দেশের বিখ্যাত যে স্থানগুলোতে যাওয়াটা অত্যাবশ্যক
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : অপার রূপ-রহস্যে ঘেরা নয়নাভিরাম বাংলাদেশে ভ্রমণ
প্রকৃতির ক্ষতি না করে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য আগামীর বাংলাদেশ নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ছবি : বাংলা ফিডস
'রবিঠাকুরের সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ
জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রুপের যে তার নাইকো শেষ।'
বাংলাদেশের রূপ সৌন্দর্য নিয়ে বরাবরই মুগ্ধ হয়েছেন বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিতে ভ্রমণ করতে আসেন। পর্যটনশিল্পে বাংলাদেশ এখন অনেক উন্নত। সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির মাঝে নানা নিদর্শনে পরিপূর্ণ এই দেশ। আপনাদের জন্য বাংলাদেশের বিখ্যাত কিছু স্থান নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই পর্বটি। তেমনই বিশেষ কিছু জায়গা নিয়ে চলুন জেনে আসা যাক :প্রায় ৫ শত বছরের প্রাচীন শহর ঢাকা :
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ঐতিহাসিক নিদর্শন থেকে শুরু করে বর্তমানের বিভিন্ন নিদর্শন ঢাকাকে আরও প্রফুল্ল ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বাংলাদেশের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে বর্তমানের এই সকল নিদর্শন পর্যটকদের মনকে চাঙ্গা করে তোলে। যারা স্ট্রিট ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন তাদের জন্য তো বলা যায় এটি একটি স্বর্গ। এই নগরে কোটি কোটি বিষয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আপনার ক্যামেরায় অথবা মুঠোফোনে বন্দি করে রাখার জন্য। এখানে রয়েছে লালবাগ দূর্গ, যা ঐতিহ্যবাহী বাংলায় মুঘল সাম্রাজ্যের শাসন আমলে তৈরি করা হয়েছিল। এটি ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহি:প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহিদ মিনার, ১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হয়েছিল। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারীতে হাজার হাজার মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে এখানে ফুল নিবেদন করতে আসেন। ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের দক্ষিনে অবস্থিত ঢাকেরশরী মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান।
ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরটি প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো। পুরান ঢাকায় অবস্থিত আহসান মঞ্জিল বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত নিদর্শন। ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আহসান মঞ্জিল অবস্থিত। এটি পূর্বকালে ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ ও কাচারি হিসেবে ব্যবহৃত হত। এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নবাব আব্দুল গনি। ঢাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় ঐতিহাসিক সোনারগাঁও অবস্থিত। এখানে সবথেকে আকর্ষনীয় দেখার বিষয় হলো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্মের কাজ এবং কারুশিল্প জাদুঘর। জাদুঘরে সতেরো শতাব্দীর বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করা আছে। ঢাকায় বর্তমান সময়ের খুব সুন্দর একটি নিদর্শন হাতিরঝিল। শহরের ব্যস্ততম নগর থেকে একটু স্বস্তি পেতে মানুষজন এখানে আসে। আশেপাশের জায়গাগুলো বেশ চমৎকার। অসংখ্য গাছপালা, ঠান্ডা বাতাস সুন্দর প্রশান্তিময় অনুভূতি মনের মধ্যে তৈরি করে। এছাড়াও আপনি ঢাকায় দেখতে পাবেন খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ, বায়তুর রউফ মসজিদ, স্মৃতিসৌধ, চিড়িয়াখানা, তারা মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, রোজ গার্ডেন প্রাসাদ প্রভৃতি।
ষাট গম্বুজ মসজিদ :
খান জাহান আলির ষাট গম্বুজ মসজিদ। ছবি : সংগৃহীত
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যতগুলো ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ আছে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ তার মধ্যে অন্যতম। এখানে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ। ১৪৪২ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল যা শেষ হয় ১৪৫৯ সালে। বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে এবং ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, এটি ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন। এখানে নামাজের জায়গা ১৬০ ইঞ্চি × ১৯০ ইঞ্চি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। একসাথে প্রায় ২ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। পশ্চিম দিকে রয়েছে এগারোটি গমনপথ এবং উত্তর দক্ষিণ দিকে বাতাস চলাচলের জন্য রয়েছে সাতটি বিশেষায়িত জায়গা।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন :
বাংলাদেশের পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য সুন্দরবন। ছবি : সংগৃহীত
সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি প্রায় ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রায় ৬২ শতাংশ রয়েছে এবং ভারতে রয়েছে ৩৮ শতাংশ। সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনভূমি যেন হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক নানা ঘটনার সাক্ষীস্বরূপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ছাড়াও এটি বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছে এখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জীববৈচিত্র্যে ভরা বিশালতার জন্য। এখানে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ইরাবতী ডলফিন, নদী বিধৌত অঞ্চলে বসবাসরত কুমির ইত্যাদি। প্যান্থেরা টিগ্রিস প্রজাতির স্বাভাবিক আবাস ও জন্মস্থান এর জন্য এটি পৃথিবীর একমাত্র উত্তম স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়।
সবুজে ঘেরা সিলেট সিটি :
কোলাহলমুক্ত সিলেটের তামাবিল। ছবি : ট্যুর টুডে বিডি
সিলেট জেলা সবথেকে বেশি বিখ্যাত এর চা বাগান এবং আকর্ষনীয় অসংখ্য জলপ্রপাতের জন্য। সিলেটের চা বাগান শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত। এছাড়া এখানে রয়েছে বিখ্যাত জাফলং উপত্যকা।
ট্র্যাকিং-এর জন্য সিলেট একটি উত্তম জায়গা। এখানে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাতসহ আরও অসংখ্য জলপ্রপাত ও বেশ কিছু জনপ্রিয় অভয়ারণ্য রয়েছে।