দক্ষিণ সিকিমের রাবাংলা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরত্বে প্রায় ৫,৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বোরং গ্রামটি প্রকৃতি প্রেমিকদের জন্য এক স্বর্গ। ছবি : ফ্লিকার
ভ্রমণপ্রেমিদের প্রিয় গন্তব্য ভারতের সিকিম মনভোলানো সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান। স্বপ্নের দেশের মতো সুন্দর এই রাজ্য পর্যটকদের দারুণ প্রিয় একটি গন্তব্য।
পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের একটি অংশ হওয়ায় সিকিমের খুব কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সাথে আছে বরফের চাদর।
চমৎকার পাহাড়ি ঝর্ণা, গভীর উপত্যকা, ঔষধি গাছের বন, সমৃদ্ধ জীব-বৈচিত্র্য পরিপূর্ণ, আলপাইন চারণভূমি, পাহাড়, হিমবাহ, হাজারো বুনো ফুলের শোভায় সিকিম এক স্বর্গরাজ্য।
এর প্রতিটা জায়গা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। আর তাই সবসময়ই সিকিম মুখর থাকে পর্যটকদের আনাগোনায়। সিকিমের আরেকটি অফবিট লোকেশন হল বোরং (Borong)।
অবস্থান
দক্ষিণ সিকিমের রাবাংলা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরতে পাহাড়ি এই গ্রামটি অবস্থিত। প্রায় ৫,৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি প্রকৃতি প্রেমিকদের জন্য এক স্বর্গ।
একান্তে প্রকৃতির মাঝে ছুটি কাটানোর জন্য বোরং অতুলনীয়। শহুরে কোলাহল ও দূষণ হীন নির্মল পরিবেশে এখানে নিজেকে নতুন করে ফিরে পাবেন।
নির্জনতা আর নিরিবিলি বাতাবরণ বোরংকে করেছে প্রকৃতিপ্রেমিদের প্রিয় আশ্রয়। এখানে ঘন নীল আকাশের নীচে পাহাড়ি সবুজে মোড়া পরিবেশে ছুটির দিনগুলো হয়ে উঠবে বড্ড বেশি প্রশান্তিময়।
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে কটেজের বারান্দা থেকে চোখে পড়বে বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়াগুলোর অপার সৌন্দর্য। ছবি : ফ্লিকার
চমৎকার হানিমুন ডেসটিনেশন
হানিমুন ডেসটিনেশন হিসেবেও বোরং চমৎকার একটি জায়গা। নিরিবিলিতে অপার নৈসর্গের মাঝে প্রিয়জনের সাথে সময় কাটাতে বোরং এ আগমন ঘটে নব-দম্পতিদের।
হিমালয়, পাহাড়, ঝর্না, নাম না জানা ফুলের সমাহার, পাখ-পাখালি, পোকার ডাক, সবুজের সমাহার এখানে প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো আরও বেশি উপভোগ্য করে তোলে।
বোরং-এর আসল রূপ চোখে পড়ে ভোরবেলায়। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে কটেজের বারান্দা থেকে চোখে পড়বে বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়াগুলোর অপার সৌন্দর্য।
পাহাড়ের গায়ে সোনালি রঙের লুকোচুরি খেলা বিমোহিত করবে আপনাকে। কটেজের দোলনায় বসে সকালের চা খেতে খেতে পাহাড়ের রূপ উপভোগ করা সত্যিই এক মুগ্ধকর ব্যাপার।
বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ছাড়াও আছে এখানে অনেক রকমের পাখি। সারাদিনভরে কুজন শোনাবে নাম না জানা অজস্র পাখিরা। নানা ধরনের পাখিদের এক স্বর্গরাজ্য হল এই বোরং।
এছাড়া ছোট শৃগাল, হরিণ ও বাইসন দেখতে পাবেন এখানে। পাহাড়ি গ্রামীণ প্রকৃতি ছাড়াও এখানে দেখার মতো আরও অনেক কিছু আছে। সিলভার ফলস, ঝুলন্ত ব্রিজ, এলাচের চাষ দেখতে পাবেন এখানে।
বোরংয়ের দেখার মতো একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। রঙ্গিত নদীর ধারে অবস্থিত এই প্রস্রবণটি দেখতে হলে আপনাকে পাহাড়ি পথ বেয়ে নেমে পৌঁছতে হবে।
চলার পথে দেখতে পাবেন বিভিন্ন রঙের নানান প্রজাপতি। বোরং আছে রালোং মনাস্ট্রি। চমৎকার এই মনাস্ট্রিতে বৌদ্ধমূর্তি ও বেশ কয়েকটি দুর্লভ চিত্রকলা দেখতে পাবেন।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে বোরং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ সিম্ভো, পান্ডিম কাবরু, নরসিং ইত্যাদি হিমালয়ের শিখররাজির রূপ উপভোগ করা যায়। ছবি : ফ্লিকার
আকাশ পরিষ্কার থাকলে বোরং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ সিম্ভো, পান্ডিম কাবরু, নরসিং ইত্যাদি হিমালয়ের শিখররাজির রূপ উপভোগ করা যায়।
এছাড়া বোরং থেকে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন ওল্ড ও নিউ রালং গুম্ফা, ভঞ্জন ভ্যালি, বারমেলি ব্রিজ পেরিয়ে ফানতাম গ্রাম থেকে।
যেভাবে যাবেন :
রাবাংলা থেকে বোরংয়ের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে সহজেই বোরং-এ পৌঁছে যেতে পারবেন। গাড়ি ভাড়ার খরচ পড়বে ১,০০০ টাকা। এছাড়া নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করেও সরাসরি বোরংয়ে যেতে পারেন।
যেখানে থাকবেন :
বোরংয়ে থাকার জন্য বিভিন্ন রকমের কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোরং রিট্রিট। এখানে পড়বে ভাড়া ১,০০০-১,৫০০ টাকা। ফোন : ৯৮৩৬৪৬৪৬৩২।