ঐতিহাসিক তিন বিঘা করিডোর এখন সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঘুরে আসুন ছিটমহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী স্থানটি থেকে

প্যাসেজ ডোর ভারতের মালিকানাধীন তিন বিঘা জায়গা জুড়ে অবস্থিত একটি স্বতন্ত্র ভূমি। ছবি : দহগ্রাম ডট ও আর জি

বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত ভারতের সবচেয়ে বড় ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা। কিন্তু এই ছিটমহলের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল দুর্বল। ছিটমহলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা ভেবে বাংলাদেশকে কিছু জমি ইজারা দেয় ভারত। ইজারা দেয়া এই জমির পরিমাপ তিন বিঘা হওয়ায় এর নাম হয়েছে 'তিন বিঘা করিডোর'। বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে এই তিন বিঘা করিডোর অবস্থিত। পাকিস্তান আমলে ছিটমহলের সাথে যোগাযোগের জন্য 'প্যাসেজ ডোর' রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়। এই 'প্যাসেজ ডোর' বর্তমানের তিন বিঘা করিডোর। তিন বিঘা করিডোরের চুক্তি শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। ইন্দিরা গান্ধী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী ভারতের তিন বিঘা করিডোর ও বাংলাদেশের দক্ষিণ বেরুবাড়ি স্থানান্তর করার কথা থাকলেও ভারত নিজের চুক্তি থেকে দূরে সরে যায়। যার ফলে তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশের কাছে অধরাই রয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে ভারত বাংলাদেশকে তিন বিঘা আয়তনের এই জমি ইজারা দেয়। প্রথম দিকে সারাদিনে এক ঘণ্টা পরপর এই করিডোর খোলা হতো। কিন্তু এতে যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় ২০০১ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত মোট বারো ঘণ্টা করিডোর খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

tin-bigha-corridor-dahagram-lalmonirhat লালমনিরহাটের সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান তিন বিঘা করিডোর।  ছবি : ভ্রমণ গাইড

এরপর ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন বিঘা করিডোরকে দিন-রাত উন্মুক্ত থাকার ঘোষণা দেন। তিন বিঘা করিডোরের দৈর্ঘ্য ১৭৮ মিটার এবং প্রস্থ ৮৫ মিটার। একসময় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় কোন হাসপাতাল, স্কুল ছিল না। কিন্তু এই তিন বিঘা করিডোরের মাধ্যমে ছিটমহলের মানুষের সাথে শুধু যোগাযোগই নয়, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়াও সম্ভব হয়েছে। এছাড়া তিন বিঘা করিডোর লালমনিরহাটের সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থানেও পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছুটে আসেন এই তিন বিঘা করিডোর দেখতে।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে বেশ কিছু এসি ও নন-এসি বাস যাতায়াত করে। কর্ণফুলী পরিবহন, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, এস আর ট্রাভেলসের বাসে সরাসরি ঢাকা থেকে লালমনিরহাটে যেতে পারবেন। ট্রেনে করে ঢাকা থেকে লালমনিরহাট আসার জন্য  লালমনি এক্সপ্রেসে সরাসরি আসতে পারবেন। এরপর লালমনিরহাট সদর থেকে বাসে কিংবা ট্রেনে উঠতে হবে। বাসে ও ট্রেনে করে পাটগ্রাম উপজেলা পাড়ি দিয়ে তিন বিঘা করিডোরে যেতে হয়।

যেখানে থাকবেন : লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সরকারি আবাসন উপজেলা পরিষদের রেস্ট হাউজ ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে অনুমতি নিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া বেসরকারি হোটেল যেমন : মোটেল প্যারাডাইস, হোটেল রাজ আবাসিক এবং সাম-টাইমস রেস্ট হাউজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পাটগ্রামে থাকতে না চাইলে লালমনিরহাট সদরের বিভিন্ন হোটেলে থাকতে পারেন। এসব হোটেলের মধ্যে নর্থ বেঙ্গল রেস্ট হাউজ, দোয়েল গেস্ট হাউজ অন্যতম।

খাবার : পাটগ্রামে বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে। যেমন : চাঁদনী হোটেল ও রেস্তোরা, নিউ হিমু হোটেল ও রেস্তোরাঁ, তানভীর হোটেল ও রেস্টুরেন্ট।  


তথ্যসূত্র : http://www.lalmonirhat.gov.bd/site/tourist_spot/1fa986b9-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%98%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A7%8B%E0%A6%B0%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A6%E0%A6%B9%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%B2 http://www.rangpurdiv.gov.bd/site/tourist_spot/d67d3b64-4031-421b-b2db-067b9f4fec80/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%98%E0%A6%BE%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A7%8B%E0%A6%B0%20%E0%A6%93%20%E0%A6%A6%E0%A6%B9%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BE%20%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%B2 https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%98%E0%A6%BE_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A7%8B%E0%A6%Bে