সমুদ্র সৈকত, পর্বতমালা, এডভেঞ্চার, বন্য জীবন, কিংবা বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কেরালা; ছবি : সংগৃহীত
মূলত এর চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি বেশ জনপ্রিয়। আপনি যদি মালায়লাম মুভি দেখে থাকেন তাহলে হয়তো পর্দায় কেরালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছু অংশ দেখে থাকবেন। এদের সিনেমাতে আমরা যেসব দৃশ্য দেখে থাকি তার অনেকটাই এই 'গড’স ওন কান্ট্রি' নামে পরিচিত কেরালায় ধারণকৃত। এই হিসেবে এই রাজ্যের সাথে আমাদের ভালোই পরিচয় আছে, এটা ভারতের বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশও বটে।
সমুদ্র সৈকত, পর্বতমালা, এডভেঞ্চার, বন্য জীবন, কিংবা সংস্কৃতি কি নেই এখানে! উপকূলীয় এই শহরটি ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ তালিকার একদম উপরের দিকেই থাকে সবসময় । মন্থরময় জীবন এটিকে পরিণত করেছে ভ্রমণের জন্য আদর্শ এক জায়গা। চলুন জেনে নেয়া যাক কেরালার বিখ্যাত জায়গা সম্পর্কে।
ফোর্ট কোচি :
ওয়ান্ডারলা এমিউজমেন্ট পার্ক, ফোর্ট কচি; ছবি : ওয়ান্ডারলা ডট কম
কেরালার প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত এই শহরটিতে আরব, ব্রিটিশ, ডাচ, চীন এবং পর্তুগীজ সকলেই নিজ নিজ ছাপ রেখে গিয়েছে। এর স্থাপনাসমূহের স্থাপত্যশৈলী এবং ইতিহাস অসংখ্য ট্যুরিস্টদের আকর্ষণ করছে প্রতিনিয়ত। শহরটি যেন ছবির মতোই সুন্দর।
এখানে অবস্থিত 'ওয়ান্ডারলা এমিউজমেন্ট পার্ক' শিশুদের নিকট বেশ জনপ্রিয়। জাদুময় এই কেরালার বিখ্যাত জায়গা গুলোয় আপনার ভ্রমণ শুরু হতে পারে এই কোচি শহর ভ্রমণের মাধ্যমে।
ঐতিহাসিক চেরামান জামে মসজিদ, মুজিরিস; ছবি : উইকিপিডিয়া কমন্স
ঐতিহাসিক স্থান মুজিরিস কেরালা সরকার কর্তৃক হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। কেরালার উত্তরে অবস্থিত এই নগরী ১০০০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারতে সর্বপ্রথম নির্মিত মসজিদ 'চেরামান জামে মসজিদ' এখানেই অবস্থিত।
মসজিদটি ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। এছাড়াও বহু সংখ্যক পুরনো গির্জা, সিনাগগ, মন্দির দ্বারা পরিপূর্ণ এই শহরটি। আপনি যদি ইতিহাস প্রেমী হয়ে থাকেন তবে এই শহর ভ্রমণ মিস করা একদমই উচিত হবে না।
কেরালা ব্যাক ওয়াটারস :
কেরালা এডভেঞ্চারারের অন্যতম অনুষঙ্গ হাওজবোটে ভ্রমণ ও রাত্রি যাপন; ছবি : ট্রাভেলগি ইন্ডিয়া
কেরালার লেকগুলোতে হাউজ বোটে করে রাত্রিযাপন নিঃসন্দেহে আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই লেকগুলোর চারপাশে খেজুর গাছের সমারোহ। খেজুর গাছের সমারোহে এই লেকগুলো ব্যাক ওয়াটার নামে পরিচিত।
মজাদার ইন্ডিয়ান খাবারের সাথে লেকের মাঝে রাত্রি যাপন বেশ উপভোগ্য এবং টুরিস্টদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয়। বেশিরভাগ ব্যাক ওয়াটার ভ্রমণ শুরু হয় আলেপ্পে নামক স্থান থেকে। এই ব্যাক ওয়াটার ট্রিপে কাক্কাথুরুথু দ্বীপ থেকে সুন্দর সূর্যাস্তের দেখাও মেলে।
নৈসর্গিক মারারি সৈকতের নির্জনতা পর্যটকদের প্রশান্তি এনে দেয়; ছবি : বুকিং ডট কম
আলেপ্পে থেকে ৩০ মিনিট দূরত্বে অবস্থিত মারারী সমুদ্র সৈকত অত্যন্ত স্নিগ্ধ এবং প্রশান্তিময়। সৈকতের সাথেই বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে যেখান থেকে সমুদ্র দেখা যায়।
অনেক ভ্রমণকারীই রিসোর্ট গুলিতে ছুটি কাটিয়ে যান মনের প্রশান্তির জন্য। এখানে অনেক পুরনো এক জেলেপাড়াও রয়েছে।
পেরিয়ার ন্যাশনাল পার্ক :
বণ্য হাতীর জন্য বিখ্যাত পেরিয়ার ন্যাশনাল পার্ক; ছবি : ট্যুর মাই ইন্ডিয়া
কেরালার থেক্কাডি জেলায় অবস্থিত পেরিয়ার ন্যাশনাল পার্ক দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় পার্কের মাঝে অন্যতম। এই পার্কটি সারা বছর সব সময়ের জন্যই উন্মুক্ত। এই পার্কটি বন্য হাতির জন্য বিখ্যাত।
এছাড়াও, এখানে হাতির ওপর ওঠে ৩০ মিনিটে জঙ্গল ঘুরে দেখা যায়। নৌকায় সাফারির সুব্যবস্থা রয়েছে এখানে। নৌকায় সূর্যাস্ত দেখা ট্যুরিস্টদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়াও বিভিন্ন ইকো ট্যুরিজম কার্যকলাপে ট্যুরিস্টরা অংশ নিয়ে থাকেন।
সবুজ পাহাড়ি চা বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মুন্নার; ছবি : ম্যান্স ওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া
চা-প্রেমী হয়ে থাকলে অবশ্যই মুন্নার ভ্রমণ তালিকায় রাখবেন। এই শহরটি বিখ্যাত তার চা বাগানের জন্য। বাগান থেকে সদ্য আনা চা পাতার বানানো চায়ে আপনার মন এক নিমিষেই তরতাজা হয়ে উঠবে।
এখানে একটি চা জাদুঘর রয়েছে যেখানে মুন্নারে চা বাগানের উৎপত্তি এবং ইতিহাস সম্পর্কে বলা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই পাহাড়ি জায়গা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এখানের বনভূমিতে বিচিত্র রকমের বৃক্ষের দেখা মেলে। এডভেঞ্চার প্রেমীরা এখানে আনামুডি ট্রেক করেন, যা দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ চূড়া।
এছাড়াও এখান থেকে রক ক্লাইম্বিং এবং প্যারাগ্লাইডিং করা যায়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সুন্দরভাবে কিছুদিন অতিবাহিত করার সব ধরনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে মুন্নারে।