বিশ্বজুড়ে সব অদ্ভুতুড়ে উৎসব
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বিশ্বজুড়ে সব অদ্ভুতুড়ে উৎসব

নাকি সুমো, জাপান
সুমো শব্দটি দেখলেই আমাদের মাথায় আসে জাপানের বিশালদেহী পালোয়ানদের কথা। এই উৎসবটিতে কিন্তু পালোয়ানেরা মারামারি করে না। বরং এই উৎসবের মূল আকর্ষণ কেড়ে নেয় তাদের কোলে থাকা শিশুরা। এখানে পালোয়ানদের কোলে দেয়া হয় দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের। পালোয়ানেরা তাদের কোলে থাকা শিশুদের ধীরে ধীরে দোলাতে থাকে। অন্য একজন কোলে থাকা শিশুদের 'নাকি নাকি' (কাদোঁ কাদোঁ) বলে চিৎকার করতে থাকে। যার কোলে থাকা শিশু প্রথম কেদেঁ ওঠে সে এই খেলার বিজয়ী হয়। মনে করা হয় এই উৎসবে যেসব শিশুরা কান্না করবে তাদের সামনের দিনগুলো ভালো কাটবে।
মাংকি ব্যুফে, থাইল্যান্ড
বানরদের জন্য আয়োজিত এই উৎসবের মূল অতিথি হলো বানরেরা। থাইল্যান্ডের একটি ছোট্ট শহর লাপবুরির বনে প্রতিবছর বানরদের জন্য আয়োজন করা হয় এই ব্যুফের। এদিন বানরদের জন্য নানারকম খাবার যেমন : ফল, কেক, মিষ্টি ইত্যাদি বনের মধ্যে সাজিয়ে রাখা হয়। শুধু খাবার দিয়েই নয়, বানরদের মনোরঞ্জনের জন্য থাইল্যান্ডবাসীরা বানরের মত পোশাক পড়ে চারদিকে নাচতে থাকে। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বানরদের জন্য এই আয়োজন করা হয়ে থাকে। [caption id="attachment_16007" align="aligncenter" width="842"]
হেয়ার ফ্রিজিং উৎসব, কানাডা
উৎসব হবে আনন্দের। তবে, কানাডার এই উৎসবটি একইসাথে কষ্টদায়ক ও রোমাঞ্চকর। কানাডার তাকহিনি শহরে প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাইনাস পাচঁ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবাই সুইমিংপুলের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে রক্ষা যে উৎসবের জন্য সুইমিংপুলে গরম পানি দেয়া হয়। প্রথমে বেশ ভালোকরে চুল ভিজিয়ে তারপর দাঁড়িয়ে যায়। ঠান্ডা বাতাসে চুল বরফ হয়ে যায়। কে কতক্ষণ এই বরফ চুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে সেই নিয়ে হয় প্রতিযোগিতা।
ডেভিলস জাম্প, স্পেন
স্পেনের কাস্ত্রিলো দে মার্সিয়া গ্রামে বলতে গেলে এক ভয়ানক উৎসব পালন করা হয়ে থাকে। বহু বছর ধরে পালন করে আসা আয়োজনটির নাম 'ডেভিলস জাম্প' বা শয়তানের লাফ। উৎসবটিতে ছোট ছোট শিশুদের সারিবদ্ধকরে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়। এই শিশুদের ওপর দিয়ে দৌড়ে যেতে হবে। নামের দিক দিয়ে বলা যায় উৎসবটির যথার্থ নামকরণই হয়েছে। তারা মনে করে, শিশুদের ওপর দিয়ে এভাবে দৌড়ে গেলে শিশুরা শয়তানের কুনজর থেকে মুক্তি পাবে এবং সারাবছর সুস্থ থাকবে। কিন্তু এভাবে দৌড়ে যাওয়ার মাঝে যদি কোনধরণের ভুল হয় তবে তার পরিণতি হবে মারাত্মক। ১৬২০ সাল থেকে চালু হওয়া এই উৎসবটি দেখতে প্রায় হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে।পনির দৌড়, ইংল্যান্ড
পনিরের জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারবেন? তাও আবার খাড়া পাহাড় বেয়ে নামার প্রতিযোগিতা। হ্যা, পনিরের এমন একটি উৎসবের আয়োজন করা হয় সাউথ ইস্ট ইংল্যান্ডে। চিজ রোলিং রেস নামে পরিচিত এই উৎসবে আগে স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করলেও এখন বিভিন্ন পর্যটকেরাও অংশগ্রহণ করে। তবে রেস শেষে অনেককেই পনিরের স্বাদ পাওয়ার বদলে কিছুদিনের জন্য থাকতে হয় হাসপাতালে।ইন্দিরা বিশ্বাস এস এম
