আরামদায়ক ট্যুরে অবশ্য অনুকরণীয় বিষয়গুলো
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : রিল্যাক্স ট্যুর ম্যানেজমেন্ট করতে হলে যা জানা জরুরী
ছবি : পিএনজিট্রি
হাতে একটু টাকা-পয়সা থাকলে বা পরিবার নিয়ে ট্যুর দিতে গেলে রিল্যাক্স ট্যুর দেয়াটাই ভালো। কারণ নিজে লো বাজেটে পরিশ্রম করে ট্যুর দিলেও পরিবার নিয়ে তো আর সেরকম করা যায় না বা মাঝেমধ্যে একটু আরামেরও প্রয়োজন। আর সেজন্যেই রিল্যাক্স ট্যুর। রিল্যাক্স ট্যুরে যেমন অনেক খরচ করেও দেয়া যায় আবার মাঝারি খরচেও রিল্যাক্স ট্যুর করা যায়। রিল্যাক্স ট্যুরের জন্য দেশের পর্যটন স্পটগুলো আদর্শ জায়গা। সিলেট, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাংগামাটি, রাজশাহী, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ইত্যাদি পর্যটনের জন্য খুবই আদর্শ স্থান। এসব জায়গার যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুবই ভালো। বাস বা ট্রেন কিংবা লঞ্চযোগে এসব জায়গায় সহজেই যাওয়া যায়। এছাড়াও কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর প্রভৃতি স্থানে এয়ারপোর্ট আছে, সেইসাথে আছে অভ্যন্তরীন বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা। বেশিরভাগ ট্যুর গ্রুপই রিল্যাক্স ট্যুর দেয় কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বাজেট অতিরিক্ত বা বাজেট অনুযায়ী সার্ভিস পাওয়া যায় না। নিজের পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে রিল্যাক্স ট্যুরের ব্যবস্থা আপনিই করে ফেলতে পারেন। যেহেতু রিল্যাক্স ট্যুর তাই আপনার খুব বেশি পরিশ্রম হবে না কারণ বাজেট তুলনামূলক ভালো থাকায় যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার সুযোগ সুবিধা বেশি থাকছে।
আসুন দেখে নেই রিল্যাক্স ট্যুরের ব্যবস্থা কিভাবে করা যায় :
১। কোথায় যাবেন ঠিক করার পর সেখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিন। বাস থেকে ট্রেন বা লঞ্চের ভ্রমণ আরামদায়ক। কিন্তু ট্রেনের টিকিট বা লঞ্চের ভালো কেবিন আগে বুকিং না দিলে পাওয়াটা বেশ কঠিন। তাই সময় থাকতে বুকিং দিয়ে দিন। ট্রেনেও কেবিন বুকিং দিতে পারেন, রাতের সফরে ঘুমিয়ে যেতে পারবেন আরাম করে। এছাড়াও বিভিন্ন রুটে ভালো মানের এসি, নন-এসি বাস আছে সেগুলোতেও যেতে পারেন।
২। আগে থেকেই হোটেল বুকিং দিয়ে দিন। এখন বেশিরভাগ হোটেল বা কটেজের ফেসবুক পেজ রয়েছে বা বিভিন্ন সাইটে হোটেল ও কটেজগুলোর ফোন নাম্বার পাওয়া যায়। তাদের সাথে ফোন দিয়ে কতগুলো রুম লাগবে, খরচ কেমন পড়বে সব নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।
৩। যেই স্পটে যাবেন সেখানে অভ্যন্তরীন যাতায়াতের জন্য যানবাহন যেমন : চাঁদের গাড়ি বা সিএনজি কিংবা জিপের ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। যেই হোটেলে থাকবেন তাদের সাহায্য নিতে পারেন এই ব্যাপারে কিংবা অনলাইন থেকে যানবাহন চালকদের নাম্বার নিয়ে নিজেও যোগাযোগ করতে পারেন।
৪। যেহেতু হোটেল আগে থেকেই ঠিক করা এবং কোন কোন স্পটে যাবেন তা ড্রাইভারের সাথে কথা বলে নেয়া আছে তাই স্পটে নেমে হোটেলে চেক ইন করে ঐ দিনের প্ল্যান অনুযায়ী ঘুরাঘুরি শুরু করুন। আপনার তেমন কাজ নেই, ড্রাইভার নিজেই আপনাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখাবে।
৫। যেই এলাকায় যাচ্ছেন সেই এলাকার খাবার চেখে দেখতে পারেন। এই ব্যাপারেও ড্রাইভার বা যেই হোটেলে থাকছেন তাদের সাহায্য নিতে পারেন।
৬। আগে থেকেই ফেরার টিকিট বুকিং দিয়ে রাখলে ফেরত আসার সময় ঝামেলা কম হয়। তাই স্পটে নেমেই টিকিট বুকিং দিয়ে দিতে পারেন বা একেবারে রাউন্ড ট্রিপের বুকিং ও দিয়ে দিতে পারেন।
৭। রিল্যাক্স ট্যুরের ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন সবকিছু যাতে রেডি থাকে আগে থেকে তাহলে আপনার ও ট্যুরমেটদের ট্যুর বেশ আরামদায়ক হবে।
পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পরুন রিল্যাক্স ট্যুরে। ছবি : ট্যুর টু ইন্ডিয়া
বাংলাদেশের বেশিরভাগ পর্যটন স্পটে ৪,০০০-৬,০০০ টাকার মধ্যে মোটামুটি রিল্যাক্স ট্যুর দেয়া যায়। রিল্যাক্স ট্যুরগুলোতে নিজের মত আরাম করে উপভোগ করা যায় প্রকৃতিকে, সেই সাথে দুশ্চিন্তামুক্তও থাকা যায়। তাই কারো উপর নির্ভর না করে নিজেই বেরিয়ে পড়ুন নিজের পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে।
আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।