টিবিডি ইন্টারভিউ উইকলি : 'অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে এখন বেশি ফোকাস করা উচিত'

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : "পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণটাকে গুরুত্ব দিতে হবে"



কাশেফ রহমান, দেশের একজন পর্যটন উদ্যোক্তা, উদ্যমী ও প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ। পর্যটন শিল্পের অগ্রযাত্রায় দারুণ সব আইডিয়া নিয়ে কাশেফ রহমান প্রতিষ্ঠা করেছেন শেয়ার ট্রিপ নামক ভ্রমণ-বিষয়ক অ্যাপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চমৎকার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অ্যাপের যাত্রা।

বিমানের টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে হোটেল বুকিং, আনুমানিক খরচের তালিকা তৈরি, যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করাসহ পর্যটকদের নানা বিষয়ে সহযোগিতা করে শেয়ার ট্রিপ। ট্রাভেল বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের এই উদ্যোক্তার মুখোমুখি হয়েছে আজ।

কথা হচ্ছে শেয়ার ট্রিপের উদ্যোগ, কর্মকাণ্ড, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে দেশের পর্যটনশিল্পের অবস্থাসহ নানা বিষয়ে।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : কোভিড-১৯ এর সময় কীভাবে কাটছে আপনার?

কাশেফ রহমান : এই তো সবাই হোম অফিস করছি আমরা। এভাবেই কেটে যাচ্ছে।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : পর্যটনশিল্পে আপনার উদ্যোগ 'শেয়ার ট্রিপ' সম্পর্কে শুনতে চাই। কোন লক্ষ্য নিয়ে শুরু করলেন এবং কী কী কাজ করেন?

কাশেফ রহমান : শেয়ার ট্রিপ ভ্রমণ-বিষয়ক সহজ অ্যাপ। ভ্রমণপিপাসু মানুষের এটি কাজে লাগবে। বিমানের টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে হোটেল বুকিং, আনুমানিক খরচের তালিকা তৈরি, যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করাসহ পর্যটকদের নানা বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য শেয়ার ট্রিপশেয়ার ট্রিপটা আমরা আসলে লঞ্চ করেছি কাস্টমারের কাছে সহজ টেকনোলজির সুবিধা পৌঁছে দিতে। যেখানে কাস্টমারেরা বিভিন্ন দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনলাইনে বুকিং করতে পারে, আমরা মার্কেটে সবচেয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি, যেন অন্যদের সঙ্গে সুন্দর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাস্টমারদের মনে স্থান করে নিতে পারি।




ট্রাভেল বুকিং ডট কম থেকে শেয়ার ট্রিপ নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ছবি: কাশেফ রহমান


 আমরা মার্কেটে বেস্ট প্রোডাক্ট দেয়ার জন্য চেষ্টা করছি, যা অন্যদের চেয়ে বেটার হবে। ইতোমধ্যে তা আমরা শুরু করতে পেরেছি বলেই আমি বিশ্বাস করি। আমরা এই মুহূর্তে টেকনিক্যালি আমাদের প্রোডাক্টে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসগুলো অ্যাড করছি, যখন পরিস্থিতি নর্মাল হবে তখন কাস্টমারেরা এখানে আরও বেটার সাপোর্ট পাবেন। আরও বেটার প্রোডাক্ট আসছে। আমরা অটোমেশনের ওপর জোর দিচ্ছি।




শেয়ার ট্রিপ অ্যাপটিকে বলা যেতে পারে দেশের সেরা ট্রাভেল অ্যাপ



ট্রাভেল বাংলাদেশ : আপনাদের কর্মকাণ্ড সাধারণত ভ্রমণের ওপর নির্ভর করে পরিচিত হয়। কিন্তু এখন সবকিছু বন্ধ। অনলাইনে মূলত এখন কোন ধরনের কাজগুলো ফোকাস পাচ্ছে?

কাশেফ রহমান : অনলাইনে ওই যে টুকটাক কাজ চলছে। জুন মাস থেকে বাংলাদেশের সরকার যেহেতু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করেছে। সেখানে টিকিট বিক্রয় হচ্ছে। আমরা সেদিকে ফোকাস করছি। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল কিছু ফ্লাইট চালু হয়েছে, সেখানে চেষ্টা করছি। তিন মাস ধরে তো আসলে সবকিছু এমনিতেই বন্ধ ছিল। তারপর আগের মতো অবস্থা তো নেই। আগে ১০০ টাকার মার্কেট হয়তো এখন ১০ টাকার মার্কেট। তারপরও ওখানেই আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের অবস্থানটা ধরে রাখার জন্য।




কাশেফ রহমান


আরও জানতে : ‘আমার বিশ্বাস, পর্যটনের সকল সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব’

ট্রাভেল বাংলাদেশ : সবকিছু স্বাভাবিকভাবে কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে মনে হয়?

কাশেফ রহমান : আমার আসলে কোনো ধারণা নেই। এটা মহামারি। ১০০ বছরে আর হয়নি এমনটা। যেটি সম্পর্কে আসলে কোনো ধারণা করা যায় না। কেউ কেউ বলছেন দুই-তিন বছর লাগবে। কেউ বলছেন এক-দুই বছর লাগবে স্বাভাবিক হতে। তবে আমাদের শেয়ার ট্রিপের লক্ষ্যটা এমন যে, আমরা যত দ্রুত পারি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবো এবং অন্যদের তুলনায় বেটার অপশন দিয়ে প্রতিযোগিতায় অবস্থান ধরে রাখতে চাই।




শেয়ার ট্রিপ আয়োজিত একটি ট্যুরের গ্রুপ ছবি


 

ট্রাভেল বাংলাদেশ : কোভিড-১৯ এর সময়টায় আপনাদের কাজে কতটা আঘাত হেনেছে?

কাশেফ রহমান : পুরোপুরি আঘাত করছে। কাজ চলছে না। কোনো দেশে মানুষ যাচ্ছে না। দেশের ভেতরেও এতদিন চলাচল বন্ধ ছিল। এটি আমাদের জন্য নেতিবাচক ফল এনেছে। প্রচুর টিকেট বাতিল হয়েছে। যেখানে মানুষের কিছু ইনকাম হচ্ছিল, সে ইনকাম বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো বিক্রিই হচ্ছে না। মার্কেট শেয়ারটা আসলে নিচের দিকে নেমে গেছে। এখান থেকে বের হতে সময় লাগবে।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : আপনাদের কথায় স্পষ্ট যে, লকডাউনের ফলে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থায় সরকারি কোনো সাহায্য পাওয়ার সুযোগ আছে?

কাশেফ রহমান : কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন উন্নয়নে যেসব সংগঠন আছে তারা চেষ্টা করছেন। তবে এরকম কিছু সহযোগিতা এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। আসলে তা অনেক কঠিন। যদি ব্যাংক কর্তৃক লোন সহায়তার কথা বলেন, তাও রিস্কি। ব্যাংক আসলে অনেক কিছু চায়। তাছাড়া পর্যটন সেক্টরকে ব্যাংক সব সময় রিস্কি মনে করে। তাই বড় বড় কর্মাশিয়াল ব্যাংকে লোনের বিষয়ে পর্যটন উদ্যোক্তারা একধরনের ব্লাক লিস্টেড। আমার জানা নেই এই অবস্থায় এরকম সহায়তা পাওয়া সম্ভব কিনা। কেউ পাচ্ছে কিনা তাতেও সন্দেহ আছে।




শেয়ার ট্রিপ অ্যাপটি একটি বিশেষ ধরনের ট্রাভেল অ্যাপ


ট্রাভেল বাংলাদেশ : আপনি গ্রামীণফোনের রিলেশনশিপ ম্যানেজার ছিলেন। বাংলালিংকেও কর্মরত ছিলেন। এখন তো পুরোপুরি নিজের উদ্যোগ নিয়ে আছেন?

কাশেফ রহমান : সে সেক্টর থেকে চলে আসার ছয় বছর হয়ে গেল প্রায়। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা শেয়ার ট্রিপ নিয়ে বেশ ভালো করছি। আগে ১৫০ জনের পরিবার ছিলাম। সেখান থেকে কেউ চাকরি ছাড়ছে, কেউ আসছে। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১৩০ জনের পরিবার। আমরা কাজ করছি। তবে এসময় এসে সার্ভাইভ করার চেষ্টা করছি। আর কাস্টমারদের সবচেয়ে ভালো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছি।

আরও জানতে : এয়ারলাইন্সের খরচ বেড়ে গেলেও বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না!

ট্রাভেল বাংলাদেশ : পর্যটন সেক্টরেই কাজ করছেন। এই সেক্টর নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?




শেয়ার ট্রিপের সবসময়ই থাকে বিশেষ ছাড় ও অফার


 কাশেফ রহমান : আমার আসলে দীর্ঘমেয়াদী ভিশন এই মুহূর্তে নেই। ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাকে উত্তম মনে করছি। আর ওই যে বললাম, যেকোনো জায়গায় যদি বড় কোনো অবদান রাখতে পারি ওটাই স্বপ্ন। পর্যটনশিল্পের এজেন্সির মধ্যে দেশে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে। অনলাইনে আমরা টেকনোলজিকে কাজে লাগাচ্ছি৷ আমরা ট্রাভেল এজেন্সি হলেও আমাদের একটা অর্গানোগ্রাম আছে, ইন্টারনাল মার্কেটিং টিম আছে, টেকনিক্যাল টিম আছে। ওই জায়গা থেকে অর্গানাইজেশনাল ব্যাপারটা আমরা ফুটিয়ে তুলেছি।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : করোনার ফলে বাংলাদেশের পর্যটনের তো অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন?




কাশেফ রহমান


কাশেফ রহমান : আসলে পর্যটনশিল্প অনেক বড় একটা ব্যাপার।করোনাভাইরাসের ফলে অনেক বেশি ক্ষতি মুখোমুখি হয়েছে এই সেক্টর। প্রতি বছর আমাদের দেশে ২০ লাখ মানুষ আসতো। কেউ কাজের জন্য কেউ, ট্যুরিজমের জন্য। এখন আসতে পারছে না। আমাদেরও দেশের বাইরে যাওয়া হচ্ছে না। কোভিডের পরিস্থিতি যদি ধীরে ধীরে নর্মালের দিকে যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ডমেস্টিক ডেসটিনেশনকে ফোকাস করতে হবে। আগে যেসব স্থানকে ফোকাস করা হয়নি, সেসব স্থানকে ফোকাস করতে হবে৷ মূলত কোভিড ১৯ পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ পর্যটন নিয়েই আমাদেরকে অবস্থান করে নিতে হবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সাইফুল্লাহ সাদেক