দেশে দেশে ঈদের যত রঙ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: দেশে দেশে ঈদের যত রঙ


সৌদি আরব
সুন্নি মুসলমানদের দেশ সৌদি আরবের জাতীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। তিন দিন সরকারি ছুটি থাকে। বাংলাদেশের ঈদ উৎসবের সাথে সৌদি আরবের বেশ ভাল মিল রয়েছে। তাদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পুরুষরা তাদের ছেলে মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে বাবার বাসায় ঈদ পালন করে। ঈদ উপলক্ষে খাবার ও উপহার দেওয়া হয়। গরিবদের খাবার বিতরণ করা হয়। ঘরে ঘরে থাকে মিষ্টিজাতীয় খাবারের আয়োজন। এছাড়া ঘরের বাইরে পথে প্রান্তরে এবং পার্কে দেখা যায় বাচ্চাদের আনন্দমুখর মুখ।ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল ফিতরকে 'লেবারান' বলা হয়। রমজানের শেষ দিনে সন্ধ্যা হতে না হতেই ঢোল বাজানো, নাচ, গান, নামাজ আর বয়ানের ভেতর দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ উৎসব শুরু হয়ে যায়। এদিনে নারকেল পাতার ভেতর ভাপে দেওয়া চালের গুঁড়ার পিঠা 'কেতুপাত' বানানো হয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ইন্দোনেশিয়ার ঈদ উদযাপনের বিশেষ দিক, এসময় ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকগণ তাদের আত্মীয়স্বজন এবং পাড়া প্রতিবেশীর কাছে বিগত বছরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান। অনেক সময় এ ক্ষমার আবেদনসহ ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়ানোর পালা শেষ হতে কয়েক দিন লেগে যায়।


কাতার
আরব বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ কাতারে ঈদ শুরুই হয় বিচিত্র উপায়ে। তোপধ্বনি দিয়ে ঘোষণা করা হয় ঈদের চাঁদ দেখা গিয়েছে। এদিনে কাতারের নারীরা নতুন জুতা আর প্রায়ই সোনালি বা রুপালি সুতোয় নকশা করা কাফতান পরে থাকেন। ঈদের দিন সকালে সুন্নত মেনে তৈরি করা হয় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার। তবে সিদ্ধ ডিম আর মিষ্টি নুডলসে কাতারের বিখ্যাত রান্নাটি সব খাবারের মাঝে আলাদা আকর্ষণ। ঈদের নামাজ শেষে আগত মেহমানদের দারুচিনি দেওয়া কফি, গোলাপজলের সুবাসযুক্ত চা, বাকলাভা, ফল আর অন্যান্য মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। দুপুরের খাবারে ভাত ও ভেড়ার গোসত থাকে। রাজধানী দোহার বিভিন্ন স্থানে প্রতিকী তলোয়ার যুদ্ধ ও ঢোল বাজানোর মাধ্যমে বিনোদন কার্যক্রম চালায় কাতারের মুসলিমরা।

মিশর
ইসলামি রীতিনীতির সবচে বড় উৎসব সম্ভবত মিশরের বুকেই হয়। নীলনদের তীরবর্তী এই দেশে রমযান মাস থেকে শুরু হয় আনন্দের বন্যা। মিশরে ঈদ উল ফিতর আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এসময় স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, সরকারি অফিস এমনকি কিছু কিছু দোকান, রেস্টুরেন্টও বন্ধ থাকে। সামান্য নাস্তা করে এবং সবাই একত্রিত হয়ে সম্মিলিত ঈদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়। মিশরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে পার্ক, সিনেমা, থিয়েটার কিংবা সমুদ্রতটে ভ্রমণ করতে পছন্দ করে অধিকাংশ মিসরীয়। বিশেষ করে, বিখ্যাত অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘শারম আল শেখ’-এ উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় ঈদের দিনে। ঈদের দিনটিতে মিসরে বিশেষ খাবারের আইটেমে চিনি ও বাদামের ব্যবহার বেশি লক্ষ করা যায়।

তুরস্ক
ইসলামী ভাবধারার উৎসবের কথা আনা হবে আর অটোমান সম্রাজ্যের উৎপত্তিস্থল তুরস্কের নাম বাদ যাবে, এ যেন অকল্পনীয়! ইউরোপের মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে ঈদুল ফিতরকে বলা হয় 'সেকার বাইরাম'। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় চিনি উৎসব। এবং দিনটি ঠিক কিভাবে উদযাপিত হয় তা এই নাম থেকেই সহজে অনুমেয়। এই দিনটিকে সামনে রেখে তুর্কি নারীরা মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন ক্যান্ডি, পুডিং, কেক ও বাকালাভা নামের পেস্ট্রি প্রস্তুত করে।

মালয়েশিয়া
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায় ঈদুল ফিতর বড় করে উদযাপিত হয়। সবাই নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করে। দেশটিতে অবশ্য ঈদের আগের দিন থেকেই উৎসব পালিত হয়। ঈদের আগের রাতকে মালেশিয়ান ভাষায় তাকবিরান বলা হয়। মসজিদ ও রাস্তায় তাকবির ধ্বনি উচ্চারিত হয়। রাস্তাঘাটে মশাল, আতশবাজি পোড়ানো হয়।

ফিলিপাইন
একমাত্র খ্রিস্টপ্রধান দেশ যেখানে ঈদের সরকারি ছুটি থাকে সেটি ফিলিপাইন। সরকার কর্তৃক প্রজাতন্ত্র আইনের ৯১৭৭ ধারা অনুসারে এ দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০২ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি একই নির্দেশ জারি করে ১০৮৩ ধারাতে, যা পৃথিবীর একমাত্র খ্রিস্টান দেশে এটি চালু করা হয়।
জুবায়ের আহম্মেদ এস এম
