রসনামৃত : কুমড়ো পাতার ইলশে বড়া

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বাঙালি খাবার কুমড়ো পাতার ইলশে বড়া


কুমড়ো পাতার ইলশে বড়া

কুমড়ো পাতার বড়া; ছবি : সংগৃহীত


বাঙালির প্রচলিত খাদ্য তালিকায় শুটকির বিভিন্ন উপকরণ গুলো বেশ জনপ্রিয়। শুটকির প্রকারের ভিন্নতার কারণে এর রান্নার ধরণ ও স্বাদ হয় ভিন্ন ও চমকদার। সাধারণত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। দেশি জাতের মাছের শুঁটকি সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ সনাতন পদ্ধতিতে মাছ প্রক্রিয়াকরণ করে তদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

একে আবার আধা গাঁজনকৃত মৎস্য পণ্যও বলা হয়ে থাকে, কারণ এ পণ্য প্রস্তুত প্রণালীতে চূড়ান্তভাবে গাঁজন প্রক্রিয়া সম্প্ন হয় না এবং চূড়ান্ত পণ্যটি আধা-কঠিন কাঠামো প্রাপ্ত হয়। এর প্রস্তত প্রণালিটাও বৈচিত্র্যময়, সবার পক্ষে তা তৈরি করা সম্ভব হয়না। ইলিশ মাছ কেও কেটে লবন দিয়ে রোদে শুকিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় নোনা ইলিশ। নোনা ইলিশ আর কুমড়ো পাতা দিয়ে তৈরি বড়া মজাদার একটা বাঙালি গ্রামীণ খাবার। আজ জেনে নিন কুমড়ো পাতার ইলশে বড়ার খাবার রেসিপি ও উপকরণ নিয়ে।

আরও পড়ুন : রসনামৃত : হাতে বানানো সেমাই পিঠা বা চালের সেমাই

উপকরণ

নোনা ইলিশ মাছ -১২৫ গ্রাম (৩/৪ টুকরা) পিয়াজ - ২টা মাঝারি কাঁচা মরিচ -৩/৪ ট রসুন-৩/৪ কোয়া চালের গুঁড়া বেসন হলুদ লবন কুমড়ো পাতা


কুমড়ো পাতার ইলশে বড়া

খুব সহজেই বাড়িতে বানাতে পারেন এই মজাদার খাবারটি; ছবি : বেঙলি স্টাইল রেসিপি


প্রণালী

১. ইলিশ মাছ'কে পরম জলে ধুয়ে কেলে ভাজতে হবে। ভাজার পরে মাছটাকে শিল পাটায় বাটতে হবে বা ব্লেন্ডারে গুড়া করে নিতে হবে।

২. পিয়াজ,কাচা মরিচ, রসুনের কুঁচি, স্বাদমত লবন, একটু হলুদ একই তেলে ভাজতে হবে। তারপর তেলের মাঝে গুঁড়া করা নোনা ইলিশ দিয়ে দিতে হবে।

৩. কুমড়ো পাতা ভাল করে ধুয়ে তাতে তৈরিকৃত নোনা ইলিশ মাছের মিশ্রণ কে কুমড়া পাতাতে আবদ্ধ করে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন : রসনামৃত : জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবার পিঠালি
৪. একটি বাটিতে পরিমাণ মত চালের গুঁড়া, বেসন, অল্প হলুদের গুঁড়া, পরিমাণ মত লবন, মরিচের গুঁড়া দিয়ে অল্প পরিমাণে জল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করতে হযে। উল্লেখ্য যে, এখানে চালের গুঁড়ার পরিমাণটা একটু বেশি পরিমাণে দিতে হবে ও বেসনের পরিমাণটা কিছুটা কম দিতে হবে।

৫. একটি কড়াইয়ে পরিমাণ মত তেল নিয়ে তা গরম করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তেল বেশি গরম হয়ে পুড়ে না যায়। মোটামুটি গরম হলে সেই তেলে তৈরিকৃত কুমড়া পাতার বড়াকে ভাজার জন্যে চালের গুঁড়ার মিশ্রণে ডুবিয়ে তেলে আস্তে করে ছেড়ে দিতে হবে।

৬. অল্প আঁচে ভেজে বড়া গুলোকে তুলে পরিবেশন করুন।

টিপস * কুমড়ো পাতা লবন দিয়া ভিজিয় রাখেতে পারলে পাতাটা কিছুটা নরম হবে। * বড়া গুলোকে তেল থেকে নামানোর পর টিস্যুতে রাখতে পারেন এতে করে অতিরিক্ত তেল টিস্যুর সাথে লাগে যাবে।   এস এম