ভ্রমণের নতুন দিগন্তের সন্ধানে সিলেটের লক্ষণছড়া ঝরনায়
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল লক্ষণছড়া, সিলেট : সবুজ পাহাড়ের হাতছানি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার এক অনন্য পাহাড়ি এলাকা লক্ষণছড়া। মূলত এটি ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত হওয়া পাহাড়ি ঝিরি। পিয়াইন নদীতে নৌকা নিয়ে যেতে যেতে পান্তুমাই পেছনে ফেলে বিছানাকান্দি যাওয়ার পথেই পড়ে এই লক্ষণছড়া ঝিরিটি। রুস্তমপুর গ্রামের আল ধরে মেঠোপথে হাঁটতে হাঁটতে ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করা শুরু হয়ে যায় অজান্তেই। ভারত-বাংলার যৌথ উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী অস্থায়ী লাখাট বাজারের পাশ দিয়ে পাহাড়ের কাছাকাছি হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি কিন্তু একদম অন্যরকম। সে এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণের নতুন দিগন্তের উন্মোচন যেন। সবুজ গাছগাছালি আর ধানের ক্ষেতের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ মেঠোপথে হেঁটে যেতে যেতে কীভাবে যে সময় কেটে যায় বোঝাই যায় না। উল্লেখ্য, প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার চার দিন পর পর লাখাট বাজারে কমলা, পান-সুপারি, নাসপাতি, সাতকরা, পোশাক-পরিচ্ছদ, জুতাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয় হয় ভারতের সীমানায়। চাইলেই একটু দেখে নেয়া যায় বাজারের এসব টুকিটাকি জিনিসপত্র।

ঝকঝকে আকাশ, কোমল রোদ্দুর, হিমেল বাতাস, পাখির কলতান, সবুজ পাহাড়ের হাতছানি, সীমান্তবাসীর আনাগোনা, পাশাপাশি থেকেও আলাদা ভাষার কথা, পোশাক-পরিচ্ছদ, মাটি ও মানুষের বিচিত্রতা মনকে পুলকিত করবেই। স্থানীয় লক্ষণছড়া বাজারের পাশে মায়াপরী ঝরনা অবস্থিত। সিলেটের কিছু মানুষের দেয়া এই ঝরনার নাম। এই এলাকার মানুষেরও সমর্থন রয়েছে এই নামকরনে। পাথরের বুক ঘেঁষে স্বচ্ছ ঝলমল পানি মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন ছড়া থেকে একযোগে লক্ষণছড়া মায়াপরি ঝরনা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। স্থানীয় বাসীন্দারা গোসল, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনে এই পানি ব্যবহার করে থাকে।

রুস্তমপুর গ্রামে যেয়ে ঘাটে নৌকা রেখে বিশ মিনিটের হাটা পথ পেরুলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে লক্ষণছড়া। পাহাড়ি ওই ঝিরিপথ ধরে কিছুটা এগিয়ে গেলেই শোনা যাবে পাহাড়ি ঝরনার নিজস্ব সঙ্গীত। মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনা থেকে নেমে আসা এই ঝিরিপথের পরিসর ক্ষুদ্র হলেও সৌন্দর্য কিন্তু কোন অংশেই কম নয়। একটু দূরেই ভারতীয় সীমানায় রয়েছে চলাচলের জন্য বাকানো ছোট ব্রিজ। এই ব্রিজটার নিচে জমে থাকা বিভিন্ন আকারের পাথরগুলোর জন্য এক অনন্য ঝিরিপথের সৃষ্টি হয়েছে। আসলে লক্ষণছড়ার এই ভীনদেশী ব্রিজটা কাছে থেকেও যেন বহুদূরে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেই যেন কেমন এক স্বপ্নলোক গড়ে তুলেছে। শীতকাল ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময় হলেও লক্ষণছড়ার জলজ রূপকথার পরিপূর্ণতা উপভোগ করতে হলে সেখানে যেতে হবে ভরা বর্ষায়।

সিলেট থেকে লক্ষণছড়া দুই ভাবে যাওয়া যেতে পারে। সিলেট থেকে গোয়াইনঘাট হয়ে হাদারপার এসে নৌকা ঠিক করে লক্ষণছড়া যাওয়া যায়। আবার সিলেটের আম্বরখানা থেকে লোকালে বা সিএনজি রিজার্ভ নিয়েও হাদারপার আসা যায়। ভালো হয় যদি বিছনাকান্দি, পান্থুমাই ঝরনা এবং লক্ষণছড়া একসাথে একদিনে ঘুরে আসা যায়। জায়গাগুলো দেখে হাদারপাড়ে ফিরে আসতে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। তবে লক্ষণছড়া যেতে হলে প্রথমেই আসতে হবে সিলেট শহরে। ঢাকা থেকে সড়ক, ট্রেন ও আকাশপথে সিলেট যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেটের দূরত্ব ২৪১ কিলোমিটার। ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস স্টেশন থেকে সরাসরি সিলেট যাওয়ার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। এই বাসগুলোতে করে ঢাকা থেকে সিলেটে যাতায়াত করতে সাড়ে চার থেকে ছয় ঘন্টার মত সময় লাগে। ঢাকা থেকে সিলেটগামী নন-এসি বাসগুলো হল ইউনিক সার্ভিস, শ্যামলী পরিবহন, এনা, আল মোবারাকা, মামুন এন্টারপ্রাইজ, আর পি এলিগ্যান্স ও হানিফ এন্টারপ্রাইজ। ভাড়া ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকা। আর এসি বাসগুলো হলো গ্রিন লাইন পরিবহন, সৌদিয়া এসআলম পরিবহন, শ্যামলি পরিবহন, লন্ডন এক্সপ্রেস পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন পরিবহন। ভাড়া ৯৫০ থেকে ১,২০০ টাকা। ঢাকা থেকে সিলেট রেল স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সিলেটগামী ট্রেনে সরাসরি সিলেট আসা যায় সাত থেকে আট ঘন্টার মধ্য। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন অনেকগুলো ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হল পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও কালনি এক্সপ্রেস। এসব ট্রেনের ভাড়া সর্বনিম্ন ২৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ১,০৯৯ টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে দ্রুত সিলেটে পৌছানোর জন্য সরাসরি বিমানে আসা যায়। ঢাকা থেকে সিলেটগামী বিমানগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দিয়ে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। বিমান বাংলাদেশ, নভো এয়ার, ইউ এস বাংলা এয়ারলাইনস - প্রভৃতি বিমান ঢাকা থেকে সিলেটে রুটে নিয়মিত চলাচল করে। বিমান ভাড়া সর্বনিম্ন ২,৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত।
সুমাইয়া জাকির এস এম
তথ্যসূত্র : http://sylheterdak.com.bd/details.php?id=3209 https://touriesteye.wordpress.com/2016/09/21/%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A8%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F/ http://www.sylhetdiv.gov.bd/site/view/tourist_spot https://www.flightexpert.com/blog/dhaka-sylhet-airtickets http://www.railway.gov.bd/site/page/293eb35f-8b6a-4036-898c-fd94437670b4/%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F--%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%9A%E0%A6%BF