বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ফোয়ারা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাড়বকুন্ড ট্রেইলের কালভৈরবী মন্দিরের পাশে ফোয়ারাটি অবস্থিত

বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ফোয়ারা

এভাবেই এখানে সব সময় আগুন জ্বলতে থাকে; ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ ডট কম


বাংলাদেশে প্রাকৃতিক যতগুলো বিস্ময়কর জিনিস আছে সেগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের বাড়বকুণ্ড ট্রেইল অন্যতম। এটি আমাদের দেশের একমাত্র গরম পানির ফোয়ারা/গরম পানির প্রাকৃতিক খুম বা গরম পানির কূপ! চট্টগ্রাম জেলার বাড়বকুন্ড ট্রেইলের কয়েক শত বছর আগের পুরানো মন্দির ভাঙা কালভৈরবী এর একদম পাশেই রয়েছে এই গরম পানির ফোয়ারাটি। এই ফোয়ারার পানির ওপর আগুন জ্বলতে থাকে সবসময়। বিজ্ঞান ভিত্তিক মতামত অনুসারে, সেখানে সবসময় আগুন জ্বলে মিথেন গ্যাসের কারণে! আগুনের তাপে পুরা সবসময় জায়গাটা হয়ে থাকে।

আগুনের তাপ এতোটাই থাকে যে সেখানে খুব বেশি সময় ধরে দাঁড়ানোও যায় না! তবে একটা বিষয় স্বীকার না করলেই নয় যে, সেখানে দাঁড়ালে গা ছমছম করার মতো একটা অনুভূতি হয়। কালভৈরবী মন্দিরটি এবং গরম পানির এই ফোয়ারাটি নিয়ে বেশ কিছু পৌরাণিক ধাঁচের গল্প প্রচলিত রয়েছে। সেই গল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি গল্প হলো, 'এই কালভৈরবী মন্দিরে নাকি আগে একসময় দেয়া হতো নরবলি!' কিন্তু কালভৈরবী মন্দির এর পুরোহিত, অর্থাৎ যিনি সেখানকার দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন, তার কাছে এর ব্যাখ্যা আছে যে সেখানে কেনো সবসময় আগুন জ্বলে এবং গরম পানির ফোয়ারাই বা কীভাবে হলো!

আরও পড়ুন : কমলদহ ট্রেইল, চট্টগ্রাম: একসাথে অনেকগুলো ঝর্ণা দেখবেন যেখানে

তার ভাষ্য মতে, 'শিব ও পার্বতী দুজন ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। একদিন পার্বতীর বাবা শিবকে অপমান করছিলেন। অপরদিকে পার্বতী বিষয়টি সহ্য করতে না পারার কারণে দেহত্যাগ করেন। খবরটি পাওয়ার পর শিব যখন পার্বতীকে এই অবস্থায় দেখতে পান, তখন রাগ করে শিব পার্বতীকে নিয়ে শুরু করেন তাণ্ডব নৃত্য। তখন পৃথিবী প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল শিবের এই তাণ্ডব নৃত্যের জন্য। সেসময় পৃথিবী যেন ধ্বংস না হয় তাই বিষ্ণু শিবকে ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে পার্বতীর শরীরকে বিষ্ণুর চক্র দিয়ে ৫১টি ভাগে বিভক্ত করে দেন। সেই ৫১টি বিভক্ত টুকরার ১টি ভাগ এসে পড়েছে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডের এই জায়গাটিতে। সেজন্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে সীতাকুণ্ড একটি পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।

তবে এই পৌরাণিক কাহিনীর কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। লোকমুখে চলে আসা কাহিনীও হতে পারে। বাড়বকুণ্ড ট্রেইলটি বেশ সহজ আর ছোট একটি ট্রেইল। তবে সেখানে দেখার মতো আছে অনেক কিছুই! কয়েকশ বছরের পুরানো কালভৈরবী মন্দির ছাড়াও সেখানে দেখতে পাবেন আরও কয়েকটি পুরানো ভাঙা মন্দির। আর সেখান থেকে একটু সামনে গেলেই ঝিরিপথের রুট। আবার এই ঝিরিপথ দিয়ে গেলেই পাবেন ২-৩টি ছোট-বড় ঝর্ণা। বর্ষাকালে ঝর্ণাগুলাতে পানি থাকলেও গ্রীষ্মকাল বা বছরের অন্যান্য সময়ে শুষ্কই থাকে। এই ট্রেইলের সবটুকু দেখার জন্যে, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। সেখান থেকে চট্টগ্রামের আরেকটি ট্রেইলে খুব সহজে ঢুকা যায়।


বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ফোয়ারা

বিভিন্ন লোক গাঁথাও প্রচলিত রয়েছে এই ফোয়ারাকে ঘিরে; ছবি : ট্রাভেল এন্ড প্লেইস ডট কম


 যাওয়ার উপায় আপনি যে এলাকায় অবস্থান করছেন সেখান থেকে যেতে হবে চট্টগ্রামের বাড়বকুণ্ড বাজার। বাড়বকুণ্ড বাজারটি পাবেন সীতাকুণ্ডের পরেই। যদি ঢাকা থেকে বাসে করে আসেন, তাহলে একেবারে বাড়বকুণ্ড বাজারেই গিয়েই নামতে পারবেন। তবে ট্রেনে গেলে বিভিন্ন পথে থেমে থেমে বাড়বকুণ্ডে যেতে হবে। বাড়বকুণ্ড বাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে গেলে, একটা পাকা রাস্তা চলে যাবে ঠিক বাম দিকে। সেই রাস্তা ধরে পঞ্চাশ মিনিটের মতো হাঁটলেই চলে আসবে কালভৈরবী মন্দির। বাজারে গিয়ে কোনও লোককে জিজ্ঞাসা করলেই তিনি দেখিয়ে দিবেন। সেখানে যাওয়ার সময় দুই ধরনের পথ পাবেন। একটি রাস্তা পাকা আর সেই পাকা রাস্তাটি শেষে মাটির রাস্তা৷ পাকা রাস্তা দিয়ে রিক্সা করে যেতে পারবেন। তবে মাটির যে রাস্তাটি আছে, সেটা একটু ঝামেলাপূর্ণ। কারণ সামান্য বৃষ্টিতেও পুরো রাস্তাটি চোরাবালিতে পরিণত হয়।

জেনে রাখা ভালো ⦁  অপরিচিত জায়গা ভেবে গাইড নিতে যাবেন না। কারণ বাড়বকুণ্ডের রাস্তা একদম সহজ। তাই নিজেই যেতে পারবেন।

⦁  মন্দিরের পাশ থেকেই ঝিরিপথের রাস্তা শুরু।

⦁  জায়গাটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য তীর্থ স্থান। তাই শিষ্টাচার বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

  ফারিয়া এজাজ   এস এম 


তথ্যসূত্র: ১।https://www.banglatribune.com ২। https://www.daily-bangladesh.com/tourism/137549 ৩। travelandplace.com ৪। bp.blogspot.com