অবসরে ঘুরে আসুন প্রকৃতির নিবিড় ছায়ায় জিন্দাপার্কে,নারায়নগঞ্জ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঢাকার অদূরেই প্রকৃতির আদলে গড়ে তোলা আদর্শ এক পার্ক জিন্দাপার্ক





জিন্দাপার্ক, নারায়নগঞ্জ। ছবি : স্টিরমিট


 শহুরে একঘেয়েমি জীবন থেকে মুক্তি পেতে মাঝেমধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরার মত আদর্শ জায়গা হতে পারে নারায়ণগঞ্জের জিন্দাপার্ক। এটা মূলত রূপগঞ্জে অবস্থিত। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে করে যেতে হবে কাঞ্চন ব্রীজ, যারা ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা। কাঞ্চন ব্রীজ থেকে ইজি বাইকে করে জিন্দা পার্ক পর্যন্ত ভাড়া ৩০টাকা। এছাড়া সিএনজি ট্যাক্সি কিংবা নিজস্ব গাড়ি নিয়েও খুব সহজে যাওয়া যায় জিন্দাপার্কে। ১৯৮০ সালে ‘অগ্রপথিক পল্লী সমিতি’ গঠন করা হয় এলাকাবাসীর মধ্য থেকে প্রায় ৫,০০০ সদস্য নিয়ে, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তৈরী হয়েছে জিন্দাপার্ক। প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপরে গড়ে ওঠা এই পার্ককে আদর্শ গ্রাম বললেও একেবারে ভুল হবে না।


কি কি দেখতে পাবেন

এখানে রয়েছে একটি কমিউনিটি স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, লাইব্রেরি, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান এবং একটি রেস্তোরাঁ। এখানকার লাইব্রেরি বর্তমানে একটি স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে জনপ্রিয়। গাছের ছায়ায় রোদের আবছা আলোয় অপূর্ব এই ভবনটি নিঃসন্দেহে মন কেড়ে নিতে পারে। প্রায় ২৫০ প্রজাতির ১০হাজারের মত গাছপালা রয়েছে এই জায়গাটা ঘিরে। শান্ত দুপুরে পাখিদের কলকাকলি শোনার জন্য আপনাকে আসতেই হবে জিন্দাপার্কে। এসব ছাড়াও এখানে জায়গা করে নিয়েছে ৫টি লেক এবং পুকুর। এদের বিশালত্ব দেখে মানুষ মুগ্ধ হবেই। শহরের বুকে এমন টলমল পানির আধার এখন প্রায় বিরল বললেই চলে। কাঠের ভাসমান ব্রীজ পার হয়ে বসা যায় শীতল পানিতে পা ডুবিয়ে। রয়েছে চা এবং কফিরও ব্যবস্থা।




প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জিন্দাপার্কের একাংশ। ছবি : উইকিমিডিয়া কমন্স


 ঢাকা শহরের মধ্যে একটানা সবুজ জায়গা একেবারেই কমে যাবার ফলে চোখ জুড়াতে জিন্দা পার্কের জুড়ি নেই। কোলাহল মুক্ত শান্ত এই পরিবেশ বান্ধব পার্ক নিমিষেই মন ভাল করে দিতে পারে। এছাড়া এখানের অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী মুগ্ধতা সৃষ্টি করবে নিশ্চিত। বর্তমানে পিকনিক স্পট হিসেবে জিন্দাপার্ক হয়ে উঠেছে বেশ জনপ্রিয়।


খরচপাতি

জনপ্রতি ১০০টাকার টিকেট কেটে যেতে হয় পার্কের ভেতরে। ভেতরে খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও খরচ একটু বেশি পড়ে বিধায় অনেকে বাইরে থেকেই নিয়ে যান। তবে এর জন্য বাড়তি ২৫ টাকা করে দিতে হয়। তবে পার্কের সামনেও খাবারের দোকান রয়েছে। পিকনিকের জন্য সাধারণত ভেতরে অবস্থিত রেস্টুরেন্টে প্যাকেজের ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু সেক্ষেত্রে আগে যোগাযোগ করে নিতে হয়। এছাড়া লাইব্রেরিতে প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। পুকুরগুলোতে নৌকার ব্যবস্থাও রয়েছে। এর জন্য ৩০ মিনিটে গুণতে হবে ২০০টাকা। নিজস্ব গাড়ির পার্কিং খরচ গাড়ি ভেদে ৫০-১০০ টাকা। সবমিলিয়ে একদিনের ট্যুরে জিন্দাপার্ক ঘুরতে প্রায় ৫০০ টাকার মত খরচ হতে পারে জনপ্রতি কিংবা আরো কম। এর বাইরে কখনো পার্কে ঘুরতে এসে রাত্রিযাপন করতে চাইলে তার জন্যেও ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। মহুয়া গেস্ট হাউজে চাইলে রাতের জিন্দাপার্কও দেখা হয়ে যাবে।




প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জিন্দাপার্কের একাংশ। ছবি : পিক্সেল


জিন্দাপার্ক ট্যুরিস্ট প্লেস হলেও এখানে রয়েছে মানুষের বসবাস। তাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা কিংবা পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়া স্থানীয়দের ব্যাঘাত ঘটে এমন আচরণেও সংযত হতে হবে দর্শনার্থীদেরকে।  

জোহরা মহসীন   এস এম