অপার সৌন্দর্যের বিচরণভূমি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সাড়া দিবেন নাকি পাহাড়, সাগর আর মেঘের সম্মিলিত অপরূপ এই প্রকৃতির ডাকে
মন ও প্রাণ আনন্দে ভরে উঠবে এমন সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখে। ছবি : দ্যা ক্রেজি ইনটারেস্ট
দক্ষিণ পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ লম্বক। এটি ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশের মধ্যে পড়েছে। গোলাকৃতির এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৪ হাজার ৭২৫ বর্গকিলোমিটার। ভ্রমনের জন্য এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় ৩২ লাখের মতো জনবহুল ইন্দোনেশিয়ার এই প্রদেশটিতে একাধারে বসেছে পাহাড়, সমুদ্র আর মেঘের সৌন্দর্যের মিলনমেলা। দ্বীপটির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তটি লেজের মত প্রসারিত আর আগ্নেয়গিরিতে পূর্ণ। লম্বকের স্থানীয়রা মাটিতে ধান, কফি, চিনি, তুলা, তামাক ফলায়। এছাড়া এই অংশটির দক্ষিণভাগে প্রচুর পরিমানে নীল চাষ করা হয়। স্থানীয়রা মূলত জাভা দ্বীপ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১ম সহস্রাব্দে আগত সাসাক জাতির লোক। তারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং এই কারণে দ্বীপের সর্বত্র মসজিদ দেখতে পাওয়া যায়। তবে বালিদেরও বসবাস রয়েছে এই অঞ্চলে। এবার সৌন্দর্যের অপার লীলাভুমি এই লম্বকের ভ্রমণ স্থানগুলো সম্পর্কে জেনে নিন :
টিউ ক্লেপ জলপ্রপাত :
ছবি : ট্রেকিং রিনজানি
লম্বক জলপ্রপাতের জন্য বিখ্যাত। তবে তার মধ্যে টিউ ক্লেপ জলপ্রপাত পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় বেশ খানিকটা শুরুতেই স্থান দখল করে নিয়েছে। জলপ্রপাতটি সেনারু গ্রামে অবস্থিত এবং পাশেই রয়েছে বিখ্যাত পান্না ফরেস্ট।
রিনজানি পর্বত আরোহন :
রয়েছে ক্যাম্পিং করার সুযোগ, রিনজানি পর্বত। ছবি : দ্যা স্ট্রিট টাইমস
রিনজানি পর্বত লম্বোকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এবং অনেক দর্শনার্থীর কাছে লম্বক ভ্রমনের মুল আগ্রহের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। রিনজানি পর্বত কেবল একটি পর্বতই নয় এ যেন এক আকাশ ছোঁয়া রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
লেগ সেগারা আনাকে ক্যাম্পিং : রিনজানি মাউন্টে যাবার পথে পরে লেগ সেগারা আনাক নামক এই জায়গাটি। চারপাশে ঘন ঘন সবুজ গাছপালা দ্বারা আবৃত এই জায়গাটি ভ্রমনে যোগ করে আলাদা একটা মাত্র। এখানে ক্যাম্পিং করে অনায়াসেই কাটানো যেতে পারে একটা রোমাঞ্চকর রাত।
জাতীয় উদ্যান :
গুনোং টুনাক। ছবি : সংগৃহীত
লম্বকের জাতীয় উদ্যান হিসেবে পরিচিত গুনোং টুনাক। এখানে দেখা মিলবে বৃক্ষদেবীদের। নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় অতিবাহিত করতে চাইলে এই স্থানটি হতে পারে সেরা।
তানজং পোকি : তানজং পোকি তার দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। অঞ্চলটি পুরো শিলা দ্বারা আবৃত।
বেলেক গ্রাম : স্থানীয়দের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে অনেক পর্যটকেরাই বেলেক গ্রাম পরিদর্শনে যান।
সুকারারে গ্রাম :
ছবি : লিলি ট্রাভেল
টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই গ্রামটি। লম্বকের বুনন শিল্পটি যাচাই করার জন্য এখানেও ভিড় জমায় অনেক পর্যটক।
বেনাং কেলাম্বু জলপ্রপাত : এই জলপ্রপাতটি ২০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত।
সেমেতি বিচ: লম্বকের অন্যান্য বিখ্যাত সৈকতগুলোর মধ্যে একটি সেমেতি বিচ যা বিস্ময়কর আগ্নেয়গিরির গঠনের জন্য বিখ্যাত। পিংক বিচ :
যে সমুদ্র সৈকতের বালি গোলাপী, পিংক বিচ। ছবি : সংগৃহীত
পিংক বিচ হল টাঙ্গসি বিচের ডাক নাম। এটির গোলাপী বালির জন্য পিংক বিচ বলে ডাকা হয়।
তেতেবাতু গ্রাম : এই অঞ্চলের অন্যান্য গ্রামের মতোই এই গ্রামটিও যথেষ্ট সমৃদ্ধ।
সেকোটাং দ্বীপপুঞ্জ : এই জায়গাটি অনায়াসে তার স্বকীয়তায় মুগ্ধ করে ভ্রমনকারীদের। সাদা বালুময় সৈকত, প্রবাল শৈবালে ভরপুর এই স্থানটি যেন স্বর্গসুখ অনুভূতি দেয়।
নর্মদা ওয়াটার পার্ক :
আগতদের জন্য বেশ চমৎকারভাবে সাজানো নর্মদা ওয়াটার পার্ক। ছবি : দিউ স্রি গেস্ট হাউজ
এই পার্কটি জলের প্রাসাদ নামে পরিচিত। পার্কটি ১৭২৭ সালে রাজা আনাক আগুং গেদে এনগুরা করং আসেমের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় এবং যারা হিন্দু ধর্ম অনুসরণ করেন তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
থাকা এবং খাওয়া : যেহেতু ইন্দোনেশিয়ার এই জায়গাগুলো পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তাই থাকা এবং খাওয়ার সকল-সুবিধা রয়েছে ভ্রমনপ্রেমীদের জন্য। লম্বক দ্বীপের আশেপাশেই পাওয়া যায় হোটেল এবং রেস্তোরাঁ। পর্যটকেরা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী খুব সহজেই সেবা গ্রহণ করতে পারেন। আর যেহেতু লম্বক ভ্রমণে গিয়েছেন তাই সেখানে স্থানীয় খাবারগুলোর স্বাদ নিতে না করলে পুরো ভ্রমনটিই বৃথা। নসি বালাপ পিউং, আরেস, আইয়াম তালিবাংসহ আরও রয়েছে অনেক সু-স্বাদু খাবার। আর সি ফুড তো রয়েছেই।
যেভাবে যাবেন: ইন্দোনেশিয়ার লম্বক ভ্রমন করতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে যেতে হবে ইন্দোনেশিয়ায়। আর ইন্দোনেশিয়া ভ্রমনে বাংলাদেশ থেকে ভিসার প্রয়োজন হয় না। ৩০ দিনের জন্য এক্সেমশন ভিসা দেয়া হয়। লম্বক অনেক রুটেই যাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে আকাশপথে লম্বক যেতে কয়েক ঘন্টা সময় লাগে। তাই জাকার্তার বদলে ঢাকা-সিঙ্গাপুর হয়ে লম্বক যাওয়া হবে সময়সাশ্রয়ী। ঢাকা-লম্বক পথে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসেই রয়েছে সরাসরি ফ্লাইট।
তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া, প্রথমআলো