ঝরনা প্রেমিকদের জন্য বাংলাদেশ যেন স্বর্গরাজ্য
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বহমান ঝরনার অপরূপ দৃশ্য অন্য সবকিছুকে হার মানায়
শুভলং ঝরনা। ছবি : সংগৃহীত
ঝরনার মাঝে এমন কি আছে যা অন্য কিছুর মধ্যে নেই? প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে অনন্য ঝরনার বেয়ে চলা রূপ মনের মাঝে দোল দিয়ে যায়। যেন শত কোটি বছর তাকিয়ে থাকলেও এই রূপ শেষ হবার নয়। ঝরনার অপরূপ দৃশ্য মনের মাঝে প্রশান্তির যে নিবিড় আলোড়ন তৈরি করে, এর সাথে অন্য কিছুর তুলনা করা সম্ভব না।
বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগে সবথেকে বেশি ঝরনার দেখা মিলে। আজকের ধারাবাহিক পর্বটি সাজানো হয়েছে তেমনই বিশেষ কিছু ঝরনা সম্পর্কে।
পানতুমাই ঝরনা :
টলমল করা পানতুমাই ঝরনার স্বচ্ছ পানি। ছবি : সংগৃহীত
এটি ভারত ও বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অপরূপ পানতুমাই ঝরনার দেখা মেলে। ভারত ও বাংলাদেশের সীমানায় মেঘালয় অঞ্চলে চমৎকার পানতুমাই ঝরনাটি দেখতে পাওয়া যায়। মেঘালয় অঞ্চলে একটি সুন্দর গ্রাম রয়েছে যার নাম পানতুমাই।
পানতুমাই গ্রামেই ঝরনার অবস্থান যেটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনা। এই ঝরনা থেকে দেখতে পাওয়া যায় মেঘালয়ের পাহাড় এবং পশ্চাৎদেশে গ্রামের অপরূপ দৃশ্য। এটি প্রায় ৫০০ ফুট উঠলো উঁচু।
শৈলপ্রপাত :
ছবি : সংগৃহীত
এটি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত জনপ্রিয় একটি ঝরনা। বান্দরবান জেলা থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রুমা রোডে এই ঝরনার অবস্থান। এখানে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণ করতে আসেন। বর্ষাকালে ঝরনার আসল রূপ দেখতে পাওয়া যায়। শৈলপ্রপাত ঝরনার পানি খুবই স্বচ্ছ এবং ঠান্ডা।
শৈলপ্রপাত ঝরনার পানি স্থানীয়রা খাওয়ার জন্য নিয়ে থাকেন। শৈলপ্রপাত ঝরনার নিকটেই রয়েছে ছোট ছোট দোকান। পর্যটকরা স্থানীয়দের তৈরি বিভিন্ন জিনিস এখান থেকে ক্রয় করতে পারেন।
ত্লাবং ঝরনা :
ডাবল ফলস্ নামে বেশি পরিচিত ত্লাবং ঝরনা। ছবি : আদার ব্যাপারী
ত্লাবং ঝরনার আর এক নাম জোড়া ঝরনা। বাংলাদেশে এত সুন্দর জোড়া ঝরনা আর কোথাও নেই। বান্দরবানে অবস্থিত সুন্দর এই ঝরনা। দুটি প্রবাহ একসাথে মেলে এই ঝরনার সৃষ্টি হয়েছে।
এটি সুসান পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে এই জায়গায় সন্ত্রাসীরা মানুষ খুন করে ফেলে রাখতো। এখন এখানে আর্মি ক্যাম্প রয়েছে। ঝরনায় ভ্রমণে আসলে দেখতে পাওয়া যায় সুন্দর জুম ঘর। এই জুম ঘরে পর্যটকরা থাকতে পারেন।
ফাইপি জলপ্রপাত :
সুউচ্চ পাহাড় বেয়ে স্বচ্ছ দুধ সাদা জল ঢলে পড়ছে, ফাইপি জলপ্রপাত। ছবি : সংগৃহীত
এটি বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় থাইকাঙ পাড়ায় অবস্থিত। বান্দরবানের ২৫টি আকর্ষণীয় জায়গার মধ্যে এটি অন্যতম। অনেক উঁচু থেকে এই জলপ্রপাতের পানি নিচে প্রবাহিত হয়েছে। ফাইপি জলপ্রপাতের যাওয়ার জন্য অনেকগুলো রুট রয়েছে। পর্যটকরা তাদের সুবিধা মত যে কোন রুট দিয়ে জলপ্রপাতে পৌঁছাতে পারেন।
পাতাং ঝিরি ঝরনা :
একটু আলাদা গঠনে পাতাং ঝিরি ঝরনা। ছবি : অফরোড বাংলাদেশ/আসলাম
এটি বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। বগালেকের নিকটে এই চমৎকার ঝরনা দেখতে পাওয়া যায়। যে সকল পর্যটকেরা বগালেক ভ্রমণ করতে আসেন তারা কখনোই পাতাং ঝিরি, ঝরনা ভ্রমণ না করে চলে যান না। তবে বর্ষাকাল যৌবনকাল হলেও এই ঝরনার উপরে বর্ষাকালে যাওয়া সম্ভব হয় না।
কিন্তু শীতকালে ভ্রমণ করতে গেলে সহজেই ঝরনার উপরে উঠতে পারা যায়। পাতাং ঝিরি, ঝরনা খুব বড় না হলেও এর সৌন্দর্য কোন অংশে কম নয়। আশেপাশে প্রাকৃতিক পরিবেশ ঝরনার রূপ রহস্যকে আরও বেশি ফুটিয়ে তুলেছে। ঝরনার আশে-পাশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এর পানি জমা হয়। আর ঝরনার পানিও খুবই স্বচ্ছ।
ঝরঝরি ঝরনা :
সিঁড়ির মতো পথ বেয়ে নিচে চলে আসা জলধারা, ঝরঝরি ঝরনা। ছবি : এলাইভ নিউজ ২৪
ঝরঝরি ঝরনা সীতাকুন্ডে অবস্থিত। ঝরঝরি ঝরনার ট্রেইল বেশ চমৎকার। সম্পূর্ণ ট্রেইল শেষ করে আবার ফিরে আসতে প্রায় পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নিকটেই চমৎকার ঝরঝরি ঝরনা অবস্থিত। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরকম ঝরনা দেখার সৌভাগ্য খুব কম মানুষেরই হয়। আর যারা ট্র্যাকিং পছন্দ করেন তাদের জন্য এই ঝরনায় পৌঁছানো একটি উৎকৃষ্ট ভ্রমণ হবে।
জান্নাতুল ফেরদৌস
এস এম