শীতল পানির কোমল স্পর্শ পেতে মন ছুটে যায় ঝরনার কাছে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বর্ষাকাল বা তার পরবর্তী সময়ে ঝরনার আসল যৌবন রূপের দেখা মিলে


বহমান নাফাখুমের জলধারা। ছবি : সমকাল
বহমান নাফাখুমের জলধারা। ছবি : সমকাল
 

সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বসবাস করা শুরু করেছে। সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে প্রকৃতি থেকে আমরা অনেকটাই দূরে চলে এসেছি। বিশাল অট্টালিকা আর প্রযুক্তির যাতাকলে প্রকৃতি তার নিজস্ব রূপ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। কিন্ত মানবমন বার বার ছুটে যেতে চায় প্রকৃতির পানে। আর সে কারণেই মানুষ যান্ত্রিকতার বদ্ধ সময় থেকে ছুটি পেলেই প্রকৃতির স্নিগ্ধ আমেজে নিজেকে সপে দেয়। বাংলাদেশের তেমনই কিছু মন জুড়ানো ঝরনা রয়েছে। ভ্রমণপিয়াসী পর্যটকদের তাই মূল আকর্ষণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঝরনাগুলো।

হামহাম জলপ্রপাত :

হামহাম জলপ্রপাত ছবি : সংগৃহীত

হামহাম জলপ্রপাত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে অবস্থিত। হামহাম জলপ্রপাতের আরেক নাম চিতা ঝরনা। হামহাম রাখা হয়েছে কারণ এর অর্থ গোসলখানা। এটি আবিষ্কৃত হয়েছে ২০১০ সালে। ঝরনাটির উচ্চতা প্রায় ১৭০ ফুট। বর্ষাকালে ঝরনার যৌবনকাল। সব থেকে বেশি রূপ এই সময় পরিস্ফুটিত হয়। ঝরনাতে পৌঁছাতে হলে ভ্রমণের পথে চা-বাগানের অপরূপ দৃশ্য আপনাকে অবশ্যই ক্যামেরাবন্দি করতে হবে। এছাড়াও আরো দেখতে পাবেন সারি সারি কলা গাছ, জারুল গাছ এবং কদম গাছ।

সহস্রধারা ঝরনা :

সীতাকুণ্ড সহস্রধারা ঝরনার স্নিগ্ধ রূপ। ছবি : সংগৃহীত

সহস্রধারা ঝরনা অবস্থিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায়। সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে ৫ কিলোমিটার ভেতরে গেলেই এই ঝরনা ধারার দেখা মেলে। বর্ষাকালে ঝরনার প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে। সহস্রধারা ঝরনার নিকটে আরেকটি ঝরনা রয়েছে যার নাম সুপ্তধারা ঝরনা।

শুভলং ঝরনা :

শুভলং রাঙামাটির অপূর্ব সুন্দর শুভলং ঝরনা। ছবি : মিডিয়াম

শুভলং ঝরনা রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত। রাঙ্গামাটি জেলা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গেলেই এই ঝরনার দেখা মিলে। প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে ঝরনার পানি প্রবাহিত হয়েছে। তবে শুকনো মৌসুমে না যাওয়াই উত্তম। তখন ঝরনার সৌন্দর্য অতো ভালো দেখা যায় না। বর্ষাকাল ঝরনার যৌবনকাল, তাই সেই সময়ই যাওয়া উত্তম।

ধুপপানি ঝরনা :


ধুপপানি ঝর্না ধুপপানি ঝরনা। ছবি : সংগৃহীত

 ধুপপানি ঝরনা রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। এর স্থানীয় নাম দুপপানি। ধুপ শব্দের অর্থ সাদা। ঝরনার স্বচ্ছ পানি প্রবাহের জন্যই এর নাম দেয়া হয়েছিল ধুপপানি ঝরনা। তবে ধুপপানি ঝরনা অনেক বছর পর আবিষ্কৃত হয়েছে। ২০০০ সালে একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এইখানে ধ্যান করা শুরু করেন। পরবর্তীতে মানুষজন এই ঝরনার খোঁজ পায়। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু থেকে ঝরনার পানি প্রবাহিত হয়েছে এবং দুই কিলোমিটার দূরবর্তী জায়গা থেকেও ঝরনার পানির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। দর্শনার্থীদের জন্য শুধুমাত্র রোববার এখানে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। কেননা অন্য দিনগুলোয় একজন সাধু উপাসনায় নিমগ্ন থাকেন। মানুষজনের কোলাহলে উপাসনার ধ্যানে বিঘ্ন ঘটে থাকে।

বাকলাই ঝরনা :

বাকলাই ছবি : সংগৃহীত

বাকলাই ঝরনা বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলা অবস্থিত। ঝরনাটি প্রায় ৩৮০ ফুট উঁচু। বাকলাই ঝরনায় যেতে হলে প্রথমত আপনাকে বাকলাই গ্রামে যেতে হবে। কেওক্রাডং থেকে তাজিংডং পর্বত এর মধ্যবর্তী জায়গায় বাকলাই গ্রাম অবস্থিত। সেই বাকলাই গ্রাম থেকে এক ঘন্টা পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয় বাকলাই ঝরনায়।