টিবিডি ইন্টারভিউ উইকলি : ‘কোভিডের ফলে সব ক্ষেত্রে অনলাইনে গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে’

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: যেকোনো দেশের হোটেল বুকিং করার অনুমতিপ্রাপ্ত প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান

 সালমান বিন রশিদ শাহ, তরুণ উদ্যোক্তা ও দেশের অন্যতম অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রতিষ্ঠাতা। উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন কানাডা থেকে। এরপর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে পর্যটন সেক্টরে নতুনত্ব আনয়নের হাল ধরতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। ট্রাভেল বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়ে সালমান শোনাচ্ছেন ফ্লাইট এক্সপার্ট সম্পর্কে আদ্যোপান্ত।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : ফ্লাইট এক্সপার্টের চিন্তা কীভাবে মাথায় আসলো?

সালমান : আমার পড়ালেখা কানাডাতে। পড়ার শেষ দিকে এসে এটি মাথায় আসে। তবে তার ইতিহাস আরও দূরে। আমার বাবা ১৯৯৩ থেকে বিজনেস করতেন। তখন ট্র্যাডিশনাল বিজনেস ছিল। মূলত ওখান থেকে চিন্তাটা আসে। ২০১৬ সালে আমরা নতুন করে শুরু করি। তখন বাংলাদেশে অনলাইনে এধরনের সিস্টেম ছিল না। আমরা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিটা চালু করি, যেটা মূলত অনলাইন টিকিটিং ফোকাসড।
সালমান বিন রশিদ

ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রতিষ্ঠাতা সালমান বিন রশিদ শাহ। ছবি : ফেসবুক


 আমার সুবিধা ছিল তখনই ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০২১ ভিশন শুরু হওয়াতে। সেটা একটা অনুপ্রেরণা ছিল। পরিস্থিতি তখন অনুকূলে ছিল। সবকিছু মিলিয়ে আমরা বিজনেসটা শুরু করতে পেরেছি। আমি সেকেন্ড জেনারেশনে আছি, সেই সেকেন্ড জেনারেশনের জন্য নতুনভাবে কিছু একটা শুরু করার ব্যাপারটা ছিল মূল প্রেরণা।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : ফ্লাইট এক্সপার্ট কী কী সার্ভিস দিচ্ছে?

সালমান : অনলাইনে এয়ার টিকিটের সার্ভিসে আমরা ভালো সুবিধা প্রদান করছি। এয়ার টিকিট আমাদের সবচেয়ে বড় সার্ভিস। বিভিন্ন দেশের হোটেল বুকিং সার্ভিস করে থাকি। মূলত বাংলাদেশে আমরাই প্রথম যাদের বিশ্বের যেকোনো দেশের হোটেল বুকিং করার অনুমতি আছে। এই অনুমতি আমরা নিয়েছি ২০১৭ সাল থেকে। হোটেল ঠিক করার পর আপনি এয়ারপোর্ট থেকে কী করে যাবেন? বাস নাকি প্রাইভেট কারে, এসকল যাবতীয় সুবিধা আমরা সরবরাহ করতে পারি। আমাদের একটা সার্ভিস হলো ওমরাহ পালনের। এখানে বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা সরবরাহ করে থাকি আমরা। এখানকার সবচেয়ে সুবিধার দিক হলো, মূল্য পরিশোধ করা যায় ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। আপনি সাথে সাথে টিকিট পেয়ে যাবেন। কোনও রকম অপেক্ষা ছাড়াই। সকল এয়ারলাইন্সের ইনস্ট্যান্ট টিকিট অনলাইনে সংগ্রহ করা যায় আমাদের ওয়েবসাইট থেকে। অনলাইনে নিজে বাছাই করে সবকিছু করতে পারেন গ্রাহকরা।


ছবি : বাংলা ট্রিবিউন


ট্রাভেল বাংলাদেশ : কেমন সাড়া পাচ্ছেন আপনারা?

সালমান : কোভিড-১৯ এর আগে ও পরের অবস্থা এক নয় যদিও। তবে আমরা বেশ ভালো করছিলাম। আমাদের এভারেজ মার্কেট শেয়ার প্রি-কোভিডে ম্যাক্সিমাম অর্জন করেছি। আফটার কোভিড যদিও এখনও মার্কেট পুরোপুরি ওপেন হয়নি। এরপরও অনলাইনে আমরা সাড়া পাচ্ছি। এখন তো অনলাইনে সবধরনের ট্রানজেকশন বেড়ে গেছে। কোভিডের ভালো দিক হলো, মানুষ এখন অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে। এটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ইতিবাচক।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : কোভিড-১৯ এর ফলে আপনাদের কতটা ক্ষতি হয়েছে?

সালমান : মার্চের ২৫ তারিখ থেকে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। আর জুন পর্যন্ত পুরো সময়টা এই ইন্ডাস্ট্রিটাই অফ ছিল। বলতে গেলে কিছু করারই কোনও অপশন ছিল না। আর আফটার লক-ডাউন আমরা বুঝতে পেরেছি যে, অনেকে জব হারিয়েছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক উদ্যোগ হারিয়ে গেছে, চরমভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। আমরা অনেক উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা হারিয়ে ফেলেছি এই সেক্টরে।

আরও পড়ুন : ‘আমরা এখন লোকাল ট্যুরিজমকে গুরুত্ব দিচ্ছি’


বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি হয়তো খুব বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি। তবে, অনেকের জব চলে গেছে। যে পরিমাণ জব নষ্ট হয়েছে এটা সবচেয়ে বড় আঘাত। আবার অনেকের জব থেকেও বেতন পাচ্ছে না, বা কর্তৃপক্ষ দিতে পারছে না। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানে আমরা কষ্ট করে হলেও সবাইকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। যারা আগে ছিল তারা এখনও আছে।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : কোভিড সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছেন?

সালমান : এই সেক্টরে সহযোগিতাটা আসলে সেভাবে হয়নি। হসপিটালিটি সেক্টরেও যেরকম পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাও পায়নি, কোনোভাবে উপকৃত হওয়া যাচ্ছে না। আমরা যা পেয়েছি তা খুবই নগণ্য। দেশের আরএমজি সেক্টরসহ অন্য সেক্টর সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, এই সেক্টরে খুব একটা কিছু পাওয়া হয়নি।


ছবি : ফেসবুক


 ট্রাভেল বাংলাদেশ :কোভিড এর কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে ব্যবসাকে কীভাবে চাঙ্গা করছেন?

সালমান : কোভিডের ফলে মানুষ বেশি অনলাইনমুখী হয়েছে। আমরা চাচ্ছি এটাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করতে। কোভিডের সময় আমরা সকল তথ্য সরবরাহ করেছি, যা আমাদেরকে একটা পজিটিভ ফিডব্যাক দিয়েছে।

ট্রাভেল বাংলাদেশ : ফ্লাইট এক্সপার্ট এবং আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সালমান : আমার নিজের এবং ফ্লাইট এক্সপার্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা একই। একটা জিনিসই এখন হচ্ছে সার্ভাইবাল পার্ট। আমাদের লক্ষ্য হলো সার্ভাইব করা। একসাথে সবাইকে নিয়ে আগের মতো টিকে থেকে কাজ চালিয়ে নেয়া। অনেক বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি লোকবল হারিয়ে ফেলেছে। আমরা সেটা চাচ্ছি না। যেটা করি একটা টিম হয়ে আমরা কাজ করতে চাই। একসাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে চাই। টিমটা যাতে একসাথে থাকতে পারে-সেদিকে লক্ষ্য দিচ্ছি। যত কষ্ট হোক আমরা একসাথে থেকে কাজ করব এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।  

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সাইফুল্লাহ সাদেক   এস এম


Click Here To See More