রুন্ময় রিসোর্ট : ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খাগড়াছড়ির জনপ্রিয় রিসোর্ট
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম পছন্দের রিসোর্ট : রুন্ময় রিসোর্ট, খাগড়াছড়ি

রুন্ময় রিসোর্টটি মূলত খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সেনানিবাসে অবস্থিত (সাজেক রোড, সাজেক)। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার, সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টার মতো। রিসোর্টটি রাস্তার পাশেই অবস্থিত। তবে বলা বাহুল্য যে, মেঘের সাথে থাকার এক উপযুক্ত স্থান এই রিসোর্টটি।
রুন্ময় রিসোর্ট :
রুন্ময় দোতলা ছোট একটি রিসোর্ট। এতে আছে মোটেমাত্র ৫টি রুম। নিচ তলায় রুম আছে ৩টি, আর দোতলায় আছে ২টি। তবে রিসোর্ট প্রাঙ্গণে আছে ৪টি তাবু। আছে দোলনা আর মাচাং। তবে সবথেকে আকর্ষণীয় হলো এর প্রাকৃতিক দৃশ্য! চোখ যেনো ফিরতেই চায় না। মেঘ আর সবুজ পাহাড় যেনো এখানে মিশে গেছে। রিসোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়েই দেখা যায় সাদা মেঘের আনাগোনা।

আরও আকর্ষনীয় ব্যাপার হলো এই রিসোর্টের ছাউনিগুলো। লাল রঙের ছাউনি আর সাজসজ্জা সহজেই নজর কেড়ে নেয়। এখান থেকে খাগড়াছড়ি ও সাজেক কোনোটাই তেমন দূরে নয়। তাই সহজেই ঘুরে আসা যায় আশেপাশের অন্যন্য স্থানগুলো। তাই মেঘের সাথে সময় কাটাতে 'রুন্ময়' হতে পারে শীর্ষ পছন্দ।
রুম ভাড়া সম্পর্কিত তথ্য :

- প্রতিটি কক্ষে অতিথি থাকতে পারবেন– ২জন। নিচ তলা ও দোতলার জন্য একই ব্যবস্থা। তবে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করে তিন জন করেও থাকতে পারবেন।
- চারটি তাবুর প্রতিটিতে থাকতে পারবেন-৪ জন করে।
কী খাবেন : খাগড়াছড়িতে ঘুরতে গেলে সেখানে পাবেন বিভিন্ন স্বাদের খাবার, যা রান্না করা হয় আদিসাসী স্টাইলে। খাবারের রন্ধনশৈলীতে থাকে আদিবাসী ছোঁয়া। তবে যেনে নেয়া যাক এমন কিছু খাবারের কথা :
- ব্যাম্বু চিকেন : স্বাদ আর গন্ধে খাবারটি অসাধারণ, খাগড়াছড়ি গেলে যা অবশ্যই পরখ করা উচিৎ। পাহাড়ি মসলা, সাবারাং পাতার সাথে রান্না করা হয় মোরগের মাংস। কাঁচাবাঁশের ভিতরে রান্নার সরঞ্জাম ঢুকিয়ে কলাপাতা দিয়ে বন্ধ করা হয় বাঁশের মুখ, তারপর এটাকে রান্না করা হয় কয়লার আগুনে।
- থানকুনি পাতার সালাদ : আদিবাসী খাবার ঘরে এই খাবারটি সচরাচর পাওয়া যায়। থানকুনি পাতার অনেক ভেষজ গুণ আছে। এই পাতার সাথে কাঁচা শশা, পেয়াঁজকুচি, টমেটো আর ঝাল লংকা দিয়ে তৈরি করা হয় এই সালাদ।
- কচিঁবাশেঁর ভাজি : কচিবাশেঁর নরম অংশ বা বাশঁকোড়ল এর সাথে চিংড়ি শুটকি এর রসায়ন হলো এই রান্নাটি। তবে এটি পাওয়া যায় বর্ষাকালে, কারণ এই সময় কচিবাঁশ পাওয়া যায়।
- সুচ মরিচের ভর্তা : যারা ঝাল খেতে পছন্দ করেন খাবারটি তাদের পছন্দ হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সবজির সাথে মরিচ যোগে এই খাবার রান্না হয়।
- এসব খাবার ছাড়াও পাহাড়ি আনারস, কলা, পেঁপে, তেঁতুল ইত্যাদি ফল খুবই সুস্বাদু। আর যারা চা পান করতে ভালোবাসেন তারা স্থানীয় টং এর দোকানে ‘বাঁশের চা’ পান করতে পারেন।