বান্দরবানের উল্লেখযোগ্য কিছু হোটেল পরিচিতি

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: পাহাড়ের মাঝে প্রকৃতির নিখাদ সৌন্দর্য উপভোগে নির্মিত হোটেল-রিসোর্ট

 

নীলগিরি, বান্দরবান

নীলগিরি, বান্দরবান। ছবি : সংগৃহীত


বাংলাদেশের পর্যটন নগরীর কথা বললে সবার আগে যেকয়েকটা শহরের নাম মাথায় আসবে তার একটি অবশ্যই বান্দরবান। সারা বান্দরবানে ঘুরবার মত জায়গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রকৃতি আর মানবিক সভ্যতা এখানে এখনও মিলেমিশেই টিকে আছে। বান্দরবানে সাধারণত ডে-ট্যুর অনেকটাই অসম্ভব। রাত যাপন কিংবা ২/৩ দিন থাকতেই হবে ভালভাবে এখানে থাকবার জন্য। আর সেজন্যও ব্যবস্থা আছে হোটেল কিংবা রিসোর্টের। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বান্দরবানে নিবন্ধিত হোটেল সংখ্যা ৩৯টি হলেও আদতে সংখ্যাটি বেশ বড়। বান্দরবানের উল্লেখযোগ্য কিছু হোটেল এবং রিসোর্টের নাম জেনে নিতে পারেন

পর্যটন মোটেল, মেঘলা :

বান্দরবানে যে কয়েকটা স্পটে আপনি পুরো পরিবার নিয়ে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন তাদের মধ্যে মেঘলা বেশ উপরের দিকে থাকবে। মেঘলার এই পর্যটন মোটেল কম বাজেটে থাকার জন্য একেবারে আদর্শ বলা চলে। পাহাড় এবং লেকের পাশেই অবস্থিত বলে, মোটেলে অবকাশ যাপন করাটাও বেশ সুখকর।

পর্যটন মোটেল, মেঘলা।

পর্যটন মোটেল, মেঘলা। ছবি : সংগৃহীত


 মোটেলের ঘর বা বারান্দা থেকেও বেশ চমৎকার দৃশ্য চোখে পড়বে আপনার। আর এই অঞ্চলে যদি জ্যোৎস্না দেখতে পারেন তবে তা অন্য এক অনুভূতির জন্ম দেবে। বান্দরবান শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে থাকায় কিছুটা নিরিবিলি পরিবেশও মিলবে এখানে। মোটেল থেকে শহরে যেতে সিএনজি ভাড়া পড়বে প্রায় ১০০ টাকার মত। ১,২৫০ থেকে শুরু করে এসি বা নন-এসি ভেদে ভাড়া ২,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে এখানে।

নীলাচল এস্কেপ রিসোর্ট, নীলাচল :

বান্দরবানের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পটের মাঝে নীলাচল প্রথম দিকেই থাকবে। নীলাচল পাহাড় চূড়া থেকে মাত্র ৫০ গজ দুরেই এক প্রান্ত ঘেঁষে এর গড়ে উঠেছে নীলাচল এস্কেপ রিসোর্ট। নীলাচল নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে অনুভূতি তা হলো এখানে মেঘ ধরা যায়। এবং এই নেশাতেই অনেকেই ছুটে আসেন নীলাচলে। আর হ্যাঁ, নীলাচল এস্কেপ রিসোর্ট আপনাকে সেই সুযোগ দিবে।

নীলাচল এস্কেপ রিসোর্ট, বান্দরবান

নীলাচল এস্কেপ রিসোর্ট, বান্দরবান। ছবি : সংগৃহীত


প্রবল জনপ্রিয়তা, খানিক দূরত্ব আর সেইসাথে রুম সংখ্যার স্বল্পতা সব মিলিয়ে এখানে খরচা একটু বেশি। এই রিসোর্টে আসার জন্য বান্দরবান শহর থেকে ২০০ টাকা ভাড়ার পাশাপাশি গুণতে হবে নীলাচলে প্রবেশ ফি। আর রুমের জন্য ৩,০০০ টাকা। তবে, মেঘ ছোঁয়া আর অপূর্ব কিছুর জন্য খানিক ছাড় হয়তো দেয়া যেতেই পারে।

রিভার ভিউ, বান্দরবান :

ধরুন আপনার দল খানিক বড়। ৬-৭ জন বন্ধু একসাথে এসেছেন। ঘুরবেন একটু বেশি। আবার একসাথেও থাকতে চান। সেক্ষেত্রে রিভার ভিউ হোটেল আদর্শ। ১,৬০০ টাকায় চার বেডের রুমও আপনি পাবেন এই হোটেলে। সাঙ্গু নদীর তীর ঘেঁষে হোটেলটির অবস্থান বলেই হয়ত এর নাম রিভার ভিউ। এর ছাদে বসে সাঙ্গু নদীর এক অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন আপনি। দুই বেডের কাপল রুম ১৪০০ হলেও তিন বেড বা চার বেডে ভাড়া খানিক কম। সবমিলিয়ে মধ্যবিত্ত বাজেটে বান্দরবান শহরে এটি হতে পারে শ্রেষ্ঠ হোটেল।

রিভার ভিউ হোটেল, বান্দরবান

রিভার ভিউ হোটেল, বান্দরবান। ছবি : সংগৃহীত


হোটেল প্লাজা, বান্দরবান :

দল যদি ভারী হয়, তাহলে হোটেল প্লাজার চেয়ে ভাল কিছু হতেই পারেনা। পুরো ১০ বেডের ডরমিটরি আছে এখানে। ভাড়াও কেবল ৩,৫০০ টাকা। এছাড়া এসি, নন-এসি, দুই বা তিন বেডের রুম তো আছেই। আছে হোটেলের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থাও। বান্দরবান মূল শহরে নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে হোটেল প্লাজা বেশ ভাল একটি সুযোগ আপনার জন্য।

নীলগিরি রিসোর্ট, নীলগিরি, বান্দরবান :

নীলগিরি পাহাড়ের চুড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন এ রিসোর্টটি বান্দরবানের সবচেয়ে অসাধারণ রিসোর্ট বলা যায়। তবে এতে থাকার জন্য খানিক কাঠখড় পোড়াতে হয়। প্রায় ৫ মাস আগেই বুকিং দেয়ার প্রয়োজন হয়। সেই সাথে সেনাবাহিনী কর্মরত কারও মাধ্যমে যোগাযোগ করে বুকিং দিতে হবে।

নীলগিরি হিল রিসোর্ট, নীলগিরি

নীলগিরি হিল রিসোর্ট, নীলগিরি। ছবি : সংগৃহীত


তবে, সেনাবাহিনীর পরিচালিত বলেই এই কটেজে সুযোগ-সুবিধা, প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন এবং ভাড়া সবকিছুই একটু বেশি। এখানে কটেজ প্রতি ভাড়া ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত। এবং প্রতি কটেজে ২ জন থাকতে পারবেন।  

নাবিলা বুশরা    এস এম


Click Here To See More