সাফিনা পার্ক : গ্রামীণ আবহে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সাফিনা পার্ক
পদ্মার পাড়ের শহর রাজশাহী। প্রাচীন এই শহরটি শুধু তার আম ও রেশমি কাপড়ের জন্যই জনপ্রিয় নয়, এর রয়েছে দর্শনীয় স্থানের প্রাচুর্যতাও। আর তাই ভ্রমণপ্রেমীদের আনাগোনায় এই শহরের নানান আকর্ষণীয় জায়গাগুলো মুখর হয়ে থাকে সবসময়। ছোট থেকে বড় সব বয়সের মানুষের জন্য শহরটিতে রয়েছে বিনোদনের নানান জায়গা। যারা শহুরে কোলাহল থেকে নীরবতার খোঁজে পরিবার-পরিজন নিয়ে চমৎকার একটি ভ্রমণ স্থান খুঁজছেন, তারা খুব সহজেই চলে যেতে পারেন রাজশাহীর সাফিনা পার্কে। গ্রামীণ আবহে আধুনিক বিনোদনের উপকরণে সাজানো এই পার্কটি আপনার পুরো পরিবারের ছুটির দিনকে করে তুলবে আনন্দপূর্ণ। সাফিনা পার্কে যাওয়ার জন্য আপনাকে যেতে হবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে। উপজেলা সদরের ডাইংপাড়ার পূর্বদিকে আট কিলোমিটার গেলেই খেঁজুরতলা। আর এখানেই দাঁড়িয়ে আছে সাফিনা পার্ক।
গ্রামীণ সৌন্দর্যের আবহে আধুনিক এই পার্কটি দর্শনার্থীদের নজর কাড়বেই। সাফিনা পার্কে যাওয়ার সময় রাস্তার দু-পাশে অবিরাম সবুজের সারি মনকে সতেজ করে তুলবে। নির্মল-মুক্ত বাতাস আর ধানের সবুজের সমারোহ এই পথের সৌন্দর্যকে করেছে অপরূপ। নজরকাড়া সাফিনা পার্কটি শিশুদের জন্য দারুণ একটি জায়গা। তবে, শুধু শিশুই নয়, বড়দের জন্যও এখানে রয়েছে বিনোদনের নানান আয়োজন। পুরো পরিবারের জন্যই আধুনিক নানান বিনোদনের উপকরণে সাজানো হয়েছে পুরো পার্কটি। পার্কের প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে ডানপাশের অফিসকক্ষ। আর ভেতরে গেলেই চোখ জুড়িয়ে যায় পার্ক জুড়ে ছড়ানো সবুজের সমারোহে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা এই পার্কটি চল্লিশ বিঘা জায়গার ওপর বিস্তৃত।
সাফিনা পার্ক
পুরো পার্কজুড়ে রয়েছে ফুলের বাগানের সমারোহ। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সুবাসে মৌ মৌ করে সমস্ত পার্কটি। বিভিন্ন রকম ফল, ফুল ও ঔষধি গাছ দিয়ে ঘেরা এই পার্কটি তাই মন-প্রাণ সতেজ করে তুলবে। এখানে রয়েছে পানির ফোয়ারা এবং নানা রকম পশুপাখির দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। পার্কের ভিতরে দুইটি লেক রয়েছে। চাইলেই এই লেকগুলোতে নৌকা নিয়ে ঘুরতে পারবেন। এছাড়া চাইলে মাছও ধরতে পারবেন লেকে। বাচ্চাদের জন্য এখানে নানা রকম রাইডের আয়োজন করা হয়েছে ।
নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেনসহ আরও নানা রকম রাইডে চড়ে বাচ্চারা ইচ্ছেমত আনন্দ করতে পারবে। এছাড়া বড়দের জন্যও এই পার্কে রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। পিকনিকের জন্য দারুণ একটি স্পট হলো এই পার্ক। পিকনিকের জন্য এখানে খড় ও টিনের ছাউনি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পিকনিক স্পট। গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া দিতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। পিকনিক আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। রয়েছে নামাজের সুব্যবস্থা। সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পার্কের ভিতরে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক মঞ্চ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স কক্ষ। এছাড়া পার্কের ভেতরেই রয়েছে আধুনিক রেস্টুরেন্ট, কনফেকশনারি ও ফাস্টফুডের দোকান।
পার্কের ভিতরেই গড়ে তোলা হয়েছে মার্কেট। এখান থেকে বাচ্চাদের খেলনাসহ বিভিন্ন রকম জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারবেন। সময়কে আরও উপভোগ্য করতে এখানে আছে ফাইভ ডি সিনেমা দেখার ব্যবস্থা। যারা এখানে রাত্রি যাপন করতে চান তাদের জন্য পার্কটিতে রয়েছে বিলাসবহুল আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থা। মোট তেরটি অত্যাধুনিক কক্ষ রয়েছে এই হোটেলটিতে। যার মধ্যে পাবেন তিনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ। এছাড়াও রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা।
সাফিনা পার্ক
সবমিলিয়ে চিরচেনা গ্রামীণ সৌন্দর্যের মাঝে আধুনিক ও মনোরম এই পার্কটি আপনার পরিবারের সবাইকে আনন্দে মাতিয়ে রাখবে। এই পার্কটিতে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা। সাফিনা পার্কের আশেপাশে দেখার মত আরও অনেক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। সাফিনা পার্ক ঘুরে ফিরতে পথে পদ্মা নদীর সূর্যাস্ত উপভোগ করে আসতে পারেন। এছাড়াও সর্বমঙ্গলা ইকো পার্ক,ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গবাড়ী দেখে আসতে পারেন।যেভাবে যাবেন সাফিনা পার্কে :
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে রাজশাহী যেতে পারেন। ঢাকার গাবতলি, কল্যাণপুর থেকে গ্রিন লাইন এবং দেশ ট্রাভেলস এর এসি বাস রয়েছে। ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা। এছাড়া শ্যামলী, হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, বাবলু এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদির নন-এসি বাস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এগুলোতে ভাড়া পড়বে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সপ্তাহের ছয়দিন সিল্ক-সিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরপর রাজশাহী শহর থেকে বাস, সিএনজি অথবা অটোরিকশায় চড়ে চলে আসবেন গোদাগাড়ী জিরো পয়েন্টে। সেখান থেকে অটোরিকশায় চড়ে গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কের পাশে দিগরাম খেঁজুরতলায় আসলেই পেয়ে যাবেন সাফিনা পার্ক।আরো পড়ুন ঃ বাবা আদমের মাজার ও প্রখ্যাত দিঘী : আদমদিঘী, বগুড়া
ফেসবুক পেইজঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ
রুবাইদা আক্তার এস এম
