চমোলহরি : ভুটানে পর্বত আরোহনের জন্য বিখ্যাত এক স্থান
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাংলাদেশ থেকে সহজেই ঘুরে আসুন চমোলহরি কিংবা ঝমোলহরি থেকে
ছবি : হিমালয়া জার্নি
পর্বত আরোহন কিংবা পাহাড়ে ক্যাম্পিং এগুলো যেন ভ্রমনবিলাসীদের কাছে এক অন্যরকম রোমাঞ্চকর শব্দ। আর এই পর্বত আরোহন যদি হয় সেই অসম্ভব সুন্দর দেশ ভুটানে তাহলে তো কথাই নেই। হ্যা, বলতে চাচ্ছি ভুটানের চমোলহরি পর্বতের কথা। চমোলহরি ট্রেক ভুটানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চূড়া। একে অনেকে ঝমোলহরি, ছমোলহরি, জোমোলহরি বানান বা উচ্চারণ করে থাকেন। এই শিখরটি ভারত থেকে তিব্বতের ফারি উপত্যকায় তিব্বত ভুটান সীমান্ত বরাবর অবস্থান করছে। অনেকেই হিমালয়ের এই অংশটিই সবচেয়ে সুন্দর বলে অভিহিত করে থাকেন।
অনন্য ট্রেকিং স্বাদ পেতে চমোলহরি ভ্রমণ। ছবি : মাউন্টেন আইকিউ
চমোলহরি ট্রেকিং-এ আপনি যেমন পাবেন এক নতুন সংস্কৃতির স্বাদ তেমনই দেখতে পাবেন ভুটানের পারিপাট্য সৌন্দর্য। পাহাড়ের পাদদেশের স্নিগ্ধতা আপনার মন কেড়ে নিবে নি:সন্দেহে। দেখতে পাবেন ভিন্ন ভিন্ন গ্রাম, মাঠ, পশুচারণ ভুমি এবং সাথে থাকবে স্বপ্ন সমান এক আকাশ ছোয়া চূঁড়া। চোখে পরবে স্রোতস্বিনী হ্রদ, গাছপালা, বন্য ফুলসহ এক অন্য রকম স্বর্গ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই স্থানটি পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়! যার ফলস্বরুপ তারা এই স্থানে তীর্থে আসেন। মার্চ মাসের শেষ থেকে জুনের মাঝামাঝি এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই ভ্রমনের আদর্শ সময় হিসেবে ধরা হয়।এক্ষেত্রে ভুটানে অনেক এজেন্সি রয়েছে যারা আপনাকে খুব সহজেই চমোলহরি ভ্রমনের ব্যবস্থা করে দেবে। সাধারনত তারা ৭ দিন, ১০ দিন, ১২ দিন বা ১৫ দিনের ভ্রমন প্যাকেজের ব্যবস্থা করে থাকেন। সাধারনত পর্যটকদের গ্রুপ করে তারা এই ভ্রমণটি সম্পাদন করেন। এসব ট্যুর গ্রুপগুলো থেকে চাইলে আপনি যেকোনো ধরনের সুবিধা গ্রহন করতে পারেন এবং বিমানবন্দর থেকে আপনাকে গ্রহন থেকে শুরু করে আপনার চমোলহরি ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করতে যেকোনো সাহায্য করতে তারা বদ্ধপরিকর। অভিজ্ঞ এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ গাইড দ্বারা এসব ট্যুর পরিচালনা করা হয় বিধায় আপনার ভাষা সমস্যায় সম্মুখীন হবার কোনো সম্ভবনা নেই।
পতাকাবাহিত চমোলহরি। ছবি : মাউন্টেন কিক
এই ট্যুরে এজেন্সি সাধারণত পারো বিমানবন্দর থেকে আপনাকে তাদের প্রতিনিধি দ্বারা গ্রহণ করে নেবে।এই ভ্রমনটিতে পুরো টকত্যাং রাজশাস্ত্র, জাজান, শানা ক্যাম্প, এসইআই থাংথঙ্খা, জাঙ্গোঠং, লিংগশী, শড ট্রাক, বার্শংয় এবং ডোডিনাসহ আরো অনেক স্থান হয়ে পরে পারোতে ফিরে ভ্রমণ সমাপ্তি করে থাকে। থাকা খাওয়ার ব্যপারগুলো সাধারণত ট্যুর গ্রুপগুলো দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী এবং সাধ্য অনুযায়ী খাবার এবং হোটেল, রেস্তোরাঁ সুবিধা পাবেন অনায়াসে। তবে এসব ব্যাপারে অবশ্যই ট্যুর গ্রুপের সাথে ভালোভাবে কথা বলে নিলে সুবিধা হয়। যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে পূর্বে বাংলাদেশ থেকে ভুটানে পৌঁছাতে হবে। এক্ষেত্রে বিমান বা সড়কপথে যেতে পারেন। তবে সুবিধা হচ্ছে সার্কভুক্ত দেশ হবার কারনে ভিসার প্রয়োজন হবে না কিন্তু সড়ক পথে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হবে। ভুটানে বিমান ভাড়া লাগবে ২০,০০০-২২,০০০ টাকার মতো। পরবর্তীতে পারো থেকে চমোলহরি ট্রেকিং-এর উদ্দেশ্যে আপনার যাত্রা শুরু হবে। সতর্কতা : পূর্ব থেকেই ভ্রমন সম্পর্কে পুরোপুরি জেনে নিন এবং নিজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাথে নিন। যেহেতু ভিন্ন দেশ তাই নিজের ভদ্রতা বজায় রাখুন। অন্যের ধর্ম বা সংস্কৃতিকে আঘাত করে এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।