চাটমোহর শাহী মসজিদ : মুঘল স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন মসজিদের একটি

মুঘল স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন মসজিদ এর একটি এই চাটমোহর শাহী মসজিদ



চাটমোহর শাহী মসজিদ : মুঘল স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন মসজিদের একটি

ছবি : সংগৃহীত


 অর্থনৈতিক এবং ঐতিহ্যগতভাবে সমৃদ্ধ একটি জেলা পাবনা। ১৮২৮ সালে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া পাবনা জেলা কোম্পানি শাসন থেকে ব্রিটিশ শাসনের নানা ইতিহাসের সাথেই সংযুক্ত। বাংলাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগের একটি ঐতিহাসিক জেলা পাবনায় নানা রকম স্মৃতিচিহ্ন এবং ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তেমনই একটি প্রত্নতত্ত্ব স্থান চাটমোহর শাহী মসজিদ। মুঘল স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন মসজিদ এর একটি এই চাটমোহর শাহী মসজিদ (Chatmohor Shahi Masjid)।


ইতিহাস

পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা হতে এটি প্রায় ২০০ গজ দূরে অবস্থিত চাটমোহর শাহী মসজিদ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, চাটমোহর ছিল মোঘল-পাঠানদের সময়কার ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৫৮১ খৃষ্টাব্দে মাসুদ খাঁ কাবলি এখানে মসজিদটি নির্মাণ করেন। মাসুদ খাঁ কাবলু ছিলেন সম্রাট আকবরের একজন সেনাপতি। পরবর্তীকালে মাসুদ খাঁ কাবলি একসময় বারভূঁইয়াদের বিদ্রোহকালে তাদের দলে যোগ দেন। আকবরের সেনাপতি ও গভর্নর শাহবাজ খানের সাথে যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে গাজীপুরের শীতলক্ষ্যা তীরের গহীন অরণ্যে আত্মগোপন কালে ৪৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। চাটমোহর শাহী মসজিদটি বর্তমানে নানা জায়গায় মাসুদ খাঁ কাবলির মসজিদ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশের বেশির ভাগ পুরাকীর্তির মতো এটিও নানা অবহেলা আর জরাজীর্ণ অবস্থায় একসময় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ১৯৮০ সালে এটিকে সংরক্ষিত ইমারত হিসেবে ঘোষণা করে। পাশাপাশি এর পুনর্নির্মাণ কাজও শুরু করা হয়।


চাটমোহর শাহী মসজিদ : মুঘল স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন মসজিদের একটি

ছবি : সংগৃহীত


 মোঘল স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণে লাল রঙের জাফরি ইট ব্যবহৃত হয়। জাফরি ইটের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখনকার ইটের চাইতে আরও বেশি চিকন হতো। ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি দেওয়াল ঘেরা মসজিদটি সূক্ষ্ম কারুকাজ আর নানা রকম নান্দনিক নকশায় সজ্জিত। ভেতরের দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ ১৫ হাত, উচ্চতা প্রায় ৩০ হাত মসজিদের দেয়াল সাড়ে ৪ হাত প্রশস্থ। ৩টি গম্বুজের পাশাপাশি মসজিদের সম্মুখভাগে ৩টি খিলান আকৃতির গেইট এবং পশ্চিম পাশে আরও দুইটি গেইট রয়েছে। অভ্যন্তরে ছোট ছোট চারটি কুলুঙ্গি রয়েছে ও মসজিদের বাইরে এবং ভেতরে দেয়ালগাত্রে জাফরি ইটের সুন্দর কারুকার্য খচিত এই মসজিদটির খিলান রীতি প্রাচীন পারস্যের সাসনীয় স্থাপত্যের প্রভাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন। প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ মসজিদটির ভেতরে একটা কালো ফলক ছিলও। ফলকটি বর্তমানে রাজশাহীর বরেন্দ্র মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। পার্সি অক্ষরে খোদাইকৃত এই ফলকের মসজিদের নির্মাণ ইতিহাস লিপিবদ্ধ রয়েছে। এছাড়াও মসজিদের সম্মুখের ইদারায় কালেমা তৈয়বার শিলালিপি ও রয়েছে।


পাবনার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান :

পাবনার অন্যান্য দর্শনীয় এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের মধ্যে রয়েছে গজনার বিল, লালন শাহ সেতু, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, জোড় বাংলা মন্দির, ক্ষেতুপাড়া জমিদার বাড়ি, শিতলাই জমিদার বাড়ি, তাঁতীবন্দ জমিদার বাড়ি, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাজা রায় বাহাদুরের বাড়ি, বেরুয়ান জামে মসজিদ, চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি ও সুলতানগেট পার্ক সহ অন্যান্য।


যেভাবে যাবেন :

চাটমোহর এলাকাটি পাবনা পাবনা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ঢাকা থেকে বাসে করে পাবনা শহর যাবেন, শহর থেকে স্থানীয় পরিবহনে চড়ে চাটমোহর শাহী মসজিদ।  

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম