মূলত খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী দেশগুলোতে কার্নিভাল উৎসব পালন করা হয়ে থাকে। ইতালীয় শব্দ কার্নিভাল বলতে বোঝায় বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে সকলের সাথে আনন্দে মেতে ওঠা। জমকালো পোশাক ও নানা ডিজাইনের মুখোশ পরে গান, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রাস্তায় আনন্দ শোভাযাত্রাই হলও কার্নিভাল। উৎসবের ভাগীদার সবাই। তাই কার্নিভালেও যোগ দেয় বিশ্বের অসংখ্য পর্যটক। দেশে দেশে আলোকিত ও রঙিন কার্নিভালের কথাই আজ বলা হবে।
রিও ডি জেনিরো কার্নিভাল, ব্রাজিল
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো কার্নিভাল; ছবি : টাইম ডট কম
বিশ্বের সেরা কার্নিভালের তালিকা করতে হলে তার যে নামটি প্রথমেই থাকে তা হলও ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো কার্নিভাল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্নিভাল উৎসব এটি। ১৭২৩ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব বর্তমানে ব্রাজিলের ঐতিহ্যের অংশ। বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন উৎসবের একটি হলও ব্রাজিলের কার্নিভাল।
নাচ,গান, আলো আর উদ্ভট পোশাকের ঢংয়ে পুরো বিশ্বের সামনে হাজির হয় ব্রাজিল। এর অন্যতম আকর্ষণ হলও সাম্বা নাচ। সাম্বার তালে তালে কয়েক হাজার শিল্পী তাদের নাচ পরিবেশন করতে করতে হেঁটে চলে রাস্তা দিয়ে। ব্রাজিলের লোককাহিনী তুলে ধরা হয় কার্নিভালের মধ্য দিয়ে ।
লন্ডনের সবচেয়ে বড় স্ট্রিট কার্নিভাল নটিং হিল কার্নিভাল। ইউরোপের ক্যারিবিয় এ উৎসবে প্রায় ২০ লাখ লোকের সমাগম ঘটে। বিশ্বের সকল জাতির প্রতি সম্প্রীতি বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্য নিয়েই প্রাথমিকভাবে কার্নিভালটির আরম্ভ হয়েছিল।
কার্নিভালের প্রথম দিনটি শিশুদের জন্য। দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় মূল প্যারেড। নাচ, গান, ক্যারিবিয়ান পোশাক, ক্যারিবীয় বাদ্যযন্ত্রের সুর ইউরোপেই আপনাকে ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির ছোঁয়া দিবে।
বিশেষ পোষাকে বেলজিয়ামের জনগণের কার্নিভালে যোগদান; ছবি : নিউজ ডট সি এন
১৪ শতকে আরম্ভ হওয়া কার্নিভালটি সাত সপ্তাহ ব্যাপী পালিত হয়। রাস্তায় বর্ণিল শোভাযাত্রা, গান, নাচ, বৈচিত্র্যময় পোশাক ইত্যাদির সামিল হতে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে। শোভাযাত্রায় পুরুষেরা বিশেষ এক পোশাক পরে, যার নাম ' গিলে'। নারীদের জন্যেও রয়েছে বিশেষ পোশাক, এর নাম 'পেসেন'।
উটপাখির পালকের তৈরি লম্বা হ্যাট পরে ও বাদ্যের তালে মিছিল শুরু হয়। কার্নিভাল উৎসবে সবাই শ্যাম্পেইন পান করে, এমনকি পাঁচ বছরের শিশুও। ২০০৩ সালে ইউনেস্কো বেলজিয়ামের ‘বিঞ্চে কার্নিভালকে' আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাস্টারপিস অব দ্য ওরাল অ্যান্ড ইনট্যানজিবল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
অরুরো কার্নিভাল, বলিভিয়া
বলিভিয়ার জাঁকজমক পূর্ণ অরুরো কার্নিভাল; ছবি : প্লাগন
প্রতিবছর এ্যাশ ওয়েডনেসডের আগের শনিবার ঘুমন্ত অরুরো জেগে ওঠে আর পুরো বলিভিয়া মেতে ওঠে কার্নিভালের আনন্দে। বলিভিয়ার কার্নিভাল জুড়ে রয়েছে মুগ্ধকরা লোকনৃত্য, সঙ্গীত, সুন্দর কারুকাজ খচিত ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, সুন্দর জমকালো পোশাক, মুখোশ এবং ১০ দিনের উৎসব।
বলিভিয়াতে আসা পর্যটকদের সবচেয়ে আগ্রহের জিনিস হলও অরুরো কার্নিভাল উপভোগ করা। প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ লোক এই কার্নিভালে যোগ দেয়। আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা জানানো হয় এ কার্নিভালের মধ্য দিয়ে।