জমিদার রায়বাহাদুর খননকৃত উপেন্দ্র সরোবর দিঘি : টাঙ্গাইল
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : উপেন্দ্র সরোবর দিঘি, যার অপর নাম বারো ঘাটলা দিঘি

মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা এই দিঘিটি যেমন ইতিহাসের স্মৃতি মাখা তেমনি স্নিগ্ধ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। টাঙ্গাইলের নাগরপুরে উপেন্দ্র সরোবর দিঘি অবস্থিত। প্রাচীন স্থাপত্য এর চমৎকার একটি জায়গা হল এই নাগরপুর উপজেলা। জমিদার বাড়িসহ নানান স্থাপত্য কীর্তি দেখতে এখানে তাই ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। ইতিহাস-ঐতিহ্যের এই জায়গাটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করেছে এই ঐতিহাসিক দিঘিটি। জমিদারদের অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন কাঠুরি শিব মন্দিরের পাশে এই দিঘিটি অবস্থিত। মনোরম সৌন্দর্যের এই দিঘিটি অনেক সংখ্যক পর্যটক আকর্ষণ করে থাকে।
ইতিহাস
১৩৬৮ সালে জমিদার রায় বাহাদুর এই সুদৃশ্য দিঘিটি খনন করেন। প্রায় ১১ একর জায়গার এই দিঘিটি সৌন্দর্যের দিক থেকেও দারুণ সমৃদ্ধ। এই দিঘির চারদিকে আছে সুপ্রশস্ত ১২টি ঘাটলা। আর এই জন্য স্থানীয়রা এটিকে বারো ঘাটলা দিঘি নামে ডাকে। এছাড়া দিঘিটির পানি যাতে স্বচ্ছ থাকে সেজন্য এখানে ছয়টি গভীর কুয়া খনন করা হয়েছিল। দিঘির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে চারপাশে লাগানো হয়েছিল অনেকগুলো খেজুর গাছ। এই দিঘি খননের ঘটনাটি এভাবে কথিত আছে, জমিদার রায়বাহাদুরের এক চাঁদনী রাতে তার সঙ্গীদের নিয়ে বৈঠকখানায় বসে মনের আনন্দে জ্যোৎস্না উপভোগ করছিলেন। এমন সময় চাঁদের আলোয় তার চোখে পড়ে অদূরেই এক মহিলা কলসি ভরে জল নিয়ে যাচ্ছে এতো রাতে।এই দৃশ্য দেখে তিনি বিষয়টির খোঁজ খবর নেন এবং জানতে পারেন গ্রামে সুপেয় খাবার পানি খুব অভাব। যার ফলে প্রজাদের নানা ধরনের রোগ-বালাই লেগেই আছে। আর এই জন্যই এলাকার মহিলারা রাতে অনেক কষ্ট করে বিল থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে তা ফুটিয়ে পান করে। এই বিষয়টি জানার পর প্রজা দরদী রায় বাহাদুর মনে খুব কষ্ট অনুভব করে। প্রজাদের এই যাতনা লাঘবের জন্য তিনি পরের বছরই এই দিঘিটি খনন করিয়েছিলেন।
দীঘির সৌন্দর্য
এই দিঘিটির পশ্চিম পাড়ে রয়েছে চমৎকার একটি প্রবেশদ্বার। যার কারুকার্য দেখে আন্দাজ করা যায় সেসময় পাড়গুলো কতটা সুন্দর ছিল। দিঘিটি সবুজে ঘেরা পরিবেশের জন্য অনেক বেশি মনোমুগ্ধকর। চারপাশের পাকা ঘাটলাগুলো সেই সৌন্দর্যে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। ঘাটলাগুলোতে বসে দিঘির চারপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এই দিঘিটিতে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার ভ্রমণ পিপাসুরা বেড়াতে আসেন। প্রতিদিনই দিঘির পাড়ে দর্শনার্থীরা এসে প্রাকৃতিক নৈসর্গে স্বস্তির সময় কাটিয়ে যান। এছাড়া অনেকেই এখানে আসেন মৎস্য শিকার করতে। এছাড়াও বিভিন্ন উৎসবে ভ্রমনপিপাসুরা এখানে বনভোজনে আসেন।যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাস রয়েছে। তার মধ্যে আছে নিরালা পরিবহন, ধলেশ্বরী সিটিং সার্ভিস, আল-রাফি পরিবহন, সকাল-সন্ধ্যা, সোনিয়া পরিবহন ইত্যাদি। টাঙ্গাইল শহর থেকে সিএনজি যোগে নাগরপুরে এসে উপেন্দ্র সরোবরে যেতে পারবেন। সিএনজিতে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা।যেখানে থাকবেন :
টাঙ্গাইলে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পলাশ হাউজ/ নাইট গন্ধা রেসিডেনসিয়াল হোটেল; আল ফয়সাল হোটেল রেসিডেনসিয়াল; মসজিদ রোড, টাঙ্গাইল, হোটেল সাগর রেসিডেনসিয়াল, আফরিন হোটেল; টাঙ্গাইল, এস এস রেস্ট হাউজ; আকুরাটাকুর পাড়া, টাঙ্গাইল, পল্লী বিদ্যুৎ রেস্ট হাউজ, এলজিইডি রেস্ট হাউজ (সরকারি), সুগন্ধা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট; পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, টাঙ্গাইল, নিরালা হোটেল; নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল, পিয়াসি হোটেল; নিরালা মোড়, টাঙ্গাইল।রুবাইদা আক্তার এস এম