চারিতালুক পাল বাড়ি, নারায়ণগঞ্জ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক গুরত্বকেও বাড়িতেও তুলছে চারিতালুক পাল বাড়ি


চারিতালুক পাল বাড়ি

ছবি : সংগৃহীত


 প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার পাললিক মাটির সমতল ভূমিতে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জে গড়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রধান নদী বন্দর। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে এই জেলার যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনই এই অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে জড়িত আছে কয়েকশ বছরের রাজ রাজড়াদের ইতিহাস। এখানে অবস্থিত নানান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার মধ্যে এইসব ইতিহাসের স্বাক্ষর রয়েছে আজও। বিভিন্ন রাজার রাজবাড়ী, দুর্গ, মন্দির, মাজার, নীলকুঠীসহ নানান ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সমৃদ্ধ করেছে এই জেলাকে। চারিতালুক পাল বাড়ি এই জেলায় অবস্থিত এমনি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা।

উর্বর পলি মাটির জমিন আর সবুজ বৃক্ষরাজির ছায়ায় ঘেরা ভোলাব ইউনিয়ন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমাখা ভোলাবে রয়েছে সুলতানি আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসন আমল পর্যন্ত নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, মন্দির সহ নানান কীর্তিমাখা স্থাপনা। এইসব স্থাপনা ভোলাবের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক গুরত্বকেও বাড়িতেও তুলছে। চারিতালুক পাল বাড়ি ভোলাবের তেমনি একটি ঐতিহ্যবাহী পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা।


চারিতালুক পাল বাড়ি

চারিতালুক পাল বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রবাহমান শীতলক্ষ্যার দুই তীরে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক জনপদ হচ্ছে ভোলাব ইউনিয়ন। কৃষি প্রধান এই ইউনিয়ন পানের বরজ, কলার চাষ ও তাঁতের তৈরি বিছানার চাদর ও তোষকের কাপড়ের জন্য উল্লেখযোগ্য ও সুপরিচিত। উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা ও গ্রামীণ সৌন্দর্যমাখা শান্ত নিবিড় ইউনিয়ন ভোলাব। ব্রিটিশ শাসনের সময় এখানে বিভিন্ন অভিজাত জমিদারদের শাসন ছিলও। আর এইসব জমিদারদেরদের বাসস্থান ছিলও এই ইউনিয়নের চারিতালুক গ্রামের পাল বাড়ীতে। এই ইউনিয়নের ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক এই পাল বাড়ি।

নদীর তীর ঘেঁষে ওঠা সুরম্য অট্টালিকায় এক সময় ছিলও রাজাদের উঠা বসা। নদী তীরে ঝাউ গাছের সারি, সান বাধানো ঘাটলা রয়েছে এখানে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বৃহৎ আমের বাগান, উদ্যান, বৃহৎ পুকুর ও তাতে সান বাধানো ঘাট। এখানে গড়ে ওঠা অট্টালিকা গুলো ব্রিটিশ আদলে তৈর। পূজা অর্চনার জন্য তৈরি করা হয়েছিলো শ্বেত পাথরে আবৃত পোড়া মাটির কালী মন্দির। আধুনিক শহর পূর্বাচল ও এই ইউনিয়নের সনপাড়া থেকে আতলাপুর আসার পথে কাজলা চক এর উপর গড়ে উঠতে চলেছে। ঐতিহাসিক এই জমিদার বাড়ি দেখতে এখানে আশপাশের অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পর্যটকের আগমন ঘটে। চারিতালুক পাল বাড়ী ছাড়াও এখানে ভোলাবের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে কালী মন্দির। চারিতালুক পাল বাড়ি ভোলাব ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চারিতালুক গ্রামে অবস্থিত এবং প্রাচীন কালী মন্দিরটি ২নং ওয়ার্ড ভোলাব গ্রামে অবস্থিত।


যেভাবে যাবনে :

ঢাকা থেকে বাসে করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যাবেন। রূপগঞ্জ থেকে রিক্সায় প্রথমে মুড়াপাড়া, তারপর মুড়াপাড়া হতে সিএনজিতে ভুলতা এবং এখান থেকে বাস/সিএনজি/লেগুনা দিয়ে সনপাড়া। সনপাড়া গিয়ে সিএনজিতে চারিতালুক পালবাড়ী। আর যদি কালি মন্দির যেতে চান তাহলে সানপাড়া হতে  সিএনজিতে আতলাপুর বাজার। তারপর  আতলাপুর থেকে রিক্সা বা অটো রিক্সা নিয়ে কালি মন্দির পৌঁছাতে পারবেন। কালি মন্দিরটি এই ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ড এর ভোলাব গ্রামে অবস্থিত।  

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম