দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় জলপ্রপাত

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় জলপ্রপাত




দক্ষিণ আফ্রিকার জলপ্রপাত দর্শন। ছবি : মেংগো হলিডেজ








ভ্রমণ পছন্দ করেন অনেকেই কিন্তু সেই পছন্দেও থাকে রকমের। কেউ ভালোবাসেন বড় বড় স্থাপত্য, শহর, নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউবা থাকতে চান প্রকৃতির কাছাকাছি। আর প্রকৃতিকে উপভোগ করার অন্যতম পন্থা হলো জলপ্রপাত দর্শন। জলপ্রপাত প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি।বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জলপ্রপাত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে ছোট বড় অনেক জলপ্রপাত। বিশ্বের আলোচিত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ ছয়টি জলপ্রপাতের তালিকা রইলো পাঠকদের জন্য।

. লিসবন জলপ্রপাত :




মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ লিসবন জলপ্রপাত। ছবি : ফিকর


দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম জনপ্রিয় লিসবন জলপ্রপাত, এমপুমালঙ্গা প্রদেশের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। এর উচ্চতা ৯৪মিটার যা প্রায় ৩০৮ ফুটের সমান। গ্রাসকপ শহরের ঠিক উত্তরে গেলেই পেয়ে যাবেন প্যানোরোমা রুট। জলপ্রপাতগুলি একটি সুন্দর উপত্যকার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। আপনি যখন উপত্যকার ঠিক মাঝখানটায় এসে দাঁড়াবেন, মুগ্ধতা আপনার স্বত্তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিবে। তবে একটু সাবধান থাকতেই হবে। সাথে রাখবেন স্লিপার। কারণ জলপ্রপাতের আশেপাশের পাথরগুলো বেশ পিচ্ছিল তাই স্লিপার পরিধান করেও খুব সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে আপনাকে। নয়তো ঘটে যেতে পারে যেকোনো বিপত্তি।

. অরিবি গর্জ ন্যাচার রিজার্ভ, কাওজুলু- নাটাল




সবুজের সৌন্দর্য সাথে অরিবি গর্জ ন্যাচার রিজার্ভ। ছবি : অরিবিগর্জ হোটেল.কো.জা


প্রায় ২৪ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তুৃত এই রিজার্ভটির চারদিকে লম্বা বেলেপাথর দ্বারা পরিবেষ্টিত। অঞ্চলটি হাইকিং এর জন্য আদর্শ। অনেকে আবার এখানে পাখি দেখতেও আসেন। চারপাশের ঘেরার সবুজের মনোহর দৃশ্য আপনার মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। তাই দীর্ঘদিন পর বেড়াতে হলে অনেকেই অরিবি দর্শনকে প্রাধান্য দেন। রাতের বেলায় অন্ধকারের মধ্যে শুনশান অরিবিতে বসে নিস্তব্ধতা মাঝে পৃথিবীর এক অপরূপ সৌন্দর্য আপনি খুঁজে পাবে। আর যদি সঙ্গে থাকে চাঁদের আলো তাহলে পুরো ব্যাপারটাই জমে ক্ষীর। পাহাড় বেয়ে উঠতে হয় বলে আপনি যেমন একটি রোমাঞ্চকর অভিযাত্রার সাক্ষী হতে পারবেন ঠিক তেমনি প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন।

. দ্যা ভ্যালি অব ডেসোলেশন, ক্যামডেবু ন্যাশনাল পার্ক : 



ছবি : গেট্টি ইমেজ


গ্রাফ-রেইনেটের ঘুরতে এলে পাশেই ভ্যালি অব ডসোলেশন উপত্যকা আপনার ভ্রমণ আনন্দকে বাড়িয়ে দিবে কয়েকগুণ। ক্যামডেবু জাতীয় উদ্যান মূলত প্রসিদ্ধ বিভিন্ন রকমের প্রাণী এবং উদ্ভিদের কারণে। পুরো উদ্যানটি ৫৫০০০ হেক্টর জমির উপর উদ্যানের মধ্যে আপনি এমনকি কিছু প্রাণী এবং গাছ দেখতে পাবেন যার নামই হয়তো কখনো শুনেননি। খুব ভাগ্যবান হলে বিপন্ন কেপ মাউন্টেন জেব্রার দেখাও পেয়ে যেতে পারেন।

. ড্রাকেন্সবার্গের অ্যাম্ফিথিয়েটার, কোয়াজুলু-নাটাল :



দক্ষিণ ড্রাকেন্সবার্গের অ্যাম্ফিথিয়েটার একটি ভৌগলিক বিস্ময় এবং পৃথিবীর সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক একটি ক্লিফ-ফেস। দু'ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে অ্যাম্ফিথিয়েটারের শীর্ষে উঠতে পারবেন আপনি। অ্যাম্ফিথিয়েটারের রশ্মি চোখ ধাঁধিয়ে দিতে পারে তাই সর্বোচ্চ উপভোগের জন্য যতটা সম্ভব চোখ প্রসারিত করে তাকাবেন।

. ডলফিন কোস্ট, কাওজুলু-নাটাল : ডলফিন উপকূলটি টঙ্গাট নদী থেকে শুরু হয়ে জিংকওয়াজি সমুদ্র সৈকতে শেষ হয়। স্বচ্ছ পানি, ছিমছাম পরিবেশের জন্য পর্যটকদের পছন্দের সমুদ্রতট এটি। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এখানে থাকে উপচে পড়া ভীড়। পর্যটকরা এখানে এসে সাঁতার কাটেন, সূর্যস্নান করে থাকেন। শীত হোক কিংবা গ্রীষ্ম ডলফিন কোস্টের সাম্যাবস্থা আবহাওয়া ভ্রমণকারীদের বরাবরই বেশ পছন্দের। আপনি যদি পানিতে ভয় না পান তবে ডলফিন কোস্ট ভ্রমণতালিকার শীর্ষে রাখতেই পারেন।

. কেপ পয়েন্ট, দক্ষিণ কেপ :




অপরূপ দৃশ্য কেপ পয়েন্ট, দক্ষিণ কেপ। ছবি : ট্রাভেল ট্রায়েঙ্গাল


 

কেপ পয়েন্টটি টেবিল মাউন্টেন ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে কেপ অফ গুড হোপ নেচার রিজার্ভে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৭৭৫০ হেক্টর উপরে অবস্থিত এই পয়েন্ট থেকে সমুদ্রতলে অবস্থিত বৈচিত্র্যময় প্রাণী এবং জলজ উদ্ভিদ, নানারকম মাছ আপনি দেখতে পাবেন। সে এক অপরূপ দৃশ্য। পৃথিবীর কোনো সৌন্দর্যের সাথে তার তুলনা চলে না। মনের অজান্তেই আপনি বলতে বাধ্য হবেন ''পৃথিবী এত সুন্দর!" কেপ পয়েন্টে একটি পুরাতন বাতিঘর আছে। সাথে একটি ফ্যানিকুলার থাকলে সমুদ্রের সর্বোচ্চ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। যদি না থাকে তাতেও সমস্যা নেই। একটু সামনে হাঁটলেই পেয়ে যাবেন পুরাতন বাতিঘর। সেখানে দেখতে পাবেন পুরো সমুদ্রটাই।  

ঐশ্বর্য মীম