মহেন্দ্র গুহা : গা ছমছম করা পরিবেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সন্ধান
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য একটি পবিত্র স্থান নেপালের চুনা পাথরের এই গুহা
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দ মহেন্দ্র গুহা । ছবি : হলিডিফাই
হিমালয়ঘেরা নেপালের কেন্দ্রে অবস্থিত শহর পোখরা। কাঠমাণ্ডু উপত্যকার পশ্চিমে অবস্থিত শহরটি নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। সাত হ্রদের শহর নামে পরিচিত পোখরা শহর পর্যটকদের পছন্দের একটি শহর। প্রাকৃতিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই শহর পৃথিবীর মধ্যে যেন এক টুকরো স্বর্গ। আর তাই তো প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক দূর দূরান্ত থেকে নেপাল এর এই শহরে ঘুরতে আসে। পোখরা শহরে দেখার মতো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এখানকার সুন্দর স্বচ্ছ লেক মনকে যেমন শান্ত করে তেমনই দিগন্তজোড়া পাহাড়ের দৃশ্য মনকে উদার করে তোলে। আবার এখানকার মনোরম পরিবেশ দেখার সাথে পর্যটকরা নৌকায় ঘুরে বেড়াতেও বেশ পছন্দ করে।
পর্যটকদের সুবিধার্তে গুহার ভেতরে রয়েছে অলো। ছবি : নেপাল ট্রাভেল গাইড
পোখারা শহরটির জলপ্রপাতের জন্য বিখ্যাত। এখানে বেশ কয়েকটি জলপ্রপাত রয়েছে। তার মধ্যে ডেভিস ফলস অন্যতম। এই অনিন্দ্যসুন্দর জলপ্রপাতের পানি ফেওয়া লেকে এসে মিশেছে। এর ধারে দাঁড়ালে শরীর ভিজে যাবে জলকণায়। ডেভিস ফল-এর বিপরীতে চুনা পাথরের গুহাটিকে মহেন্দ্র গুহা বলে। এই গুহাটি মৃত রাজা মহেন্দ্র বির বিক্রম শাহাদেব-এর নামে নামকরণ করা হয়। এর ভেতরে ছোট ছোট অল্প পাওয়ারের বাল্ব লাগানো আছে। ভেতরে ঢুকতে একজন গাইড এবং প্রত্যেক পর্যটকের একটি করে টর্চের প্রয়োজন হয়। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীরা গুহার ভেতরে তাদের প্রধান যুদ্ধ দেবতা মহাদেবের মূর্তি স্থাপন করেছেন। সেখানে একজন পুরোহিতও আছেন। এটি তাদের একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ও। ভেতরে পায়ের নিচে বড় বড় পাথর, স্বল্প আলো, হাতে টর্চ, সাথে গাইড, গা ছমছম পরিবেশ দর্শনার্থীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে। প্লাইস্টোসিন যুগের চুনাপাথরের এই গুহায় এক সময় মাহেন্দ্র নামের এক রাজা বাস থাকতো আর তার নামানুসারে এই গুহার নামকরন করা হয়।
বোটানিক্যাল গার্ডেন দিয়ে ঘেরা এই গুহা ঘুরে ঘুরে দেখলে ইতিহাসের অনেক কিছু জানা যাবে।মহেন্দ্র কেভ থেকে ফিশ টেইল ও অন্নপূর্ণার গ্লেসিয়ার থেকে সৃষ্ট হওয়া দুধ সাদা, সফেন খরস্রোতা শ্বেতি নদীর দেখা পাওয়া যায়। আরও কিছু দূরে আরেকটি গুহা আছে, যার নাম 'চামেরি গুহা'। এর ভেতরে প্রচুর বাদুরও আছে। এটি ব্যাট কেভ বা বাদুর গুহা নামেও খ্যাত। এর প্রবেশদ্বার সংকীর্ণ হলেও গুহার ভেতরের অংশ যথেষ্ট প্রশস্ত। এই গুহা বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার বাদুরের আবাসভূমি।
গুহার ভিতরে পবিত্র শিব মূর্তি। ছবি : পাথ ইস মাই গোল
পোখরায় দাঁড়িয়ে চোখ মেলে দেখা যায় হিমালয় পর্বতমালা। এই কারণে পোখরাকে 'মাউন্টেন ভিউ' বলেও রসিকতা করেন ভ্রমণরসিকরা। এখান থেকে হেলিকপটার ভাড়া করে যাওয়া যায় মুক্তিনাথে। সেখানে গেলে মন মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে উড়তে চায়। আরও পড়ুন : হিমালয়ের বুকে বিস্তীর্ণ রূপের নিদর্শনসমূহ নাগারকোটে এছাড়া ফেওয়া লেক, ঝর্ণা এবং মহেন্দ্র গুহার জন্য পোখরায় বেড়াতে গেলে নেই জায়গাটি হয়ে উঠে মনোরঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দু। ফেওয়া লেকের জলে স্নোরকেলিং কিংবা নৌভ্রমণের আনন্দ নেওয়া আবশ্যক।
জনপ্রিয় পর্যটন শহর হিসেবে পরিচিত পোখরা। ছবি : স্নো ক্যাট ট্রাভেল
মার্চ থেকে এপ্রিল এবং আগাস্ট থেকে নভেম্বর এই ছয় মাসের যে কোনো সময় ঘুরে আসা যায় নেপালের পোখরা থেকে। বাসে কাঠমুন্ডু থেকে পোখরা যাওয়ার ক্ষেত্রে রিভার সাইডের সিট নিলে আশেপাশের সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। পাহাড়ি রাস্তার দু-পাশের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যাওয়া। পোখরাতে ট্রেকিং করতে চাইলে হাতে ২-৩ দিন সময় নিয়ে যাওয়া ভালো। এছাড়া এখানে মোটরবাইকে সাইটসিয়িং এর সুযোগ আছে, তাই একটু বেশি সময় নিয়ে যাওয়া ভালো। স্বর্গীয় শহরে ভ্রমণ নিরাপদ হোক এবং পরিবেশ রক্ষার্থে সব পর্যটকেরা সচেতন হোক। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার মাধ্যমে আমরা আমাদের সচেতনতার পরিচয় দিতে পারি।