূর্বে তৈরিকৃত সিদ্ধ কাঁকরোলের ভেতরে তৈরিকৃত মশলার পুর ভরে নিতে হবে। একটি ছোট বাটিতে ৪ চামচ বেসন, পরিমানমত লবন, অল্প হলুদের গুড়ো, আধা চামচ চিনি নিয়ে তাতে পরিমান মত পানি দিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। তৈরিকৃত বেসন দিয়ে কাঁকরোলের পুড়ের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। পূর্বের কড়াইয়ে পরিমানমত তেল ঢেলে দিয়ে কাঁকড়োলগুলো ভেজে পরিবেশন করুন কাঁকরোলের সরষে ঝাল পুর।  



তথ্যসূত্র : https://www.jugantor.com/todays-paper/features/out-of-home/199896/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%B2