ওক, পাইন ও বার্চ গাছের ছায়ায় বেড়ে ওঠা পাহাড়ি গ্রাম পালমাজুয়া

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: পশ্চিমবঙ্গ আর নেপালের কোলঘেঁষে ছোট গ্রাম পালমাজুয়া


পালমাজুয়া (Palmajua) bentrip

সবুজ ঘেরা, পাহাড়া, নীল আকাশ আর স্নিগ্ধ প্রকৃতির রুপে আচ্ছন্ন পালমাজুয়া; ছবি : হাফ সমুসা ও ডুয়ার্স ইনফো


যারা পাহাড় আর প্রকৃতির সবুজে ঘুরতে ভালোবাসেন তাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হতে পারে পালমাজুয়া (Palmajua)। পশ্চিমবঙ্গ আর নেপালের কোলঘেঁষে অবস্থিত কুয়াশার চাদরে মোড়া এই ছোট গ্রাম। ছোট সুন্দর এই গ্রামখানিতে প্রকৃতিকে সঙ্গী করে গড়ে উঠেছে হোমস্টে, যেখানে অনায়াসে দিন কতেক কাটানো যাবে সানন্দে। যতদূরে চোখ যায় সবুজ পাহাড়ি অরণ্যের সারি। পাশে তিরতির করে বয়ে চলেছে নদী, তার উপরে শোভা পাচ্ছে লোহার ব্রিজ।

ছবির মত সুন্দর এই গ্রামখানি। ঘন নীল আকাশের নিচে ওক, পাইন, বার্চ আর ধুপির সারির মাঝে রোদের আলো কুয়াশা ফিকে করে দিয়ে সৌন্দর্যে যোগ করে নতুন মাত্রা। পাহাড়ি সবুজ বনভূমির রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকলে হঠাৎই প্রকৃতির রূপ বদল জড়িয়ে ধরবে আলগোছে। জঙ্গলের মাঝ থেকে যাওয়া এই পথটুকু ভারী সুন্দর। আলো-আঁধারি রাস্তা। কোথাও নিমেষে পাখির মেলা, তো এই উধাও। গাড়ি দেখে একছুটে ঝোপে লুকোয় কালিজ ফেজ্যান্ট। এছাড়াও রয়েছে নাম না জানা হরেক রকম পাখি। যেন স্বাগত জানাচ্ছে প্রকৃতির স্বর্গে।

আরও যা দেখা যাবে

পালমাজুয়ার খুব কাছেই অবস্থিত সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান। প্রায় ১৭০-২০০ রকমের পাখির দেখা মেলে এখানে। পাখি প্রেমিক এবং ফটোগ্রাফারদের ভিড় জমে এখানে। এছাড়াও জঙ্গলের ভেতরকার বাঁশবনে দেখা মেলে পাণ্ডাদের। রয়েছে প্যাঙ্গোলিনও। মাছ ধরার শখ থাকলে চলে যেতে পারেন কাছেই শিরিখোলায়। এছাড়া, পালমাজুয়া ভিউ পয়েন্ট থেকে চোখের সামনে ধরা দেবে সোনার পাহাড় কাঞ্চনজঙ্ঘার অসাধারণ রূপ। এখান থেকেই দেখা যাবে পশ্চিম সিকিমের দারামদিনকে।

খুব কাছেই অবস্থিত তিশচুল। পাহাড়ি সরুপথ পেরিয়ে পড়বে পায়ে হাঁটা জঙ্গল। শীতকালে গেলে চোখে পড়বে হালকা বরফের চাদর। আশেপাশে কোনো বসতি নেই। মাঝেমধ্যে কেউ কেউ কাঠ কুড়োতে যায় অবশ্য। তিশচুল থেকেই চোখে পড়বে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এই জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এত কাছে যে ভ্রম বলে ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক না। হাতে সময় থাকলে ফেরার পথে ঘুরে যেতে পারেন টয় ট্রেনের শহর দার্জিলিং থেকেও। দেখে যেতে পারেন দার্জিলিং চিড়িয়াখানা, ঘুম মোনাস্ট্রি আর বাতাসিয়া লুপ।

পালমাজুয়া (Palmajua)

পালজুমার সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানে দেখা পাওয়া যায় এমন লাল পান্ডার; ছবি : বেনট্রিপ



যেভাবে যাওয়া যাবে : 

কোলকাতা থেকে শিলিগুড়ি এসে সেখান থেকে ভাড়া গাড়ি বা শেয়ারে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে পালমাজুয়া। পাড়ি দিতে হবে প্রায় ৬৭ কিলোমিটার পথ। মানেরঞ্জন থেকে বাতাসি, ধোতরে হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় পালমাজুয়া। ধোতরে থেকে আরও প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ যেতে হয় পালমাজুয়া পৌঁছতে হলে। স্থানীয়দের মুখ থেকে জানা যায়, এই পথে মাঝেমধ্যেই দেখা পাওয়া যায় লেপার্ডের। তাই সন্ধ্যার আগে পালমাজুয়া পৌঁছনোর চেষ্টা করা উচিত।

থাকার ব্যবস্থা : 

পালমাজুয়াতে অবস্থিত ঘরগুলোর বেশিরভাগেই রয়েছে হোমস্টে সুবিধা। স্বল্পমূল্যে থাকা ও খাওয়ার জন্য লজও রয়েছে বেশ কিছু। রাতে নেপালি ট্র্যাডিশনে ডিনার এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার ব্যবস্থাও রয়েছে, কিন্তু আলাদাভাবে খরচ করতে হবে এর জন্য।

বি:দ্র:

পালমাজুয়ার মত জায়গাগুলোতে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয়রা বেশ সোচ্চার। তাই ঘুরতে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।  

জোহরা মহসীন   এস এম


Click Here To See More