রেকজাভিক : গন্তব্য যখন ভাইকিংদের একটি দেশের রাজধানী
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল আগুনের দেশ হিসেবে পরিচিত আইসল্যান্ডের বৃহত্তম শহর এটি

রেকজাভিক আইসল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে সেলথিয়ার্নার উপদ্বীপের উত্তরাংশে এবং ফাখসাফ্লোই উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে অবস্থিত। আইসল্যান্সের শিল্প এবং বানিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটি। রেকজাভিক অর্থ 'ধোঁয়ার উপসাগর'। ২৭৪ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শহরে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যা রয়েছে এবং আইসল্যান্ডের প্রায় ৬০ ভাগ জনসংখ্যাই এই শহরে বসবাস করে। এই শহরে পাঁচটি পৌরসভা রয়েছে। যদিও এটি ইউরোপের সবচেয়ে ছোট রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে একটি, তবুও এই ছোট শহরটি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্রের দাবিদার। রেকজাভিক শহর ভ্রমণব্যাতীত আইসল্যান্ড ভ্রমণ অস্পূর্নই থেকে যাবে। জানা যায়, ৮৭৪ সালে প্রথম ইনগোলফুর আর্নারসন নামের এক ভাইকিং নাবিক এই শহরে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৭৮৬ সালে রেকজাভিককে পৌর শহরের মর্যাদা দেয়া হয় এবং ডেনীয়-শাসিত আইসল্যান্ডের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৮৪৩ সালে শহরটিতে আইসল্যান্ডের আইনসভা আলথিং স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯১৮ সালে এটিকে আইসল্যান্ডের রাজধানী ঘোষনা করা হয়। রেকজাভিক একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহর। শহরের বেশিরভাগ দালান কংক্রিট দিয়ে নির্মিত। আইসল্যান্ডকে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ খুবই বন্ধুসুলভ এবং অনেক সাহায্য করে থাকে।

আইসল্যান্ড নামটি শুনলেই অনেকে ভাবেন দেশটি হয়তো শীতপ্রধান দেশ। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। গ্রীষ্মকালীন সময়ে তাপ গড়ে প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে এবং শীতকালে তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে। এই শহর শপিং-এর জন্যেও জনপ্রিয়। বিশাল বিশাল শপিং মল রয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে : ক্রিংলান এবং স্মারালিড। এই মলগুলোতে ব্রান্ডের খুব ভালো পোশাকসহ নিত্য দিনের ব্যবহার্য জিনিসপত্র পাওয়া যায়।
দেখার স্থান সমূহ : রেকজাভিক শহরে ঘোরার মতো অনেক স্থান রয়েছে। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষন এই সকল স্থান ভ্রমন। এখানে হলগ্রামস্কির্কজা নামের একটি প্যারিস গির্জা রয়েছে। ১৯৪০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয় গির্জাটি। ৪ দশমিক ৫ মিটারের এই টাওয়ারটির একেবারে ঠিক সামনে লিফ এরিকসনের একটি মূর্তি রয়েছে।

পর্যটকের অন্যতম আকর্ষন আইসল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘর। এই জাদুঘরটি প্রায় ১,২০০ বছরের পুরোনো ইতিহাস ধারন করে রয়েছে। এই জাদুঘরে ১৩ শতকের ভ্যালাজফস্টস্টোর দরজা সংগ্রহে আছে, আরও আছে হাজারটি ফটোগ্রাফি। হারপা প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ২০০৭ সালে শুরু হয় এবং ২০১১ সালে শেষ হয়। এটি রেকজাভিকের অসাধারণ একটি নিদর্শন। এছাড়া, শহরের শীর্ষ এসজান থেকে শহরের সুন্দর দৃশ্যাবলী দেখতেও যান অনেকে। এটি শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে।

রেকজাভিক শহরে রয়েছে আরও দেখার মতো স্থান। ভাইয়ে দ্বীপ, রেকাজাভিক মেরিটাইম জাদুঘর, সাগা জাদুঘর, পার্লান, সমুদ্র সৈকত, হাফনারহিস, আগ্নেয়গিরি ঘর, আইনার জানসন জাদুঘর, নর্ডিক হাউজসহ আরো অনেক জায়গা রয়েছে যেগুলো ভ্রমণব্যাতীত রেকজাভিক ভ্রমণ সম্পূর্নই হবে না। এছাড়া, রেকজাভিক দিনে কিংবা রাতে ভ্রমণ যেন আলাদা আলাদা অনুভুতি দেয়। দিনে শহর সাজে এক রুপে আবার রাতে অন্য রুপে। যদিও ভ্রমণে দিন রাতের অনুভুতি ভিন্ন। তবে এই শহর সবসময় পর্যটকদের মুগ্ধ করেই আসছে।
থাকা এবং খাওয়া : রেকজাভিক শহরে উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে : গেস্টহাউস অরোরা, গেস্টহাউস সুন্না, আলফ্রেডের অ্যাপার্টমেন্ট, ফসহোটেল লিন্ড, রেডিসন ব্লু ১৯১৯ হোটেল, রেডিসন ব্লু সাগা হোটেল ইত্যাদি। খাবারে জন্য রেয়েছে রেস্তোঁরা, শহর জুড়েই রয়েছে ক্যাফে। এছাড়া থাই রেস্তোরাও পাওয়া যাবে আশেপাশেই। ফাস্টফুডের দোকানও রয়েছে শহরজুড়ে। কেএফসি, সাবওয়ের মতো শপগুলোও পাওয়া যায় এই শহরে।
সুমাইয়া জান্নাত এস এম
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, উইকিট্রাভেল, হেলকা, ট্যুরিজম ইন রেকজাভিক