আর্টেমিস মন্দির : প্রাচীন ইফেসাস শহরের অন্যতম স্থাপত্য
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : আর্টেমিস মন্দির

'আর্টিমিস মন্দির'-এর নির্মাণ করেছিলেন গ্রিকরা। প্রাচীন যুগে গ্রিক ও রোমানরা বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করতো। দেব-দেবীদের জন্য তৈরি করতো মন্দির। রোমানরা এই মন্দিরকে ডাকে 'ডায়না মন্দির' বলে। গ্রিক পুরাণ অনুসারে, আর্টেমিস ছিলেন গ্রিকদের দেবী। রোমানরা আবার তাকে বলতো 'দেবী ডায়না'। দেবী ডায়না বা দেবী আর্টিমিস ছিলেন শিকারের দেবী। প্রাচীনকালে মানুষ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। যার কারণে এই দেবীকে সন্তুষ্ট রাখা গুরত্বপূর্ন ছিল। এজন্যই গ্রিকরা খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দে ইফেসাস নগরীতে এই মন্দির নির্মাণ করে। মন্দিরটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ১২০ বছর। অপূর্ব স্থাপত্যের এই মন্দিরটি ৩৭৭ ফুট লম্বা ও ১৮০ ফুট চওড়া। এর পুরোটাই মার্বেল পাথরে তৈরি। এতে ১২৭টি স্তম্ভ ছিল, যার প্রত্যেকটি ৬০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট। দেবীর মূর্তির ঘরের চারিদিকে দুই সারিতে ৩৬টি কলাম ছিল। যার উচ্চতা ছিল ৪০ ফুট।

আর্টেমিস মন্দির ঃ মূর্তি
প্রবেশ পথে ছিল দুটি ডায়নার মূর্তি। যেগুলো ছিল মার্বেল পাথরের তৈরি। যাতে রত্ন খচিত ছিল। এই মন্দিরটি মার্বেল পাথরে তৈরি হওয়ার কারণে অনেক দূর থেকে দেখা যেত। রাতে চাঁদের আলোতে মন্দিরটি চকচক করতো। এই মন্দিরের প্রধান মূর্তিটির নকশা করেছিলেন Endoeus। আর মন্দিরের অন্যান্য অবকাঠামো নকশা করেছিলেন ভাস্কর Rhoeeus। বর্তমানে মন্দিরটির ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট আছে। এর শুধু ভিত্তি প্রস্তর ও স্থাপত্যের অংশ বিশেষ দেখা যায়। এই মন্দিরটি বেশ কয়েকবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে এক ভয়াবহ বন্যায় মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মন্দিরটির অনেকাংশ বালু ও পলিমাটিতে চাপা পড়ে।পরে খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ অব্দে এর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্থপতি Chersiphson ও তার ছেলে Metagenes-এর পুনর্নির্মাণের এর কাজ করেন। গ্রিক ও রোমান ইতিহাস মতে এরপরে আরেকটি ঘটনা ঘটে। এই মন্দির ধ্বংস করে বিখ্যাত হওয়ার জন্য Herostratus নামে এক ব্যক্তি খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৬ অব্দে মন্দিরটিতে অগ্নি সংযোগ করে। হেরোস্ট্রেটাস ভেবেছিল এই কাজটি করলে বিশ্বব্যাপী তার নাম ছড়িয়ে পড়বে, সে হয়ে উঠবে বিখ্যাত এক ব্যক্তি। কিন্তু বিচারে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং তার নাম প্রকাশ্যে উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই আইন অমান্য করলে শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড।

পড়ুনঃ ভ্রমণের গল্প বলা কালজয়ী ৫ বই
রুবাইদা আক্তার এস এম