ডিম মসুরের কষা : মসুর ডালের মিশ্রনে ডিমের স্পেশাল রান্না
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ডিম দিয়ে তৈরি করে ফেলুন ভিন্নধর্মী একটি রান্না : ডিম মসুরের কষা
ছবি : সংগৃহীত
সময়ের সাথে সাথে রন্ধনশিল্পে নতুনত্ব যোগ হচ্ছে । সাধারনত মসুর ডালকে বিভিন্নভাবে রান্না করা হয়ে থাকে। তবে ডিমের সাথে মসুর ডালকে মিশিয়ে রান্না করার এই বিশেষ প্রনালী রন্ধনশৈলীতে নতুনমাত্রা যোগ করেছে। ডিম ও ডাল অত্যন্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। ডিমে আছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি এবং বি-টুয়েলভ। এছাড়াও ডিমে আছে লুটেইন ও যিয়াস্যানথিন নাম দুটি প্রয়োজনীয় উপাদান যা বৃদ্ধ বয়সে চোখের ক্ষতি ঠেকাতে সাহায্য করে। মসুর ডাল হলো প্রোটিনের আধার। এটির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, খনিজ পদার্থ, খাদ্যশক্তি, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি ও শর্করা জাতীয় উপাদান রয়েছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, কাঁচা মসুর ডাল পুষ্টিকর। মলরোধক অন্ত্রের সমস্যা কিংবা পেটের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। এছাড়াও যাদের সর্দি কাশি কিংবা ম্যালেরিয়া জাতীয় রোগ দেখা যায় তাদের মসুর ডালের জল খেলে শরীরে শক্তি সঞ্চয় হয়।
- উপকরণ :
- রন্ধনপ্রণালী :
ছবি : সংগৃহীত
এক কাপ মসুরের ডাল আধা ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পানি থেকে ডালগুলো কে তুলে ব্লেন্ডার মেশিনে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
একটি পাত্রে ২টি ডিম ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। এরপর মসুর ডালের মিশ্রনের সাথে ডিমের মিশ্রনটি ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। স্বাদমতো লবন, ধনেপাতা কুচি, কাচা মরিচ বাটা মিশ্রনে দিয়ে দিতে হবে।
একটি ভাজার কড়াইয়ে (ফ্রাই প্যানে) সামান্য পরিমান তেল দিয়ে ব্রাশ করে দিতে হবে। তৈরিকৃত ডিম ও ডালের মিশ্রনটি কড়াইয়ে ঢেলে দিতে হবে। ঢাকনা দিয়ে কড়াইটি ঢেকে দিতে হবে। কিছু সময় পর দেখা যাবে মিশ্রনটি ফুলে উঠেছে। মিশ্রনটি ফুলে উঠলে বুঝতে হবে একপাশে রান্না হয়ে গিয়েছে। একপাশ হয়ে এলে অপরপৃষ্ঠের রান্নার জন্যে উল্টে দিতে হবে।
সম্পূর্ণ রুপে হয়েছে কিনা তা বোঝার জন্যে একটি শলা বা টুথপিক নিয়ে মাঝ বরাবর ঢুকিয়ে দেখতে হবে। টুথপিকটি যদি পরিষ্কারভাবেই বের হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে যে ভালোভাবে রান্না হয়েছে। একটি বড় থালায় নিয়ে ধারালো ছুড়ি দিয়ে ছোট চারকোনা আকারে কেটে নিতে হবে।
এখন কড়াইয়ে পরিমানমতো তেল দিয়ে গরম করে এতে দারুচিনি, এলাচি, তেজপাতা দিয়ে দিতে হবে।
একটু ভাজা হয়ে এলে এতে পিয়াজ কুচি দিয়ে দিতে হবে। পিয়াজগুলো অল্প লালচে-বাদামী হয়ে এলে এতে পিয়াজ বাটা, আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা বাটা, ধনিয়া গুড়ো, হলুদের গুড়ো, শুকনো মরিচের গুড়ো দিয়ে দিতে হবে। মশলার মিশ্রনটি ভালো করে মিশিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। এরপর মিশ্রনে অল্প পরিমানে পানি যোগ করি। চারকোনা আকারে কাটা ডিম ও ডালের বরফিগুলো ঝোলে ঢেলে দিতে হবে। কিছু সময় রান্নার পর ভালো ভাবে সিদ্ধ হয়ে এলে ধনেপাতা কুচি ছিটিয়ে দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন ডিম মসুরের কষা।