ডগন গোত্র : মাস্ক ডান্সের জন্য আফ্রিকার যে জাতি সারাবিশ্বে বিখ্যাত
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ডগন গোত্র - যে জাতির ঘরে থাকে না কোনো দরজা

কিন্তু উঠানামা অনেক কষ্টের হওয়ায় তারা পাহাড়ের ঢালেই বসতি গড়েছে। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো তারা পাহাড়ের নিচে থাকলেও, তাদের মৃত দেহ পাহাড়ের উঁচুতে গর্ত বা গুহায় সমাহিত করা হয়। তাদের রয়েছে একটি ছোট ছোট খুটি দিয়ে তৈরি একটি আচ্ছাদন সম্বলিত স্থান, যেখানে তারা তাদের গোত্রের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে থাকে। এই ঘরটির উচ্চতা অনেক কম যাতে করে আলোচনায় কেউ রাগান্বিত হলেও মারামারিতে জড়াতে না পারে। এদের একটি অদ্ভুত রীতি রয়েছে। তা হলো সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত স্বামী স্ত্রী একই ঘরে থাকতে পারে না। তাদের নেতা ‘হোগন’ হিসেবে পরিচিত, যিনি গ্রামের বয়:জ্যোষ্ঠদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কেউ এই নেতাকে স্পর্শ করতে পারবে না। এমনকি একজন সতী মেয়ে ছাড়া কেউ তার সেবাও করতে পারবে না। তাছাড়া সেবার পর মেয়েটিকেও তার নিজ ঘরে ফিরে যেতে হয়।
ডগন গোত্র ও মাস্ক ডান্স
মাস্ক ডান্সের জন্য তারা সারাবিশ্বে সুপরিচিত। ডামা ফেস্টিভ্যালের এই মাস্ক ডান্স সেখানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাদের পরিহিত মাস্কগুলোর দৈর্ঘ্য ২২ মিটার পর্যন্তও হয়ে থাকে। তাদের মোট জনসংখ্যা ৬ লাখ। তাদের মধ্যে কিছু মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর মানুষ থাকলেও অধিকাংশই তাদের নিজস্ব আদিম ধর্ম পালন করে থাকে। ডগনরা বেঞ্জিম, গুর ও ম্যান্ডে ভাষায় কথা বলে। তারা সবকিছুতেই তাদের ঐতিহ্য অনুসরণ করে কাজ করে। সেখানে আরও দেখতে পাবেন অসংখ্য কুমির। অদ্ভুত ঘরবাড়ি ছাড়াও আরও দেখতে পাবেন অদ্ভুত আকৃতির গাছ। তারা কাঠ দিয়ে বিভিন্ন আকৃতির ভাস্কর্য, মাস্ক ও মুর্তি তৈরি করে থাকে যা তারা তাদের ঘরবাড়ি সহ সকল স্থানে স্থাপন করে থাকে।গ্রীষ্মের মর্মান্তিক তাপদাহ এখানকার সব নদী-নালার পানি শুষে নেয়। শুধুমাত্র কিছু বিচ্ছিন্ন ডোবায় পানি দেখা যায়, যেগুলো থাকে মাছে পরিপূর্ণ। ডগনরা গ্রীষ্মের সময় মরু-মাছ শিকারে মেতে উঠে। অ্যান্টগো লেকে হাজার হাজার প্রতিযোগির সমাগম ঘটে। একটি মাছ ধরাও এখানে গৌরবের। সবাই যেকোনো মূল্যে মাছ ধরতে চায়।ফলে প্রতিযোগিতা এখানে আকাশচুম্বী। অন্য যেকোনো দিনে এখানে মাছ ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তারা চরন খরা মৌসুমের জন্য এই খাদ্যভান্ডার আগলে রাখে। কিন্তু প্রতিযোগিতার দিনে এই লেক সকলের জন্য উন্মুক্ত। ফলে এই দিন লেকের পাড় খুব দ্রুত পূর্ণ হয়ে পরে। কিন্তু অ্যান্টগো লেকের এক অলিখিত আইন আছে।
অনুষ্ঠানের পূর্বে অনুষ্ঠানের প্রধান লেকের খারাপ আত্মাদের দুরে সরিয়ে দিতে একটি মাছের খাচার ভেতরে থেকে মন্ত্র পড়ে প্রার্থনা করে। এই প্রার্থনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পানিতে নামা নিষিদ্ধ। মন্ত্র শেষ হওয়ার সাথে সাথে একযোগে ঝাপিয়ে পরে সবাই। মেতে উঠে মাছ শিকারের উৎসবে। এতো মানুষ থাকে যে, মাত্র ১৫ মিনিটেই লেকের সকল মাছ ধরা হয়ে যায়। ডগন গোত্রের এই সংস্কৃতি, এই উৎসব দেখতে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এখানে পারি জমায়।
মূল লেখা : হিস্টোরি ইনসাইডার পরিবর্তিত লেখা : আনিসুর রহমান এস এম
