ভুটানে শপিং-এর জন্য বিখ্যাত নোরজিন ল্যাম স্ট্রিট
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শান্তির দেশে ঘুরতে ঘুরতে যেখান থেকে মনমতো কেনাকাটা করতে পারবেন পর্যটকেরা
ছিমছাম পরিবেশে বিখ্যাত নোরজিন ল্যাম স্ট্রিট। ছবি : ইউভাং
বিশ্বে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আগ্রহের জায়গা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্নের মতো সুন্দর দেশ ভুটান। আর ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে রয়েছে ভ্রমনপ্রেমীদের মনকাড়া বিখ্যাত নোরজিন ল্যাম স্ট্রিট। আপনার যদি কেনাকাটায়ও আগ্রহ থাকে তাহলে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অবস্থিত এই জায়গাটিই হতে পারে আপনার গন্তব্যস্থল। নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটের এই শহরটি আপনাকে ঘিরে ফেলবে এক মোহনীয় সৌন্দর্যের জাদুতে। প্রথমেই মুগ্ধ হবেন ভুটানের রাজধানী থিম্পুর স্বচ্ছতায়। দেশটির মানুষদের জীবনযাত্রা এবং সংস্কৃতির মিশ্রণ আপনাকে বারবার দেশটিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে আগ্রহী করে তুলবে।
ছবি : পিন্টারেস্ট
নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটকে বলা যেতে পারে থিম্পু শহরের ধমনী। সেখানে যেমন আপনি উপভোগ করতে পারবেন এক অন্য রকম সৌন্দর্য, তেমনই ঘুরতে যেয়ে এক পশলায় সেরে নিতে পারেন কেনাকাটা। এই রাস্তার দু-পাশজুড়ে রয়েছে বড় বড় শপিং মল থেকে শুরু করে লোকাল ক্রাফ্টের দোকান। এটি রাজধানীর প্রধান সড়ক। ভুটানে যাবেন কিন্তু নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটের কেনাকাটা ব্যতীত আপনার সফর অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। থিম্পু শহরের এই প্রধান পথচিহ্ন নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটের দোকানগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন রং-বেরঙের শিল্পকর্ম, বই, হস্তশিল্প, পোশাক, কার্পেট বা কাঠের তৈরিসহ আরও বিভিন্ন জিনিসের সমাহার। ভুটানের স্থানীয় দক্ষ লোকেরা এসব হরেক রকম জিনিস তৈরি করে তা বিক্রির জন্য দোকানে সজ্জিত করে। রেশম, তুলো বা সুতোর কাপড়গুলো আপনার নজর কেড়ে নেবে অবশ্যই।
নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটে ভ্রমনের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিতে পারেন আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস। ভুটানে গিয়ে নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আপনার লিস্টে রাখতে পারেন তাশিছো জজং, বুদ্ধ ডোরডেনমা মূর্তি, ক্লক টাওয়ার স্কয়ার কিংবা মেমোরিয়াল চোর্টেন এই স্থানগুলো।
ঐতিহ্যবাহী বিষয়াদী পাৗয়া যায় নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটের দোকানগুলোতে। ছবি : গেটি ইমেজ
ভুটানে নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটের আশেপাশে থাকার জন্য পেয়ে যাবেন ভালো মানের হোটেল। এক্ষেত্রে খোঁজ করতে পারেন লে মেরিডিয়েন, হোটেল নরবুলিং, হোটেল শান্তিদেব ইত্যাদি। আর খাবারের জন্যও পেয়ে যাবেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী রেস্তরা বা হোটেল। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে সান মারু রেস্তোঁরা, ইউ ওয়াং রেস্তোঁরা ও ক্যাফে দাই চি ইত্যাদি। তবে আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখলেই সুবিধা হবে। আশেপাশে পেট্রলপাম্পের দরকার হলে সামান্য খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন মতিথং পেট্রল স্টেশন, দামচেন পেট্রলিয়াম পাম্পগুলো।
ছবি : সংগৃহীত
কীভাবে পৌছাবেন এই বিখ্যাত নোরজিন ল্যাম স্ট্রিটে : প্রথমেই আপনাকে দেশ থেকে পাড়ি জমাতে হবে ভুটানের উদ্দেশ্যে। ভুটানে যেতে পারেন বিমানে। তবে এক্ষেত্রে সুবিধা হলো সার্কভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের কোনো ভিসার দরকার হয় না। টিকিট কেটে খুব সহজেই চলে যেতে পারেন কেনাকাটার রাজ্যে। দ্রুক এয়ারওয়েজ ভুটানের একমাত্র বিমানসংস্থা, এক্ষেত্রে এই এয়ারওয়েজেই আপনি চলে যেতে পারেন ভুটানে। বিমান ভাড়া লাগবে ২০,০০০-২২,০০০ টাকার মতো। আবার চাইলে যেতে পারেন সড়ক পথেও। এক্ষেত্রে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হবে। ঢাকা থেকে বাস লালমনিরহাট হতে শিলিগুড়ি পৌঁছাবে। সেখান থেকে যেতে হবে রাজধানী থিম্পুতে। থিম্পু থেকে নরজিন লাম স্ট্রিটের দূরত্ব ২৫০ মিটার। অর্থ্যাৎ হেঁটেই পৌঁছাতে পারেন গন্তব্যস্থলে। এছাড়া ফুয়েনশোলিং থেকে নরজিন ল্যাম স্ট্রিটের দূরত্ব ১৬৪ কিলোমিটার এবং পারো থেকে ৫০ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এক্ষেত্রে গাড়িতে যেতে পারেন নোরজিন ল্যাপ স্ট্রিটে।
ভ্রমণ সতর্কতা :
- সবর্দা নিজের ভদ্রতা বজায় রাখুন।
- ভ্রমনে সচেতন হোন।
- কারও ধর্ম বা সংস্কৃতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু করা থেকে সর্বদা বিরত থাকুন।